নানান কারণে দুই শিশু কন্যা সহ মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজে দশ শিশুর মৃত্যু

বিদ্যুৎ মৈত্র, বহরমপুরঃ  দশ বছর পর ফের শিশু মৃত্যু ঘিরে শিরোনামে মুর্শিদাবাদ। গত বারো ঘন্টায় দশ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ  হাসপাতালে। তাদের মধ্যে দুজন কন্যা শিশুও আছে। অধিকাংশ জনের বয়স দুদিন থেকে ছ মাস। চলতি সপ্তাহের মঙ্গলবার রাত বারোটা থেকে বুধবার রাত বারোটা পর্যন্ত যে দশ শিশুর মৃত্যু হয়েছে তার মধ্যে দুবছর বয়সী শিশু আছে একজন। দশ বছর আগে মূলত শ্বাসকষ্ট, সংক্রমণ ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে বেশির ভাগ শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেছিলেন হাসপাতালের চিকিৎসকরা৷ মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ অমিত দাঁ বলছেন, “এবার সদ্যোজাতদের মৃত্যু হয়েছে কম ওজনের জন্য।” তবে হাসপাতাল সূত্রে জানা যায় একাধিক কারণে দশ শিশুর এদিন মৃত্যু হয়েছে।

তাদের মধ্যে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মাতৃমা বিভাগের তিন জন শিশু আছে। তাদের এক জনের মৃত্যু হয়েছে আরডিএস বা রেসপিরেটরি ডিসট্রেস সিনড্রোম বা সহজ ভাষায় শ্বাসকষ্ট জনিত কারণে। একজনের মৃত্যু হয়েছে জন্মগত ত্রুটির কারণে। অন্য এক জনের মৃত্যু হয়েছে এক্সট্রিমলি লো বার্থ ওয়েট বা কম ওজনের কারণে। জানা যায় তার ওজন হয়েছিল মাত্র চারশো গ্রাম।  লালবাগ মহকুমা হাসপাতাল ও ডোমকল মহকুমা হাসপাতাল থেকে একজন করে শিশু মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভর্তি হয়েছিল। তাঁদের বাঁচানো যায়নি । হাসপাতাল স্বাস্থ্য ভবনকে জানিয়েছে তাদের একজনের মৃত্যু হয়েছে শ্বাসকষ্ট জনিত কারণে অন্য জনের মৃত্যু হয়েছে ব্রঙ্কিয়াল অ্যাজমা বা হাঁপানির কারণে। বহরমপুর শহরের এক বেসরকারি হাসপাতাল থেকে একজন শিশু  হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে আশঙ্কা জনক অবস্থায়  ভর্তি হয়েছিল সেও রয়েছে মৃতদের তালিকায়। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, নাড়ি জড়িয়ে গিয়েছিল ফুসফুস ও হৃদযন্ত্রে। বাকি চার জন বিভিন্ন কমিউনিটি থেকে সরাসরি হাসপাতালে এসেছিল। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল বলে দাবি চিকিৎসকদের। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, তাদের একজন উঁচু জায়গা থেকে পড়ে যাওয়ায় গুরুতর চোট পেয়েছিল। তাকে বাঁচানো যায়নি। দু’জনের বিষক্রিয়ায় মৃত্যু হয়েছে। একজনের মৃত্যু হয়েছে স্নায়ু রোগের কারণে।

তবে দশ বছরে একটি বিষয় অবশ্য আজও বদলায়নি প্রান্তিক জেলা মুর্শিদাবাদে। সেবারও পরিকাঠামোর অভাবে শিশুদের বাঁচানো সম্ভব হয়নি বলেই দাবি করেছিলেন চিকিৎসকরা। এবারও হাসপাতালের পরিকাঠামোকেই দায়ি করছেন একাংশ চিকিৎসক। আর এর অন্যতম কারণ জেলার প্রত্যন্ত প্রান্ত ছাড়াও নামী দামী বেসরকারি হাসপাতাল থেকে জেলার একমাত্র মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে লাগাম ছাড়া রোগী।হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সদ্যোজাতদের জন্য পিকু বা পেডিয়াট্রিক ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট যা শিশুদের আইসিইউ নামে পরিচিত সেখানে মাত্র দশ টি শয্যা আছে। এসএনসিইউ বা স্পেশান নিউ বর্ন কেয়ার ইউনিটে আছে ১২৭টি শয্যা। শিশুদের অন্য একটি বিভাগে আছে ৬০টি শয্যা।  আর এখানেই হচ্ছে সমস্যা।

অধ্যক্ষ বলছেন, “গাদা গাদা রেফার রোগী আসে হাসপাতালে। সামাল দেওয়া সম্ভব হয় না। একটি শয্যায় তিনজন করে শিশুকে রাখতে হয় বাধ্য হয়ে। আমাদের চিকিৎসকরা প্রত্যেক শিশুর যত্ন নেন। তবু এই ধরনের অঘটন এড়ানো যায় না।” তাঁর আরও দাবি, “জঙ্গিপুর, ডোমকল থেকে একজন খারাপ শিশুর বহরমপুরে পৌঁছাতে পৌঁছাতে তার গোল্ডেন পিরিয়ড পেরিয়ে যায়। তখন আর আমাদের কিছু করার থাকে না।” তবে এদিন সবথেকে বেশি রোগী রেফারের অভিযোগ উঠেছিল জঙ্গিপুর সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল থেকে। মৃতদের তালিকায় অবশ্য ওই হাসপাতালের কোনও উল্লেখ নেই।