পায়ে ভর দিয়ে হাঁটার চেষ্টা তাহেরের, মানসিকভাবে লোকসভা নির্বাচনে লড়তে প্রস্তুত সাংসদ

বিদ্যুৎ মৈত্র, বহরমপুরঃ মুর্শিদাবাদ লোকসভা আসনে কী তৃণমূলের প্রার্থী হচ্ছেন আবু তাহের খান? দ্রুত অসুস্থতা কাটিয়ে ভোটের মাঠে কী দেখা যাবে শাসক দলের চেনা খেলোয়ারকে? প্রশ্ন ও সংশয় শুধু বিরোধীদের উঠোনে নয়, শাসকদলের ছাদ বারান্দাতেও জোর আলোচনা চলছে। যদি কিন্তুর জটিল অঙ্কে নিজেকে নিমজ্জিত করে আপন মনে মাধুরি মিশিয়ে শতেক জল্পনায় ঘি ঢালছেন কেউ কেউ। ঘাসফুলের কেউ কেউ ওই আসনে প্রার্থী হওয়ার ‘বাসনা’ ইনিয়ে বিনিয়ে শুনিয়ে রাখছেন দলের ‘হর্তাকর্তাদের’। তবে ওই আসনের সাংসদ আবু তাহের খান উল্টো দিকে নিজেকে ভোটের মাঠে ফিরিয়ে আনতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন বলেই দাবি তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলের।

লোকসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ এখনও ঘোষণা হয়নি। কিন্তু উপকরণ জোগানের কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে পুরোদমে। মুর্শিদাবাদ জেলায় তিনটি লোকসভা আসন। বহরমপুর, জঙ্গিপুর আর মুর্শিদাবাদ। জঙ্গিপুর আর মুর্শিদাবাদ শাসক তৃণমূলের আর বহরমপুর কংগ্রেসের, সবার জানা। এমনিতেই রাজ্যে “ইন্ডিয়া” জোটে জট পেকেছে। জট ছাড়িয়ে বিজেপি শিবিরের পাল্টা একতার সূর সেলিম, অধীর মমতারা তুলতে পারবেন না বলেই খবর। সেক্ষেত্রে জেলা তথা রাজ্যে “একলা চলো” নীতিতেই এগোচ্ছেন সব রাজনৈতিক দলের নেতারা। সিপিএম ও কংগ্রেস যদিও তাঁদের পূর্ব ঘোষিত জোটেই অটুট থাকবার কথা বলে রেখেছে।মুর্শিদাবাদের ক্ষেত্রে জোটের শর্তে একটি আসন বামেদের ছাড়তে হতে পারে কংগ্রেসকে। আবার সংযুক্ত মোর্চা যদি ফিরে আসে তাহলে আইএসএফও জেলায় একটি আসন দাবি করতে পারে। তবে সে সম্ভাবনা ক্ষীণ বলেই দাবি রাজনীতির বিশেষজ্ঞ মহলে। ফলে সেই জোটও যে তৃণমূলের বিরুদ্ধে শক্তিশালী হবে এমন সম্ভাবনাও নেই বললেই চলে।মুর্শিদাবাদ লোকসভা আসনের মধ্যে নদিয়ার করিমপুর সহ ছ’টি বিধানসভা আসন। ভগবানগোলা, জলঙ্গি, রানীনগর, হরিহরপাড়া ডোমকল, করিমপুর বিধানসভা ঘাসফুলের দখলে।মুর্শিদাবাদ আসনটি বিজেপি দখল করেছিল একুশে। সূত্রের দাবি, ওই বিধানসভা আসন দখল করে ওই এলাকায় নিজেদের শক্তি আগের থেকে বেশ খানিকটা বাড়িয়ে রেখেছে গেরুয়া শিবির।

একটি স্কুলের ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় বিশেষ অতিথি সাংসদ। নিজস্ব চিত্র

১৯৭৭ সালে জনতা দল এই আসনটি জিতেছিল। ১৯৮০ সাল থেকে ২০০৪ চার সাল পর্যন্ত এই আসনটি ছিল সিপিএমের দখলে। ২০১৪ সালে এই আসনে জিতে শেষবার সাংসদ হয়েছিলেন বদরুদ্দোজা খান। কংগ্রেসও এই আসনে বার তিনেক ক্ষমতা পেয়েছে। সেদিক থেকে মুর্শিদাবাদ আসনে তৃণমূল নতুন। প্রায় ৪২ শতাংশ ভোট পেয়ে সেবার তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কংগ্রেসের আবু হেনাকে হারিয়ে সাংসদ হয়েছিলেন আবু তাহের। ২০১৪ সালে এই আসনেই কংগ্রেসের সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়েছিল সিপিএমের। দুই শতাংশেরও কম ভোটে জিতে সাংসদ হয়েছিলেন বদরুদ্দোজা খান। হেরে গিয়েছিলেন কংগ্রেসের মান্নান হোসেন। প্রায় এগারো শতাংশ কম ভোট পেয়ে ওই আসনে সেবার তিন নম্বরে ছিলেন তৃণমূলের মহম্মদ আলী। এখন যিনি লালগোলার বিধায়ক। কংগ্রেসের সঙ্গে জোট হলে ওই আসন কংগ্রেসের কাছে দাবি করতে পারে বামেরা।

স্নায়ুরোগে আক্রান্ত হয়ে ২০২৩ এর এপ্রিলে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পরেন তাহের। তারপর নভেম্বরের গোরায় ফেরের রাজনীতির ময়দানে। ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠে এখন দলীয় কর্মসূচির সঙ্গে নিজের সংসদ এলাকাতেও তাঁকে দেখা যাচ্ছে। এদিন নওদার বাড়িতে বসে তাহের বলেন,”আমি ৮০ শতাংশ সুস্থ হয়ে উঠেছি। তবে একা কোথাও যেতে গেলে অসুবিধা হচ্ছে।“ বাড়িতে অবশ্য সময় পেলেই কাছের লোকজনকে নিয়ে একা হাঁটা অভ্যেস করছেন। তাঁর পরিজনদের দাবি, সাংসদ নিজের পায়ে দাঁড়াতে চেষ্টা করছেন। ভোটের লড়াই লড়তে নিজেকে মানসিকভাবেও প্রস্তুত রাখছেন।তাহের বলেন, “ কে প্রার্থী হবে আর কে হবে না তা আমরা ঠিক করি না। আমাদের মাথার উপরে দিদি আছেন। তিনিই ঠিক করবেন কে প্রার্থী হবেন। আমাকে দিদি প্রার্থী করলে ভোটের লড়াই লড়তে আমার কোনও অসুবিধা নেই।” মুর্শিদাবাদে যে কজন নেতার সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠতা তার মধ্যে অন্যতম তাহের। দলের এক বর্ষীয়ান নেতা বলেন, “ দিদি তাহেরকে সরাবেন না বলেই মনে হয়।” সেক্ষেত্রে তাহেরের ফুলে কাঁটা হতে পারে করিমপুর। সেখানেও গোষ্ঠীকোন্দলে জেরবার দল। মুর্শিদাবাদেও কাঁটা বিছানো সাংসদ এলাকা। স্বাভাবিকভাবেই তৃণমূলের জোয়ারে ওই আসন জিতে আসা একটা যে চ্যালেঞ্জ তা টের পাচ্ছেন আবুও।