কেন যাবজ্জীবন নয় ? কেন দৃষ্টান্তমূলক ফাঁসির সাজা সুশান্তর ?

ঋত্বিক দেবনাথ, মধ্যবঙ্গ নিউজঃ  আমাদের দেশে ফাঁসির সাজা বিরল। ফাঁসি নিয়ম নয়, ব্যতিক্রম । তবে বৃহস্পতিবার বিকেলে কেন সেই ফাঁসির সাজাই শোনা গেল বহরমপুরে আদালতে। । ২০২২ সালের ২রা মে বহরমপুরের গোরাবাজারে খুন হন কলেজ ছাত্রী সুতপা চৌধুরী। রাতেই সুতপার প্রাক্তন প্রেমিক সুশান্ত চৌধুরীকে গ্রেফতার করে পুলিশ।  খুনের পর দিন থেকেই  থেকেই জোরদার হয়েছে সুশান্তর কঠোর শাস্তির দাবি।

মঙ্গলবার অবশেষে  আদালত দোষী সাব্যস্ত করে সুশান্তকে। বৃহস্পতিবার সুশান্তর  ফাঁসির সাজা শোনালেন বহরমপুরের ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টের অতিরিক্ত ও জেলা দায়রা বিচারক সন্তোষ কুমার পাঠক।  এদিন রায় শুনে এজলাসেই কার্যত মুর্ছা যায় সুশান্ত। কিন্তু কেন ফাঁসির সাজা ? উঠছে সেই প্রশ্নও।

এই রকম হত্যায় সাধারণত শোনা যায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের কথা । কিন্তু সবদিক থেকেই এই মামলা ছিল ব্যতিক্রমী। পুলিশের তদন্তেই উঠে আসে, সুতপাকে খুনের পরিকল্পনা করেই বহরমপুরে মেস ভাড়া নিয়েছিল সুশান্ত। মৃত্যুর নিশ্চিত করে নৃশংস ভাবে কোপানো হয় সুতপাকে।

কিন্তু কেন ফাঁসির সাজা ? কেন এই ঘটনা বিরলতম তা এদিন আদালত চত্বরেই জানান  সরকার পক্ষের আইনজীবী বিভাস চট্টোপাধ্যায়।  তিনি  বলেন, “আধুনিক সমাজে এক জন মহিলা যদি মনে করেন সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসবেন, তবে সেটি করার অধিকার তাঁর আছে। সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে গেলে প্রেমিকাকে খুন করার অধিকার জন্মায় না। প্রেমিকার সঙ্গে সম্পর্ক থাকল না বলে অন্য কারও সঙ্গে তাঁকে থাকতে দেব না, এটা সত্যিই বিরলের মধ্যে বিরলতম ঘটনা।” তিনি জানান, আদালতের কাছে মৃত্যুদণ্ডই প্রার্থন করেছিলেন তিনি  । বিভাস চট্টোপাধ্যায় আরও জানিয়েছেন,  “ কোপাতে গিয়ে সুশান্তের নিজের হাত কেটে যায়, তারপরেও থামেননি। একটি অনলাইন প্লাটফর্ম থেকে খেলনা বন্দুক  কেনেন এবং যারা মেয়েটিকে বাঁচাতে গিয়েছিল, তাঁদেরকেও ভয় দেখানো হয়। সুতপার মৃত্যুকে নিশ্চিত করার জন্য ওই খেলনা বন্দুক নিয়ে ঘটনাস্থলে যান সুশান্ত। সমস্ত কিছু বিবেচনা করে আমাদের মনে হয়েছে এটা বিরলতম ঘটনা।”

যদিও এদিন বিচারকের রায়ের পর সুশান্তের আইনজীবী পীযূষ ঘোষ জানিয়েছেন, সুশান্তর  ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের প্রার্থনা করা হয়েছিল ।আইনজীবিরা জানিয়েছেন, লঘু সাজা পেলে সমাজে বার্তা যেত যে এরকম অপরাধ করাই যায়। আইনজীবিদের আরও দাবি, সংশোধনের কোন মানসিকতায় সুশান্তর মধ্যে নেই। তাই সংশোধনের সুযোগও নেই। সব দিক বিচার করেই মৃত্যুদন্ড দিয়েছে আদালত।