লড়াইয়ের অনুপ্রেরণা বেগম রোকেয়ার মূর্তি উন্মোচন বহরমপুরে

শুভরাজ সরকার, বহরমপুরঃ ‘‘সোনার পিঞ্জরে ধরে রেখো না আমায় / আমারে উড়িতে দাও দূর নীলিমায়।’’ লিখেছিলেন রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন । ১৮৮০ সালের ৯ ডিসেম্বর পূর্ব পাকিস্তানের (অধুনা বাংলাদেশ) পায়রাবন্দ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন তিনি। সমাজকর্মীরা মনে করেন, তিনি ছিলেন রাজা রামমোহন রায় ও পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যসাগরের উত্তরসূরি। প্রচলিত কুসংস্কার, অন্যায় অবিচার কোনদিন মেনে নিতে পারেননি তিনি । প্রতিবাদে সরব হয়েছেন। কাজ করেছেন মেয়েদের লেখাপড়ার আঙিনায় নিয়ে আসার জন্য। এবার বহরমপুর শহরে বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের আবক্ষ মূর্তি উন্মোচিত হল। রবিবার বহরমপুরের ধোপঘাটি লাগোয়া এলাকায় রোকেয়া নারী উন্নয়ন সমিতির কার্যালয়ে এই আবক্ষ মূর্তি উন্মোচন করা হয়।

রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের জীবন, কাজ নিয়ে হয় আলোচনা। এদিন উপস্থিত ছিলেন বহরমপুর গার্লস কলেজের অধ্যক্ষ হেনা সিনহা, বিশিষ্ট চিকিৎসক ডাঃ এ হাসান। উপস্থিত ছিলেন জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা লড়াকু নারীরাও। যারা জীবন সংগ্রামে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন রোকেয়া বেগমের বার্তা।

রোকেয়া নারী উন্নয়ন সমিতির জেলা সম্পাদক খাদিজা বানু জানান, দীর্ঘদিন ধরে তালাকপ্রাপ্ত, অবহেলিত মহিলাদের নিয়ে কাজ করছে সমিতি। এই লড়াইয়ে অন্যতম অনুপ্রেরণা বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন । এদিন প্রকাশিত হয় সমিতির মুখপত্র ‘মুক্তি’ পত্রিকা।

“ আপনি জানতেন অবরোধ হয়/ মেয়েদের জন্য অবরোধ নয়/ অবরোধ খোলা, প্রতিরোধ তোলা/লেখাপড়া শেখা , খোলা মনে দেখা/ যেভাবে আপনি দেখেছেন”, গানে গানে বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনকে সম্মান জানিয়েছিলেন কবীর সুমন। এদিনের উদ্যোগ মনে করিয়ে দিল কবীর সুমনের সেই গান।