পরীক্ষার মরশুমে বেআক্কেল কোলাহলের দায় কার? প্রশ্ন এলাকাবাসীর

বিদ্যুৎ মৈত্র, বহরমপুরঃ স্কুলে স্কুলে ফাইনাল পরীক্ষা চলছে পঞ্চম থেকে নবম শ্রেণির। কোনও কোনও স্কুলে এখনও চলছে মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিকের টেস্ট। পরীক্ষার শেষ মুহুর্তে প্রস্তুতিতে সন্ধ্যা হলেই বইয়ের পাতায় মুখ গুঁজছে পড়ুয়ারা। এমন সময় কানে ভেসে আসছে বুক কাঁপানো সাউন্ড সিস্টেমের আওয়াজ। কপাট আটকেও রেহাই মিলছে না শব্দাসুরের হাত থেকে। এত কোলাহল কিসের?

মুর্শিদাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠে রবিবার থেকে শুরু হয়েছে “কোলাহল কার্নিভাল-২০২৩”। চলবে দিন তিনেক। সেই উপলক্ষেই সেখানে নিত্য সন্ধ্যায় বসছে জলসা। সেই জলসা থেকে ভেসে আসছে উচ্চস্বরের ‘কোলাহল’। এই জলসা উপলক্ষে মাঠ সেজেছে খাবার-দাবারের স্টলে, বসেছে শাড়ি জামাকাপড়ের দোকান। এককথায় কৃষ্ণনাথ কলেজের মাঠে বসেছে মেলা। মানুষজনও আসছেন জলসা শুনতে। ঘুরে ফিরে কেনাকাটিও করছেন। সবটা নিয়ে লাগামছাড়া মোহনমোড়ের কোলাহল। সেই সময় ওই মাঠ সংলগ্ন আবাসনের অধিকাংশ ঘরে চলছে পড়ুয়াদের পরীক্ষা প্রস্তুতি। কোলাহলে লাটে উঠেছে পড়াশোনা।

শুধু কী তাই? শব্দের দৌরাত্মে অতিষ্ঠ হয়েছেন বহরমপুরের মোহন মল লাগোয়া আবাসনের বয়স্ক মানুষরাও। তাদেরই একজন বাসিন্দা প্রশাসনের দিকে আঙুল তুলে বলেন, “পরীক্ষার মরশুমে এমন বেআক্কেলে কোলাহলের অনুমতি মিলল কীভাবে?” উদ্যোক্তা অর্ণব কুন্ডু  বলেন, “ অনুমতির জন্য যেখানে যেখানে প্রয়োজন আমরা সেই সব জায়গা থেকেই অনুমতি পেয়েছি। মানুষ এই কার্নিভাল উপভোগ করছেন।  আমরা কোনও অভিযোগ পাইনি।” কৃষ্ণনাথ কলেজের অধ্যক্ষ সুজাতা বাগচী বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “ বেশ কয়েকমাস আগে আয়োজকদের পক্ষ থেকে মাঠের অনুমতি চাওয়া হয়েছিল। তখন দিয়েছিলাম। তবে যে কোনও অনুষ্ঠানে নিয়ন্ত্রণহীন শব্দ প্রক্ষেপণ উচিত নয়।” বহরমপুর সদর মহকুমাশাসক শুভঙ্কর রায় বলেন, “যে সমস্ত মানদন্ড থাকলে কোনও অনুষ্ঠানের অনুমতি দেওয়া হয় সেগুলি দেখেই এখানে অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নিয়ম বহির্ভুত কিছু ঘটলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নেওয়া হবে। আমরা অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি।”