রেলের চাকা গড়াবে কবে কৃষ্ণনগর- নবদ্বীপে? উত্তর নেই রাজনীতির কুশীলবদের কাছে

বিজন মুখোপাধ্যায়, নদিয়াঃ মাঝখানে কেটে গিয়েছে ১৩টি বছর। শান্তিপুর থেকে কৃষ্ণনগর হয়ে নবদ্বীপ ঘাট পর্যন্ত ২৭ কিলোমিটার রেলপথ থমকে আছে শিলান্যাসেই। যদিও আশার ক্ষীণ আলো দেখাতে ভুলছেন না রেল কর্তারা। সেই আশাতেই ফের বুক বাঁধছেন নদিয়াবাসী।

২০১০ সালের ৭ জানুয়ারি, শান্তিপুর থেকে কৃষ্ণনগর হয়ে নবদ্বীপ ঘাট পর্যন্ত ন্যারোগেজ লাইনকে ব্রডগেজে পরিবর্তন করার প্রকল্পের শিলান্যাস করেন তৎকালীন রেলমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বন্ধ হয়ে যায় বহু ঘটনার সাক্ষী ন্যারোগেজ লাইন। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, “ওটা থাকলেও আমাদের সুবিধা হতো। ব্রডগেজ লাইন হলে আমাদের যাতায়াতের যেমন সময় কমবে, অনেক বেশি মানুষ তেমনি যাতায়াতও করতে পারবে। এসব ভেবেই সেদিন ন্যারোগেজ লাইন বন্ধে আপত্তি করিনি।” রেল সূত্রে জানা যায়, অর্থ বরাদ্দও হয়েছিল রেল বাজেটে। শান্তিপুর থেকে কৃষ্ণনগর পর্যন্ত ব্রডগেজের কাজ শেষ করে কৃষ্ণনগর থেকে নবদ্বীপ ঘাট পর্যন্ত কাজ কাজও শুরু হয়েছিল। জমিদাতাদের আপত্তিতে সামান্য কয়েক কিলোমিটার রাস্তা বাকি থেকে যাওয়ায় সেই কাজ আর শুরু হয়নি। ফকিরতলার কাছে নানা কারণে জমি দিতে আপত্তি করেন জমি মালিকরা। তখন থেকেই আমঘাটা পর্যন্ত রেললাইন তৈরি হয়ে প্রকল্প থমকে যায়। মাঝখানে ১০৬ কোটি টাকা খরচ করে ভাগীরথীর উপর একটি রেলসেতুও তৈরি হয়ে যায়। আগের সিদ্ধান্ত বদলে ফেলে আলোচনা হয় তেওরখালি থেকে রেললাইন গ্রামের ভিতর দিয়ে গিয়ে সেতুতে উঠবে এবং নদী পেরিয়ে নবদ্বীপ ঘাট স্টেশনে পৌঁছবে। ২০১৬ সালে সেইমতো জমি অধিগ্রহণের বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। কিন্তু সমীক্ষা শুরু হতেই ফের বেঁকে বসেন জমির মালিকরা।  আবার বন্ধ হয়ে যায় রেল লাইন তৈরির কাজ।

ওই রেল লাইনের পাশে দীর্ঘদিনের ধরে বসবাস করেন সন্তোষ দাস। এদিন তিনি বলেন, “যখনই ভোট আসে তখনই শুনতে পাই এবার এই লাইন দিয়ে গড়াবে রেলের চাকা। কিন্তু চাকা আর গড়ায় না।” আর এক বাসিন্দা সোমনাথ সাহা উদাহরণ টানেন মুর্শিদাবাদের নশিপুর রেলপথের। তাঁর আক্ষেপ, “জমিজট কাটিয়ে ওদিককার মানুষ রেল লাইন তৈরিতে সম্মত্তি দিয়ে দিল প্রশাসন ও নেতাদের হস্তক্ষেপে, এদিকে সেই উদ্যোগ কেউ নিল না”

তবে ধুলো ঝেড়ে ফের শুরু হয়েছে তদ্বির তদারকি। রেললাইনের দু’পাশ দখলমুক্ত করা হয়েছে। আটটি মৌজার ২৬৪.০৬৬ একর জমি অধিগ্রহণ করা হবে বলে ১৫ সেপ্টেম্বর ফের বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। রানাঘাটের বিজেপি সাংসদ জগন্নাথ সরকারের দাবি, “তৃণমূলই জমি অধিগ্রহণে বাধা দিয়েছে। আসলে জমি বিক্রির সময়ে টাকা তোলার জন্যই ওরা এই জটিলতা তৈরি করে রেখেছে। মানুষে জমি না দেওয়ার জন্য ভুল বুঝিয়েছে। আমার চেষ্টা‍য় এই লাইন তৈরির কাজ ফের শুরু হতে যাচ্ছে।” জেলা পরিষদের প্রাক্তন সভাধিপতি তথা জেলা তৃণমূলের মুখপাত্র বাণীকুমার রায় কাজ বন্ধের জন্য বিজেপিকেই দোষারপ করছেন। বলছেন, “জেলা পরিষদের সভাধিপতি হিসেবে তৎকালীন জেলাশাসককে নিয়ে জমি মালিকদের নিয়ে আলোচনায় বসেছিলাম। কিন্ত এই লাইন তৈরির কৃতিত্ব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পেয়ে যাবেন, সেই ভয়ে বিজেপি প্রবল বিরোধিতা করে। তৃণমূল সরকার চাইছে বলেই আজ নতুন করে জমি অধিগ্রহণের কাজ শুরু হয়েছে।” সিপিএমও কৃতিত্বের দাবি থেকে পিছিয়ে নেই। দলের জেলা সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য সুমিত বিশ্বাস বলেন,“ ব্রড গেজের দাবিতে আমরা স্বরুপগঞ্জ থেকে জেলা প্রশাসনিক ভবন পর্যন্ত মিছিল করেছিলাম। আমাদের যুব সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রথম রেল কতৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়েছিল। তৃণমূল ও বিজেপি যার যখন মনে হয়েছে যে রেল লাইনটা তৈরি হলে ভোটের অঙ্কে তাদের ক্ষতি হবে তারাই তখন বিরোধীতা করেছে।”