স্মার্ট ক্লাসরুম  চাইছে পড়ুয়ার, চাই আধুনিক গেজেট, প্রযুক্তির  ব্যবহার

কলকাতাঃ ক্লাসরুমে শুধু বুঝিয়ে বলা নয়, চাই  আধুনিক গেজেট, প্রযুক্তির  ব্যবহার । তবেই ক্লাসরুম হয়ে উঠবে আরও আকর্ষণীয়। প্রধান শিক্ষকে চেয়ারে প্রতীকীভাবে বসার সুযোগ পেয়ে এমনটাই আশা প্রকাশ করেছে যোধপুর পার্ক বয়েজ স্কুলের ছাত্র সৈকত  দে । সহমত সৈকতের বন্ধুরাও।

২০ নভেম্বর বিশ্ব শিশু দিবসে  সৈকত বসেছিল স্কুলের প্রধান শিক্ষক অমিত সেন মজুমদারর চেয়ারে। ইউনিসেফ উদযাপন করছেন “ কিড’স টেকওভার” কর্মসূচী। সেই কর্মসূচীর অংশ হিসেবেই এক দিনের প্রধান শিক্ষক হিসেবে  দায়িত্ব পালন করল সৈকত।

“ প্রতীকী প্রধান শিক্ষক হিসেবে আমি চাইছি, ক্লাসে আরও বেশি করে বিজ্ঞান, আধুনিক  প্রযুক্তি ও গেজেট ব্যবহার করা হোক। এতে পড়াশোনাও ভালো হবে, নিরাপত্তাও সুনিশ্চিত হবে”, বলেছে সৈকত। পাশ থেকে সৈকতকে সমর্থন জুগিয়েছে সৈকতের সহপাঠী রণদীপ গায়েন, সাত্ত্বিক দাশ।

সৈকতের মতে, বিভিন্ন সৃজনশীল ভিডিওর মাধ্যমে ক্লাস নেওয়া দরকার।  এতে পড়ুয়ারা পাঠ্য বিষয়কে চোখের সামনে দেখে আরও ভালোভাবে বুঝতে পারে।

এই কর্মসূচীর বিষয়ে ইউনিসেফের পশ্চিমবঙ্গ বিভাগের প্রধান অমিত মেহরোত্রা বলেছেন, “ পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক স্কুল স্তরে শিশুদের অন্তর্ভুক্তির হার  খুব ভালো। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরে ক্লাসরুম ও ল্যাবরেটারির মানোন্নয়নে গুরুত্ব দিতে হবে। আমি বাণিজ্যমহলের সাথে যুক্তদের কাছে অনুরোধ রাখবো, স্মার্ট ক্লাসরুম গড়ে তুলতে বিনিয়োগ করুন। এতে শিশুদের প্রতিভার বিকাশ আরও সুন্দরভাবে হবে, ভবিষ্যৎ আরও সুনিশ্চিত হবে ”।

বেশিরভাগ পড়ুয়ারাই মনে করছে, শিক্ষা ব্যবস্থায়ব লিঙ্গ সাম্যের বিষয়ে জোর দেওয়া প্রয়োজন। বয়ঃসন্ধি দশার পড়ুয়াদের বোঝানো প্রয়োজন যে ছেলে ও মেয়েরা সমান। ছেলে মেয়েদের মধ্যে কোন ভেদাভেদ  নেই।

উঁচুক্লাসের ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে বাড়ছে   ডিপ্রেশনের হার , এই তথ্যও উঠে এসেছে পড়ুয়াদের আলোচনায়। প্রতীকী প্রধান শিক্ষক হিসবে দায়িত্ব নেওয়া সৈকত জানিয়েছে, “ পড়ুয়াদের  ডিপ্রেশনের মতো ক্ষেত্রে  শিক্ষকদেরও তাদের সাহায্য করতে এগিয়ে আশা উচিৎ। প্রয়োজনে মনোবিদদের সাহায্য নেওয়া উচিৎ। এই বিষয়টা নিয়ে স্কুলে সচেতনতামূলক উদ্যোগ নিতে হবে”।

এই “কিড’স টেকওভার” কর্মসূচীর প্রশংসা করেছেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক অমিত সেন মজুমদারও। তিনি মনে করছেন, এতে শিশুদের আত্মবিশ্বাস বাড়বে, নেতৃত্বদেওয়ার দক্ষতা বাড়বে শিশুদের মধ্যে। অমিত সেন মজুমদার বলেছেন, “ স্কুলের পড়ুয়ারা কোন পদে বসলে সেই পদের গুরুত্ব বুঝতে পারে, সেই ভাবেই ভাবনা চিন্তাও করার চেষ্টা করে”।

একইরকমভাবে হাওড়া জেলার উলুবেড়িয়ায় আশা ভবন সেন্টারে প্রধান শিক্ষকের চেয়ারে বেসেছিল  মালা সিংহ মৌর্য। মালা বৌদ্ধিক  বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন শিশু। সে  ক্রিকেট ও ফুটবল খেলতে পছন্দ করে । মালা বলেছে, সকলের লেখাপড়া করার ও খেলার অধিকার থাকা উচিৎ। স্কুলের প্রধান শিক্ষক হিসেবে ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলোতেও সাহায্য করতে চায় সে।