বর্ষা আসতেই ভাঙন আতঙ্ক সামসেরগঞ্জে

মাসুদ আলি, সামসেরগঞ্জঃ  বর্ষা ঢুকতেই শুরু হয়েছে গঙ্গা পাড়ের  মানুষের আতঙ্ক। আবহাওয়া দপ্তর বলছে জেলায় বর্ষা ঢুকতে শুরু করেছে। আষাঢ় পেরিয়ে শ্রাবনের বর্ষা জেলায় প্রবেশ করতেই ক্রমশ বাড়তে শুরু করেছে গঙ্গার জলস্তর। আর সেই নিয়ে রোজ আতঙ্কের মধ্যে দিয়ে দিন অতিবাহিত করছেন মুর্শিদাবাদের ভাঙ্গন কবলিত এলাকার মানুষ। চোখেমুখে আতঙ্কের ছাপ মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জের বাসিন্দাদের।
কামালপুরের বাসিন্দা  মিঠু সাহা,  শর্মিলা সাহাদের প্রশ্ন, বিগত বছরগুলির মতো ফের ভাঙন কী আবারও সেই ভয়ঙ্কর চেহারা নেবে ? এই প্রশ্নেই ঘুম উড়েছে সাধারণ মানুষের । ২০২০ সালে থেকে লাগাতার পাড় ভাঙছে গঙ্গার। তলিয়ে যায় কয়েকশো বাড়িঘর, কৃষি জমি থেকে শুরু করে বহু সম্পত্তি। শিবপুর, কামালপুর, হিরানন্দপুর, চাচন্ড, সিকদারপুর, লোহরপুর, সাতঘরিয়া, প্রতাপগঞ্জ, মহেশটোলা, দিঘড়ি, লালপুর সহ বিস্তৃর্ণ এলাকায় ভয়াবহ ভাঙন দেখা গেছে বিগত বছর গুলিতে। এবছর বর্ষা শুরু হতেও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন পিঙ্কি সাহা,জয়নুল আবেদিনরা ।

ভাঙন প্রতিরোধে দফায় দফায় টাকাও বরাদ্দ হয়েছে। গঙ্গা দিয়ে বহু জল গড়িয়ে গেলেও আজও হয়নি ভাঙনের স্থায়ী সমাধান। বালির বস্তা আর পাথর ফেলেই চলছে প্রতিরোধের চেষ্টা। চলতি বছরের মে মাসে ভাঙন অধ্যুষিত এলাকায় ছুটে আসেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গঙ্গা ভাঙন রোধে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দও করেন তিনি। কিন্তু কবে স্থায়ী ভাবে ভাঙন রোধ করবে প্রশাসন? থেকেই যাচ্ছে প্রশ্ন। এবছর বর্ষা আসতেই চোখে মুখে আতঙ্ক দেখা যাচ্ছে গঙ্গাপাড়ের মানুষের। এবছর ভাঙন কী রূপ নেবে আর প্রতিরোধের উদ্যোগই বা কী হবে তা সময়ই বলবে। আপাতত আশঙ্কায় সম্বল সামসেরগঞ্জের মানুষের।