অচল বাস পরিষেবায় ভোগান্তি যাত্রীদের, ধর্মঘট প্রত্যাহারের তৃণমূল অনুরোধও ফেরালেন বাস মালিকরা

নিজস্ব সংবাদদাতা, বহরমপুরঃ বহরমপুর স্টেশনে ট্রেন থেকে নেমেছেন কান্দির বাসিন্দা অরূপ সামন্ত। তিনি কলকাতায় থাকেন। টোটোয় চেপে বাসস্ট্যান্ডে এসে শোনেন জেলার কোনও প্রান্তেই বাস যাচ্ছেও না, আসছেও না। আবার বাস ধর্মঘট জেনেও অন্য কিছুর ভরসায় স্কুলে পৌঁছনো যায় কী না তার খোঁজে খানিকআগে বাসস্ট্যান্ডে এসেছেন অঙ্কিতা দাসশর্মা। তিনি বলেন, ঘন্টাখানেক আগে বেড়িয়েও স্কুল যেতে আজ একঘন্টার বেশি দেরি হয়ে যাবে। তিনি  আরও কয়েকজন একটি ছোট ওমনিভ্যানে রওনা দিলেন যখন গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ঘড়িতে তখন ১১টা বাজতে পনের মিনিট।

সপ্তাহের প্রথম কাজের দিন বাস ধর্মঘটে নাজেহাল নিত্যযাত্রী। আজ সোমবার থেকে অনির্দষ্টকাল বেসরকারি বাস ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে  মালিক পক্ষ। তাঁদের অভিযোগ, একদিকে জাতীয় সড়কে টোটো, অটো চলাচল করছে আইন ভেঙে, অন্যদিকে নতুন বাইপাসে ‘নয়া  ঝামেলা’ দ্বি-গুণ হারে টোল আদায়। আয় কমছে বাস মালিকদের।  আর তাই খানিকটা বাধ্য হয়েই বাস ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন তাঁরা।

তবে জেলার আঞ্চলিক বেসরকারি বাস ধর্মঘটকে ‘ধর্মঘট’ বলতে নারাজ মালিক পক্ষ। তাদের দাবি, জ্বালানির দাম বৃদ্ধির সঙ্গে বাস রুট দখল করে অটো টোটো চালানোয় প্রশাসনের প্রচ্ছন্ন ‘অনুমোদন’ এর সঙ্গে পাল্লা দিয়েছে দ্বিগুণ টোল বৃদ্ধি। ফলে এই ত্র্যহ্য স্পর্শে বাস পরিষেবা দিতে অপারগ তাঁরা। তাই বাস পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে।

তাঁদের অনড় দাবির বিকল্প হিসেবে জেলায় অন্তর্বর্তী বাস চালানোর প্রস্তুতি নিয়েছে উত্তর ও  দক্ষিণ বঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহন সংস্থা।  ওই সংস্থার অন্যতম ডাইরেক্টর রাজীব হোসেন বলেন, “ কলকাতা-শিলিগুড়ি-কোচবিহার রুটে, আবার বহরমপুর কলকাতা রুটে, বহরমপুর আসানসোল রুট মিলিয়ে ২৬টি গাড়ি চলাচল করে। কিন্তু আঞ্চলিক স্তরে কোনও বাস চলে না। বাস ধর্মঘট যেহেতু পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি সে কথা মাথায় রেখে রাস্তায় তিনটি অতিরিক্ত বাস নামানো হয়েছে। আরও দশটি বাস রিজার্ভ রাখা আছে।” তবে তাঁর দাবি, “ আজ রাস্তায় মানুষজন নেই।”

বাস যাত্রীদের ভোগান্তির কথা মাথায় রেখে  রবিবার বেসরকারি বাস মালিকদের পরিষেবা সচল রাখার অনুরোধ করেছিল তৃণমূল। ওইদিন সন্ধ্যায় সাংবাদিক সম্মেলন করেও সেকথা জানিয়ে দিয়েছিলেন তৃণমূলের বহরমপুর-মুর্শিদাবাদ সাংগঠনিক জেলার সভাপতি অপূর্ব সরকার।

কিন্তু মুর্শিদাবাদ বাস ওনার্স কাউন্সিলের সম্পাদক তপন অধিকারী বলেন, উনি নিজেও বাসের অবস্থা জানেন। আমরা তাঁকেও অনুরোধ করব যাতে এই সমস্যার সমাধান হয় তার পথ খুঁজে বার করতে। প্রশাসন সব জেনেও নীরব। আমরা বারবার প্রশাসনকে অনুরোধ করেছি। কিন্তু তা কানেই তোলেন না আধিকারিকরা।  আমরা জানি নিত্যযাত্রীরা অসুবিধায় পড়বেন। কিন্তু আমরা নিরুপায়। তিনি বলেন, “ যতদিন না আমাদের সমস্যার সমাধান না হবে ততদিন আমরা বাস পরিষেবা বন্ধ থাকবে বলেই আমরা সাংগঠনিকভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”