রবীন্দ্রনাথকে স্বীকৃতি দিয়ে বিশ্বভারতী চত্বরে বসল নয়া ফলক

নিজস্ব সংবাদদাতা, বীরভূমঃ কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রকের নির্দেশ মেনে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতর্কিত ফলক সরিয়ে ফেলা হল। বাংলা, হিন্দি ও ইংরেজীতে লেখা হয়েছে নয়া ফলক। সেখানে লেখা আছে “বৈশ্বিক সংস্কৃতি এবং প্রাকৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণার্থে শান্তিনিকেতন বিশ্ব ঐতিহ্য সারণিতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এই সারণিতে অন্তর্ভুক্তি শান্তিনিকেতনের বিশ্বজনীন সংস্কৃতিক ও প্রাকৃতিক গুরুত্ব সুনিশ্চিত করে, এবং বিশ্বমানবের স্বার্থে এটির সুরক্ষা অবশ্যক।”

সেখানে আরও উল্লেখ করা হয়েছে,  ১৯০১ সালে গ্রামবাংলায় বিদ্যায়তন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। ‘১৯০১ সালে গ্রামীণ পশ্চিমবঙ্গে মহান গুরুদেব রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত শান্তিনিকেতন ছিল ভারতের শাস্ত্রীয় ঐতিহ্যের মধ্যে দৃঢ়ভাবে শিকড় শিক্ষার একটি দোলনা, যা বিশ্ববিদ্যালয় মানবতার ধারণার জন্য উচ্চাকাঙ্ক্ষী ছিল। এটি এমন একটি জায়গা, যেখানে ঠাকুরের দৃষ্টিভঙ্গির প্রমাণ রয়ে গেছে, যেখানে বিশ্ব একটি একক বাসা তৈরি করে, জ্ঞানের নিরন্তর সাধনা এবং বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের অনুরণন করে।’

খোলা আকাশের নীচে হচ্ছে পড়াশোনা। ইউনেস্কোর ওয়েবসাইট সূত্রে পাওয়া ছবি।

চলতি বছর সেপ্টেম্বরের মাঝখানে ইউনেস্কো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শান্তিনিকেতনকে হেরিটেজ ঘোষণা করেছিল। ঘোষণা হওয়া ইস্তক বিতর্ক শুরু হয় দেশজুড়ে। রবীন্দ্রনাথের নাম বাদ দিয়ে বিশ্বভারতীর ভিতরে ফলক বসানো হয়েছিল প্রধানমন্ত্রীর নাম বসিয়ে। তার সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্যের নাম। যার প্রতিবাদে উত্তাল হয় বাংলা। প্রতিবাদ এসেছিল রাজনৈতিকভাবেও। কেন্দ্রের শাসক দলের নেতারাও বিশ্বভারতীর তৎকালীন উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর ‘মনগড়া’ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদও করেছিলেন। সেই আওয়াজ পৌঁছায় দিল্লিতেও। নভেম্বরের মাঝখানে কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রক ওই ফলক বাতিলের নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেই নির্দেশ মেনেই বুধ সন্ধ্যায় বসানো হল নয়া ফলক। স্বস্তি ফিরল আবাসিকদেরও।