বিজ্ঞানের কারসাজিতে বাজিমাত নবগ্রামের আছড়া প্রাইমারি স্কুলে

নিজস্ব সংবাদদাতা, নবগ্রামঃ ছোট্ট একটি গ্রামের ছোট্ট একটি স্কুল। বিজ্ঞানের কারসাজিতে বাজিমাত করল নবগ্রামের সেই প্রাইমারি স্কুলের পড়ুয়ারা। খুদে খুদে হাতে ভিনিগার কিংবা ন্যাপথলিন দিয়ে কেমিক্যালের কারসাজি, সেখানেই চলছে অঙ্কের ম্যাজিকও। টেবিলের ওপর সাজানো দাবা বোর্ড। তার পাশেই রাখা দূরবীণ যা দিয়ে সহজেই দূরের জিনিস দেখা যাবে খুব কাছে। এভাবেই সাজিয়ে তোলা হয়েছিল নবগ্রামের আছড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান মেলা। এতদিন খাতায় কলমে যা পড়েছে। সেগুলিই দেখালো হাতেনাতে বানিয়ে।

প্রত্যন্ত গ্রামের এই স্কুলে ২৫০ জন পড়ুয়া লেখাপড়া করতে আসেন। তাদের মাধ্যমে বিজ্ঞান চর্চার প্রসার করতে পেরে খুশি স্কুলের প্রধান শিক্ষক পুষ্পক পাল। পড়ুয়াদের মধ্যে বিজ্ঞান চেতনার প্রসারের ও সামাজিক বিকাশের লক্ষেই এই বিজ্ঞান মেলা বলে জানান তিনি। আরও বলেন, “গ্রামের স্কুলে বিজ্ঞান চর্চার পরিসর তৈরি করতে পেরেছি আমরা। যেটা এই ব্লক তথা জেলার স্কুলগুলির কাছে নজির। এইরকম উদ্যোগে খুদে পড়ুয়াদের পাশাপাশি অভিভাবকেরাও উচ্ছ্বসিত। টেলিস্কোপের মাধ্যমে রাতের আকাশে গ্রহ নক্ষত্রের অবস্থান দেখানো, এছাড়াও হাতে নাতে বৈজ্ঞানিক সরঞ্জাম প্রত্যক্ষ করতে দেবার ফলে তাদের বিজ্ঞানমনস্কতা তৈরি হবে।”

নবগ্রামের আছড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় একমাত্র প্রাথমিক স্কুল যেখানে বৃষ্টির জল সঞ্চয় করে ব্যবহার করা হয়। স্কুলে মিড-ডে-মিল রান্নায় ও গাছে জল দেওয়ার জন্যে। এছাড়াও এই বিদ্যালয়ে রয়েছে সোলার গিজার। এটি শুধু একটি স্কুল নয়, যেন এক আস্ত বিজ্ঞান বিকাশ কেন্দ্র। আছে ‘যন্তর-মন্তর’ ঘর। যেখানে শিশুদের বিকাশের পাশাপাশি চলছে সমাজের বিকাশও। দু’দিনের এই অনুষ্ঠানে থাকছে শিশুদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা শিবিরও।

স্কুলের ৮০ তম জন্মদিন উপলক্ষ্যে এই আয়োজনে মেতেছেন পড়ুয়া থেকে শিক্ষক, অভিভাবক সকলেই। বুধবার এই স্কুলে উপস্থিত ছিলেন নবগ্রাম ব্লকের স্কুল পরিদর্শক পূর্বাশা চ্যাটার্জি সহ জেলার শিক্ষা আধিকারিকরা। পূর্বাশা বলেন, “পড়ুয়ারা নিজের হাতে যে সব মডেল বানিয়েছে তা সত্যিই খুবই ইম্প্রেসিভ। ‘প্লে ওয়ে মেথড’ অর্থাৎ খেলার ছলে শেখার যে শিক্ষা পদ্ধতি, এই স্কুল তার দৃষ্টান্তমূলক উদাহরণ স্থাপন করেছে।”