খরচে রাশ, মুখ্যমন্ত্রীর সভায় লোক টানতে ভরসা ট্রেন, টোটো

নিজস্ব সংবাদদাতা, বহরমপুরঃ এমনিতেই সরকারি সভা। তাও কোনও প্রেক্ষাগৃহে নয়। খোলা মাঠে। সেখানে তৃণমূলের কোন নেতা কত লোক সভায় নিয়ে যাবেন তা নিয়ে ফের  রেশারেশি শুরু হয়ে গিয়েছে দলের মধ্যে। এ নেতা  বলে আমাকে দেখ। অন্য নেতা বলে তাঁকে দেখতে। তার জেরে কাল মুখ্যমন্ত্রীর সভা ঘিরে জেলায় বাস সংকট দেখা দিতে পারে বলে অনেকেই মনে করছেন। একইসঙ্গে সকাল থেকেই বহরমপুরের দুদিকের ট্রেনেই ভিড় উপচে পড়ার আশঙ্কাও রয়েছে। স্বাভাবিক কারণেই সপ্তাহের কর্মব্যস্ত বুধবার স্কুল কলেজে অনুপস্থিতির হার বাড়বে বলেই মত শিক্ষা মহলের।

তবে জেলা সূত্রে পাওয়া খবরে লোক আনার তালিকায় শীর্ষে আছে বহরমপুর বিধানসভা। ওই বিধানসভার পক্ষে পুরসভার চেয়ারম্যান নাড়ুগোপাল মুখোপাধ্যায় বলেন, “শহর ও ব্লক মিলিয়ে প্রায় সতেরো হাজার লোক সভায় যাবেন।” আর তা আনার জন্য তৃণমূলকে ৩০টি বাস, একশো ট্রেকার, বারোশো ছোট গাড়ি ছাড়াও টোটোতেও ভরসা করতে হচ্ছে বলে জানান তিনি। এরপর  হরিহরপাড়া থেকে প্রায় সাত হাজার মানুষজন আসবেন সভায়। তবে বাস বা ছোট গাড়ির ভাড়া ও প্রয়োজনের তুলনায় বাস কম থাকায় অনেকেই বাইকে, টোটোয় আসবেন বলে জানান বিধায়ক। তিনি বহরমপুরে মমতার সভায় সমর্থক আনতে ৯০টি ট্রেকার, এক হাজার মোটরবাইক, ২৫টি বাসের ওপর ভরসা করছেন। ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর বলেন “ আমি হাজার চারেকের বেশি আমার বিধানসভা এলাকা থেকে দিতে পারছি না।” বাস, ছোট গাড়ি ছাড়াও ট্রেনে লোক আসবে প্রচুর দাবি তাঁর। এছাড়াও ‘দিদি’র সভায় লোক টানার দৌড়ে পিছিয়ে নেই বেলডাঙা, কান্দিও।

তাঁদের হিসেবে মুখ্যমন্ত্রীর সভায় প্রত্যেক বিধানসভা থেকে গড়ে চার হাজার করে লোক আনলে বহরমপুরে প্রায় ৮৮ হাজার মানুষের সমাগম হওয়ার কথা। তথ্য নিয়ে জানা গেল, বহরমপুর স্টেডিয়ামের দৈর্ঘ্য ১৯০ মিটার প্রস্থ ১৩০ মিটার। সেই মাঠের ঘেরা অঞ্চলে পঞ্চাশ থেকে পঞ্চান্ন হাজার লোক বসতে পারবেন। মুখ্যমন্ত্রীর সভার জন্য স্টেজ হয়েছে চৌকো। দু’দিকেই নম্বই মিটার করে। অর্থাৎ ৮ হাজার একশো স্কোয়ার মিটার।  আর সাধারণের বসার জন্য জায়গা হয়েছে দৈর্ঘে ৯০ মিটার আর প্রস্থে ৮০ মিটার। অর্থাৎ ৭ হাজার ২০০ স্কোয়ার মিটার। তার মানে ৭৭ হাজার ৪৭২ স্কোয়ার ফুট। একজন মানুষের জন্য পাঁচ স্কোয়ার ফুট বরাদ্দ হলে সর্বোচ্চ ১৬ হাজার লোক বসতে পারবে নির্দিষ্ট জায়গায়। স্বাভাবিক হিসেবে কাল স্টেডিয়ামের ঘেরা অঞ্চল ছাপিয়ে ভিড় হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তবে মুখ্যমন্ত্রীর সভায় খরচ কম করবার কথা বারবার বলা হয়েছে। সেই নির্দেশ যেমন জেলা প্রশাসনকে দেওয়া হয়েছে তেমনি দলকেও খরচ কম করতে বলা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর সভাস্থলের খরচ এক বছরে প্রায় পঞ্চাশ শতাংশ কমে গিয়েছে। ৬০ লক্ষ টাকা খরচ করে তৈরি হচ্ছে সভামঞ্চ। দলের নেতারা মুখে সে কথা পরিস্কার করে না বললেও পরিবহন খরচের আড়ালে দলনেত্রীর নির্দেশকে মান্যতা দিতে খরচে রাশ টানছেন তাঁরা। তৃণমূলের বহরমপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি অপূর্ব সরকার বলেন, “একদিকে মাত্রাতিরিক্ত পরিবহন খরচ, তারওপর অপ্রতুল যানবাহন। না হলে আরও লোক আনা সম্ভব হত দিদির সভায়।” জেলার বাইরে থেকেও বাস আনতে হচ্ছে বলে দাবি তাঁর।