নেতাদের কথাতেই বোমা বাঁধার চুক্তি ? কিন্তু কী হয় পরিণতি ? প্রশ্নের মুখে শান্তিপূর্ণ ভোট

প্রশান্ত  শর্মা, বহরমপুরঃ  ভোট এলেই ডাক আসে। ডাক আসে নেতা, প্রার্থীদের। ভোট মানে যুদ্ধ। যুদ্ধে দরকার অস্ত্র। শুধু ভাষণ নয়, শুধু উন্নয়ন-দুর্নীতি তরজা নয়। দরকার হয়, বোমারও। নেতারা নাকি কথায় কথায় হয়ে ওঠেম বিস্ফোরক। তোপ দাগেন অন্য নেতাদের বিরুদ্ধে। কিন্তু সেই নেতাদেরও কি দরকার হয় আসল বিস্ফোরণের ? গণতন্ত্রের উৎসবে তাই জমে শবের পাহাড় ?

অন্তত তেমনটাই জানান দিল বেলোডাঙ্গার বেলডাঙ্গার ভাবতা এক নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের মহেশপুরের মাঠে কামাল শেখের নিথর দেহ। সেই দেহের একাংশে বিস্ফোরণের ছাপ স্পষ্ট। গ্রামবাসীরা দেখেই বলে দিচ্ছেন, বোমা বাঁধতে গিয়ে বিস্ফোরণে মৃত্যু হয়েছে কামাল শেখের। অনুমান, শুধু কামাল শেখ নয়। সাথে ছিলেন আরও অনেকে। পরিবারের দাবি, রাতে বাড়িতে ছিলেন না কামাল শেখ। সকালে খোঁজাখুঁজি শুরু হতেই শোনা যায় বাড়ি থেকে ২ কিলোমিটার দূরে উদ্ধার হয় কামাল শেখের ঝলসানো  দেহ। পরিবারের দাবি, স্থায়ী কোন কাজ ছিল না কামাল শেখের। এক এক সময় করতেন এক এক রকমের কাজ। তবে স্থানীয়দের একাংশের দাবি, বোমা বাঁধায় সিদ্ধহস্ত ছিলেন কামাল। তাই তাকে বিভিন্ন সময় ভাড়া করেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল।

তবে এইবার কাদের হয়ে ভাড়ায় বোমা বাঁধতে গিয়েছিলেন কামাল শেখ ? প্রশ্নের জবাব এখনও মেলেনি। অন্যদিকে বোমা বাঁধাতে গিয়ে মৃত্যু নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক দড়িটানাটানিও। বেলডাঙ্গার তৃণমূল বিধায়ক হাসানুজ্জামান সেখের অভিযোগ, পঞ্চায়েত সমিতির এক কংগ্রেস প্রার্থীর বাড়ির অদূরেই এই বোমা বাঁধার কাজ হচ্ছিল। এই বিষয়টা নিয়ে পুলিশের তদন্ত করা উচিত। ঘটনাস্থল থেকে কিছুটা দূরেই রয়েছে পঞ্চায়েত সমিতির কংগ্রেস প্রার্থী রাজিয়া বিবির বাড়ি।   যদিও বেলডাঙ্গা ১ ব্লক কংগ্রেস সভাপতি নাজিমুদ্দিন শেখের দাবি,   চক্রান্ত হচ্ছে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে। বেলডাঙার এসডিপিও সন্দীপ গড়াই জানান, বোমা বাঁধতে গিয়েই ওই ব্যক্তির মৃত্যু ঘটেছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।

কারা বোমা বাঁধার দায়িত্ব দিয়েছিলেন কামাল শেখকে ? কীভাবে হয়েছিল চুক্তি। প্রাণহানীর ক্ষতিপূরণই বা কী ? এই সব প্রশ্নের নেই কোন উত্তর।

যদিও মুর্শিদাবাদে এই রকম ঘটনা নতুন নয়। মঙ্গলবার রাতে  মুর্শিদাবাদের শক্তিপুরে কংগ্রেস প্রার্থীর বাড়িতে বোমা বাঁধার সময় বিস্ফোরণ ঘটে বলে অভিযোগ উঠেছে  । বেলডাঙ্গা ২ ব্লকের সোমপাড়া ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের কংগ্রেস প্রার্থী হায়দার মল্লিক। মঙ্গলবার রাতে শক্তিপুর থানার কোরাল পুকুর এলাকায় তার বাড়িতেই বিস্ফোরণ হয় বলে অভিযোগ। বিস্ফোরণে জখম হন সালারের সরমস্তপুরের বাসিন্দা জামিরুল সেখ ও শেরফুল মোল্লা। তাঁদের প্রথমে শক্তিপুর হাসপাতাল এবং পরে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসয়াপাতালে ভর্তি করা হয়। জানা গিয়েছে , বোম বাঁধতে এসেছিলেন ওই দুই ব্যক্তি। কংগ্রেস প্রার্থীর বাড়িতে একটি ঘরে তালাও ঝুলিয়ে আসে পুলিশ। ২৪ জুন শনিবার বেলডাঙা থানার মঝঝমপুর বাগানপাড়া এলাকায় বোমা বাঁধতে গিয়ে মৃত্যু হয় বেলডাঙার কাপাসডাঙা এলাকার বাসিন্দা আলিম বিশ্বাসের। এবার বোমা বাঁধতে গিয়ে ফের মৃত্যু বেলডাঙ্গায়।পঞ্চায়েত ভোটের আগে কেন বারবার একই রকম ঘটনা ? উঠছে প্রশ্ন।