পানীয় জলের ফিল্টার বানিয়ে প্রশংসিত বাসুদেবপুরের পড়ুয়ারা

মাসুদ আলি, সামশেরগঞ্জঃ আমাদের পৃথিবীর তিনভাগ জল এবং একভাগ স্থল। কিন্তু তার মধ্যেও কিন্তু খুব সীমিত জল পানীয় হিসেবে মানুষ পায়। এবং সেই জলের ওপর নামই জীবন। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে জলসংকট তৈরি হচ্ছে। অধিকাংশ মানুষকেই বিশুদ্ধ পানীয় জলের জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ করতে হয়। কখনও জল পরিশোধনের জন্য কিনতে অত্যাধুনিক মেশিন। তো কখনও বা জারে প্যাকেজিং পানীয় জল কিনতে। যার বাজার দড় কোথাও ৩০ টাকা তো কোথাও আবার ৪০ টাকা করে। কিন্তু সেখানেও থাকছে বিশুদ্ধতার প্রশ্ন।

তবে এবারে প্রায় বিনা খরচে। পানীয় জলের ফিল্টার বানিয়ে তাক লাগালো ধুলিয়ানের বাসুদেবপুর পাবলিক স্কুলের পড়ুয়ারা। দূষিত জল পান করার কারণে জলবাহিত রোগের শিকার হন অনেক মানুষ। তবে এবার যাতে বিশুদ্ধ জল পেতে বেগ পেতে না হয় সেই জন্য পাথর, চারকোল, বালি, তুলো এসব দিয়েই নোংরা থেকে পরিস্রুত পানীয় জল পাওয়ার রাস্তা দেখাল বিজ্ঞানের পড়ুয়ারা।
সামসেরগঞ্জের চাচন্ড হাইস্কুলের ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে চলছে দু’দিন ব্যাপি অনুষ্ঠান। সেখানে অনুষ্ঠিত বিজ্ঞান প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছিল ধুলিয়ানের বাসুদেবপুর পাবলিক স্কুলের পড়ুয়ারা। তাঁরাই নামমাত্র খরচে হাতে নাতে বানিয়ে দেখাল এই জলের ফিল্টারের মডেল।

বাসুদেবপুর পাবলিক স্কুলের ছাত্র আসলাম আহমেদ জানান, “বিভিন্ন গ্রামীণ এলাকায় জল সংক্রান্ত নানান রোগে ভুগছে। এই পরিশোধিত জল যদি পান করে তাহলে তাঁরা নানান রোগ থেকে বাঁচতে পারবেন। টিউবলের জলও পানীয় হিসেবে উপযুক্ত নয়। তাই কীভাবে সাধারণ মানুষ। কম খরচে জল পরিশোধন করতে পারে। সেই লক্ষ্যেই আমাদের এই মডেল।”

পড়ুয়াদের বানানো মডেল নিয়ে উচ্ছ্বসিত শিক্ষক শিক্ষিকারাও…
বাসুদেবপুর পাবলিক স্কুলের কর্ণধার মোঃ আজারুদ্দিন জানান, “স্কুলের পড়ুয়াদের এই অভিনব ভাবনায় সত্যি আমরা খুব আশাবাদী।”
স্কুল পড়ুয়াদের বানানো এই ওয়াটার ফিল্টার মডেল যে কেউ বাড়িতে বানিয়ে তা ব্যবহার করে পরিস্রুত জল পেতে পারেন। জল অপচয় বন্ধ করার বার্তা নিয়েই বিজ্ঞান প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছিল পড়ুয়ারা।