বিড়ি শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি চেয়ে রাস্তা অবরোধের ডাক শ্রমিক সংগঠনগুলির

রাহুল শেখ, সামসেরগঞ্জঃ  বছর দুয়েক আগে বেড়েছিল মজুরি। তারপর নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের লাগামছাড়া মূল্য বৃদ্ধি হয়েছে। তাই হকের মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহতেই জাতীয় সড়ক অবরোধের ডাক দিল বাম , কংগ্রেসের  বিড়ি শ্রমিকদের ইউনিয়ানগুলি। বিড়ি শিল্পে যুক্ত সংগ্রাম কমিটির পক্ষ থেকে ৩ ডিসেম্বর  সাজুর মোড় এবং ওমরপুর মোড়ে  সমাবেশ করে রাস্তা অবরোধ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

মুর্শিদাবাদ বিড়ি মজদুর এন্ড প্যাকার্স ইউনিয়নের জেলা সম্পাদক জ্যোতিরুপ ব্যানার্জী বলছেন,  “ হাজার বিড়ি পিছু  ২৬৮ টাকা মজুরি চাই শ্রমিকদের। এই দাবিতে আমরা অনড়”। সমস্ত  বিড়ি শ্রমিককে সামাজিক সুরক্ষা এবং  প্রভিডেন্ড ফান্ডের আওতায় আনার দাবিও জানানো হয়েছে শ্রমিক সংগঠনগুলির পক্ষ থেকে।

নভেম্বরের শুরুতেই বিড়ি শ্রমিকদের জন্য সরকারি নির্ধারিত নূন্যতম মজুরি কার্যকর করার দাবিতে, সামসেরগঞ্জে পুরোনো  ডাকবাংলো মোড়ে হয় কনভেনশন। সেই কনভেনশনে বক্তব্য রাখেন সিপিএমের শ্রমিক সংগঠন সিটু, কংগ্রেসের শ্রমিক সংগঠন আইএনটিইউসি ছাড়াও আরএসপি, সিপিআই, ফরওয়ার্ড ব্লক, এসইউসিআই’এর শ্রমিক সংগঠনের নেতারা। সেখান থেকেই রাস্তা অবরোধের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছিল। কবে বাড়বে শ্রমিকদের মজুরি ? উত্তরের খোঁজে দিন গুণছেন বিড়ি শ্রমিকরা।

অরঙ্গাবাদে বিড়ি মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের কনফারেন্স হলে  ২০২১ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর শেষ বারের মতো হয়েছে শ্রমিক সংগঠন ও  মালিকদের সংগঠনের মধ্যে চুক্তি। সেই চুক্তি  অনুযায়ী হাজার বিড়ি বেঁধে  ১৭৮ টাকা মজুরি পাওয়ার কথা বিড়ি শ্রমিকদের। কিন্তু শ্রমিক সংগঠনগুলির দাবি,  এই মজুরি সব মালিক এখনও  কার্যকরই করছেন না।  শ্রমিক সংগঠনগুলির পক্ষ থেকে দাবি জানানো হয়েছে  রাজ্য সরকারের শেষ ঘোষিত নূন্যতম মজুরির তালিকা  অনুযায়ী ২৬৭ টাকা ৪৪ পয়সা মজুরি দিতে হবে। চলতি বছরই  ১৯ ফেব্রুয়ারি  সাগরদিঘিতে নির্বাচনী সভা করেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক  অভিষেক ব্যানার্জী। তিনি সেখানে বলেছিলেন , বিড়ি শ্রমিকদের মজুরি হবে ২৪০ টাকা। দেড় মাসের মধ্যে মজুরি বাড়বে বলে ঘোষণাও করেন তিনি।  আট মাস পার হয়ে গেলেও মজুরি বাড়েনি । তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক কেন তাহলে সেদিন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন  ? সেই প্রশ্নও তুলেছেন সিটুর নেতারা।

বাম কংগ্রেসের শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের অভিযোগ, তৃণমূলের জঙ্গিপুর সাংগঠনিক জেলার বিড়ি শ্রমিকদের বড় অংশই বিড়ি মালিক। তাই বিড়ি শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানো নিয়ে উদ্যোগী নয় সরকার। যদিও তৃণমূলের দাবি, আন্দোলন ছাড়াই বিড়ি শ্রমিকদের মজুরি বাড়িয়েছে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের সরকার। বিড়ি শ্রমিক অধ্যুষিত সামসেরগঞ্জ ব্লকের তৃণমূল ব্লক সভাপতি শহিদুল ইসলামের কটাক্ষ, ভোট হারিয়ে বিড়ি শ্রমিকদের ভুল বোঝাতে চাইছে বাম, কংগ্রেস নেতারা।