একটা রুটিতেই পেট ভর্তি, শীত পড়লেই কলাইয়ের রুটির চাহিদা তুঙ্গে

মেহেদি হাসান, সুতিঃ “ভোর রাতে হার বাপ হাল জুড়েছে। ভোর রাতে উঠে মা রুটি পাকালচ্ছে। কালাইয়ের রুটির সাথে বেগুনের সানা আছে।” মনে পরে সেই গান? গান ভুলে গেলেও কিন্তু এখনও মুর্শিদাবাদের সুতি থানার অন্তর্গত সাজুর মোড়ে জাতীয় সড়কের ওপর দেদার পাওয়া যাচ্ছে গ্রাম বাংলার এই জনপ্রিয় খাবার। কলাই রুটি এবং বেগুনের সানা বা যেটি বেগুন সেদ্ধ নামেও পরিচিত।

সাধারণ গমের আটার চেয়ে একদম ভিন্ন। তৈরি করার পদ্ধতিও আবার আলাদা। অনেক সময় হাতে আটার দলা নিয়ে চাপড়ে রুটি গোল করা হয়। তো কোথাও আবার রুটি বেলার পিড়িতে রেখে বেলনা দিয়ে করা হয় গোল। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কাঁচা রুটি সেঁকা হয় কাঠের উনুনের ওপর রাখা মাটির পাত্রতে। ঠিক এইভাবেই তৈরি করা হয় সুস্বাদু, মুচমুচে কলাইয়ের রুটি। মূলত শীতের মরশুমে গ্রামীণ মুর্শিদাবাদের বেশ কিছু এলাকায় এই কলাইয়ের রুটি তৈরি হতে দেখা যায়। সেই ছবিই উঠে এল সুতি থেকে। সুতির বাসিন্দা বছর ৫০-এর জাকির হোসেন দীর্ঘ ২০ বছর ধরে এই ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। রোজ সকাল ৭টার সময় এসে দোকান খোলেন এবং থাকেন বেলা ১২টা পর্যন্ত। ১২ কেজি ময়দা শেষ হয়ে যায় চোখের নিমিষে। দোকানের ঠিকানা সুতির সাজুর মোড়ে। জাতীয় সড়ক গায়ে লাগা তাঁর ছোট্ট একটি দোকান।

এছাড়াও আর কী কী উপাদান লাগে এই রুটি তৈরি করতে জানালেন জাকির নিজেই, ‘যব, ভুট্টা এইসবই কমবেশি একসঙ্গে পিষিয়ে নিয়ে আসি। এবং এই পেষানো আটা দিয়েই তৈরি করি কলাইয়ের রুটি। দিনে প্রায় ১৫ কেজি আটা নিয়ে আসি। এবং প্রতিদিনই শেষ হয়ে যায় সমস্ত আটা। সারা বছর বিক্রি করিনা। একমাত্র এই শীতের মরশুমে আমি এই ব্যবসা করি।’

সাধারণ গমের আটার রুটির থেকে এই রুটি অনেক মোটা। কারণ এই রুটি তৈরি করতে ব্যবহার হয় চাল এবং মাষকলাই। এবং এই দুটির সংমিশ্রণে তৈরি হওয়া ময়দা থেকে বানানো হয় কলাই রুটি। এই রুটিতে যে পরিমাণ মিনারেল থাকে তা শরীরের জন্য খুবই উপকারী। তাই একটি বা দুটি খেলেই পেট ভরে যায়।
সেঁকে দেওয়া রুটির সঙ্গে ধনেপাতার চাটনি, বেগুন পোড়া, আলু মাখা, সর্ষে বাটা সঙ্গে কেও কেও আবার একটি লঙ্কাও নিয়ে থাকেন, সাধারণত এইভাবেই এই রুটি খাওয়ার চল রয়েছে। বহু মানুষ এখন এই রুটি খাচ্ছেন। কারণ খেতে যেমন সুস্বাদু, তেমন উপকারীও। কারণ উনুনে সেঁকে তৈরি করা হয়। শীতকালে আরও মুখরোচক খাদ্য হয়ে ওঠে বলে জানান এই কলাইয়ের রুটি খেতে আসা এক স্থানীয়।

স্থানীয় আফজুল সেখ জানান, ‘আমি এই শীত পড়লেই প্রতিদিন আসি এই রুটি আর বেগুনের সানা খেতে। যদিও আরও অন্যান্য সবজিও রয়েছে যেমন, আলুর সবজি, সর্ষে, ধনে পাতার চাটনি।’
বাজারে দেশি বিদেশি হরেক রকম আধুনিক খাবারের মধ্যেও। পিছিয়ে নেই গ্রাম বাংলার এই ঐতিহ্যবাহী খাবার। মাত্র ১০ টাকা পিস হিসেবে বিক্রি এই রুটি, তার সঙ্গে অফুরন্ত সবজি। এইভাবেই প্রতি শীতে মানুষের মন ও পেট ভরাচ্ছেন জাকির হোসেন।