খোলাবাজারে ধানের দাম তলানিতে, নাম মাত্র কেনার আশ্বাস সাগরদিঘির কৃষকবাজারেও

মধ্যবঙ্গ নিউজ ডেস্কঃ কৃষিনির্ভর জেলা মুর্শিদাবাদ। শহর বহরমপুর পেরলেই চারিদিকে সোনালি ধানের খেত। মাঠ থেকে উঠেছে ধান। শুরু হয়েছে ধান ঝাড়াই বাছাইয়ের কাজ। আর এই সময়েই কৃষকদের ব্যস্ততার ছবি দেখা সাগরদিঘি কৃষকবাজারে। এখানে কিষাণ মান্ডিতে ধান বিক্রয় কেন্দ্রে এসেছেন এলাকার কৃষকরা। লাইন দিয়ে চলছে কৃষকদের রেজিস্ট্রেশনের কাজ। এখানেই সরকারি দাম ২১৮৩ টাকা ও সাথে ২০ টাকা অতিরিক্ত, সর্বমোট ২২০৩ টাকা প্রতি কুইন্টাল দামে কেনা হবে ধান। রেজিস্ট্রেশনের কাজ শুরু হয়েছে পয়লা নভেম্বর থেকে জানানো হয় সাগরদিঘি কৃষক বাজার তরফে।

যদিও আছে আইন। আবার রয়েছে আইনের ফাঁকও। ধান বিক্রি করতে এসে পড়তে হয়, দালাল চক্রেও। ভিতর ভিতর হয় কাজ, বলছেন কৃষকরাই। সাগরদিঘির এক ধানচাষি সারিফ মোল্লা জানান, ধান চাষ করে আগে তবু লাভের মুখ দেখা যেত, কারণ জিনিসপত্রের দাম এত ছিল না। এখন লাভ তো দূরের কথা, ধান বিক্রিই হয়ে দাঁড়িয়েছে এক বিরাট কাজ। কিষাণ মান্ডিতে এসে পড়তে হয় দালালদের খপ্পরে। আর দালাল না ধরলে বিক্রি হবে না ধান। ধানের দাম নিয়ে কৃষকদের মধ্যে রয়েছে হতাশার ছবি। একে খোলা বাজারে নেই ধানের দাম। আর অন্যদিকে বিঘা প্রতি একজন কৃষকের থেকে নেওয়া হচ্ছে মাত্র ১০ কুইন্টাল ধান। আর বাকি ধান ফিরিয়ে নিয়ে গিয়ে বিক্রি করতে হবে খোলা বাজারে। সেখানে ধানের দাম আরও কম।  ১৬০০ টাকা কুইন্টাল প্রতি। একে মাত্রা ছাড়া দাম, যাতায়াতের খরচ, সব মিলিয়ে ধান চাষ করে লাভ হবে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগের কৃষকদের মধ্যে। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির বাজারে সার সহ চাষের বিভিন্ন সামগ্রীর দাম বেড়েছে, কিন্তু ধানের বিক্রয় মূল্য নিয়ে রয়েছে অসন্তোষ। ফলে চাষ করে লাভের মুখ দেখতে পাবেন না আশঙ্কা কৃষকদের।

মাঠে ঝাড়াইয়ের কাজ। ছবি – শুভ সরকার।

কৃষকদের জন্য বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প রয়েছে। কিন্তু তাতে লাভবান হচ্ছে জমির মালিক। ঠিকা চাষিদের হাতে থাকছে না কিছুই। এই অবস্থায় সারের দাম কমানোর আর্জি ঠিকা চাষিদের। সাগরদিঘি এলাকার এক ঠিকাদার ধানচাষি রমজান সেখ জানান, কৃষকবন্ধু প্রকল্পে যে টাকা দেওয়া হয়, তা পায় জমির মালিক। কিন্তু যে ভাগে চাষ করে, তার ভাগে কিছুই নেই। ২২০০ টাকার সার দিয়ে চাষ করতে হয়। পাননা কোনও সরকারি সাহায্য। এই অবস্থায় সারের দাম কমানোর আর্জি জানাচ্ছেন সকলেই। মুর্শিদাবাদের সিংহভাগ মানুষ কৃষিকাজের সাথে যুক্ত। কিন্তু এই চাষিদের ভবিষ্যৎই আজ অনিশ্চয়তার মুখে। ছবিটা সাগরদিঘি সহ ব্লকে ব্লকে একই। কৃষকদের পাশে দাঁড়াবে কারা? চাষ করে লাভের মুখ দেখতে না পেলে কেন করবেন চাষ? এইসব প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।