বহরমপুরে আলকাপ ও রূপবান লোকশিল্পীদের নিয়ে কর্মশালা ।

মধ্যবঙ্গ নিউজ ডেস্কঃ বুধবার বহরমপুর রবীন্দ্রসদনে শুরু হল লোকশিল্পীদের নিয়ে কর্মশালা। প্রথমদিনে জেলার বিভিন্ন প্রান্তের আলকাপ শিল্পীরা এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছিলেন। জেলা তথ্য সংস্কৃতি দপ্তরের উদ্যোগে, লোকসংস্কৃতি ও আদিবাসী সংস্কৃতি কেন্দ্রের আয়োজনে বহরমপুরের লোকশিল্পীদের এই কর্মশালায় জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শিল্পীরা এসেছিলেন। এদিন রবীন্দ্র সদনে উপস্থিত জেলা তথ্য সংস্কৃতি আধিকারিক সহ বিশিষ্টজনেরা। সাথে ছিলেন অতিরিক্ত জেলা শাসক উন্নয়ন নির্মাল্য ঘরামীও।

১৩ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়ে ১৫ পর্যন্ত চলবে এই কর্মশালা। এর মাধ্যমে জেলার লোকশিল্পীরা উপকৃত হবেন বলেই মনে করছে তথ্য সংস্কৃতি দপ্তর। এবং এইদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অনেক খ্যাতনামা আলকাপ শিল্পীরাও। তারই মধ্যে ছিলেন প্রবীণ আলকাপ শিল্পী মহম্মদ আব্দুল হাসিব।

দশ বছর বয়স থেকেই গানবাজনার সাথে পথ চলা। বাড়িতেও ছিল গান বাজনার পরিবেশ। স্কুলের বা ধারাবাহিক পড়াশোনাই মন ছিলনা কখনই। তাই পড়াশোনা ছেড়ে সম্পূর্ণ সময় আলকাপ চর্চার পেছনেই। ছোট বেলায় সাজতেন বেহুলা এবং বেহুলা সুন্দরীর গান শোনাতেন গ্রামে গ্রামে। সেখান থেকেই পারি জমান আলকাপের মঞ্চে।

সেই কবে গেয়েছেন বেহুলা সুন্দরীর গান! স্মরণে থেকে গেছে আজও। বয়সের ভারে ঝুঁকেছেন, তবে কণ্ঠ এখনও হয়নি রুদ্ধ। লালন পুরস্কার প্রাপ্ত আলকাপ শিল্পী মহম্মদ আব্দুল হাসিব গাইলেন বহরমপুর রবীন্দ্রসদনের মঞ্চে। কখনও একবেলা খেয়েছেন তো কোনোদিন কিছুই পরেনি পেটে। তারপরেও রোজ নিয়ম করে গান বাজনা করে যেতেন মহম্মদ আব্দুল হাসিব।

যদিও পেশায় মহম্মদ আব্দুল হাসিব ছিলেন টেলার। কিন্তু বয়সের কারণে ছারতে হয় সেই কাজও। কিন্তু এখনও তাঁর কণ্ঠে শোনা যায় নানা ধারার আলকাপ। এবং এইভাবেই বাঁচিয়ে রেখেছেন আলকাপ নামের এই শিল্পকে। বছরের পর বছর তিনি শিখিয়ে চলেছেন আলকাপের বিভিন্ন গান। এই বছরের ২৬শে মে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের লালন পুরস্কার পান মহম্মদ আব্দুল হাসিব।