ডেভিডকে পাশে বসিয়ে দলের মধ‍্যে ঐক‍্যের বার্তা তাহেরের

নিজস্ব সংবাদদাতা, বহরমপুরঃ ঠিক যেখানে এ বছরের বিজয়া সম্মেলনী শেষ করেছিলেন তৃণমূলের মুর্শিদাবাদ সাংগঠনিক জেলার সদ‍্য প্রাক্তন নেতৃবৃন্দ, সেখান থেকেই বৃহস্পতিবার নয়া যাত্রা শুরু করলেন ডেভিড। মাস ছয়েক আগে হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন মুর্শিদাবাদের সাংসদ আবু তাহের খান। চেয়ারম্যান হিসেবে ও সংগঠনের কোনও কাজে সে সময় তাঁকে পায়নি দল। কিন্তু পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে দলীয় কাজে গতি আনতে কান্দির বিধায়ক অপূর্ব সরকার ওরফে ডেভিডকে অস্থায়ী চেয়ারম্যান করেন স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পঞ্চায়েত নির্বাচন মিটে গিয়েছে। জেলা পরিষদের ক্ষমতাও ধরে রেখেছে দল। তবুও শান্তি ছিল না তৃণমূলের জেলা সংসারে। সামনেই লোকসভা নির্বাচন। এমন সময় দল অগোছালো থাকলে ভোটে তার প্রভাব পড়তে পারে। তাই মুর্শিদাবাদ বিধানসভার প্রাক্তন বিধায়ক শাওনী সিংহ রায়কে সভাপতি পদ থেকে সরিয়ে পোড় খাওয়া ডেভিডকেই ঘর সামলানোর দায়িত্ব তুলে দিয়েছেন মমতা ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, দাবি দলেরই অন্দরে।

ঘোষণার তিন দিন পর সভাপতি হিসেবে তৃণমূল জেলা কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে আসেন কান্দির বিধায়ক অপূর্ব সরকার। তাঁকে পুষ্প স্তবক ও মালা পড়িয়ে সংবর্ধিত করেন জেলার নেতা কর্মীরা। এদিন তাঁকে আগলে ছিলেন নওদার বিধায়ক সাহিনা মমতাজ বেগম, জলঙ্গির বিধায়ক আবদুর রাজ্জাকরা। ছিলেন ডোমকলের বিধায়ক জাফিকুল ইসলাম, রানীনগরের বিধায়ক সৌমিক হোসেন। বহরমপুর পুরসভার চেয়ারম্যান নাড়ুগোপাল মুখোপধ্যায়ও ছিলেন সেখানে। তবে ‘বিতর্কিত’ বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে এদিন দেখা যায়নি। তিনি বলেন, “ব্যাক্তিগত কাজে দিল্লিতে থাকায় এদিন কার্যালয়ে যেতে পারিনি”।

সভাপতির চেয়ারে বসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অপূর্ব বলেন, “ মান অভিমান ভুলে তৃণমূলের সর্বস্তরকে সম্মান জানিয়ে সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে বুথকে শক্তিশালী করতে আমাদের এগিয়ে আসতে হবে। আমরা নিশ্চিত এই জেলা থেকে লোকসভায় তিনটি আসন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে  উপহার দিতে পারব।” সভাপতির চেয়ারে পদে বসার আগে প্রাক্তন প্রয়াত জেলা সভাপতিদের ছবিতে মালা পরিয়ে এদিন শ্রদ্ধা জানান নয়া সভাপতি।

অপূর্বর সঙ্গেই এদিন জেলা কার্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন দলের নতুন চেয়ারম্যান রবিউল আলম চৌধুরী। ওই সভায় উপস্থিত ছিলেন দলের সদ‍্য প্রাক্তন চেয়ারম্যান আবু তাহের খান ও। উপস্থিত নেতা কর্মীদের সামনে এদিন তাহের বলেন, ” নতুন যাঁরা দলের দায়িত্ব নিয়েছেন তাঁদের সহযোগিতা করব।” তারপরেই তিনি কর্মীদের উদ্দেশ্যে হাতজোড় করে বলেন, ” আর বিভাজন নয়, ঐক‍্য চাই।” উপস্থিত নেতা কর্মীদের অনেকেই বলেন, সম্প্রতি একাধিক ইস‍্যুতে দলের নেতা কর্মীদের সঙ্গে জেলা নেতৃত্বের মধ‍্যে ভুল বোঝাবুঝি থেকে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। গোষ্ঠী কোন্দলের তকমা মোছা যায়নি। সেই ভুল বোঝাবুঝি যাতে আর না হয় তাই একথা বলেছেন মুর্শিদাবাদের সাংসদ। তাঁর আকুতি দলের নীচুতলায় কতটা পৌঁছবে তা সময়ের হাতেই ছেড়ে দিচ্ছে ওয়াকিবহাল মহল।