রাজ্য পুলিশের নিন্দা অধীরের, পাল্টা অপূর্ব

নিজস্ব সংবাদদাতা, বহরমপুরঃ জয়নগর কাণ্ডে এখনও পর্যন্ত একজন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ, মূল অভিযুক্ত এখনও অধরা। সেই প্রসঙ্গে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী রাজ্য পুলিশের তীব্র সমালোচনা করেন। পাল্টা পুলিশের প্রশংসা করেন তৃণমূলের মুর্শিদাবাদ সাংগঠনিক জেলার নয়া সভাপতি অপূর্ব সরকার। বৃহস্পতিবার দলের জেলা কার্যালয়ে বসে অধীর দাবি করেন, ” তৃণমূল দলকে বাঁচিয়ে রেখেছে পুলিশ। ওই দলের নেতা কে হবে, প্রধান কে হবে তা ঠিক করার সঙ্গে সঙ্গে দলের মধ্যে মারামারি হলে সব ঝামেলা মিটিয়ে দেবে কে? না পুলিশ।” তিনি আরও দাবি করেন, ” পুলিশ এবং প্রশাসন এই দুটি দিদির (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। দিদি আজকাল তাঁর কর্মীদের ওপর ভরসা করেন না। তিনি ভরসা করেন জেলায় জেলায় ডিএম এবং এসপি’র ওপরে। পাশাপাশি এসডিও এবং বিডিও’র সঙ্গে আইসির ওপরেও ইদানিং দিদির ভরসা বেড়েছে।” নিজের নিজের এলাকার আইসিরা এসপি’র মতো ক্ষমতা দেখান বলে বহরমপুরের সাংসদ দাবি করেন। তিনি বলেন, ” আইসিদের সরাসরি হাত রয়েছে কলকাতার সঙ্গে। শাসকদলকে খুশি রেখে নিজেদের পোস্টিং ঠিক রাখে। পুলিশ এবং তৃণমূল ক্রমশ সমার্থক হয়ে যাচ্ছে। অর্থাৎ পুলিশ মানেই তৃণমূল এবং তৃণমূল মানেই পুলিশ।”

স্বাভাবিকভাবেই অধীরের দাবি নস্যাৎ করেন তৃণমূলের মুর্শিদাবাদ সাংগঠনিক জেলার নয়া সভাপতি অপূর্ব সরকার। যদিও দিন কয়েক আগে নিজের দলের বিজয়া সম্মিলনীতে বেলডাঙায় জেলা পুলিশ ও প্রশাসনের কঠোর সমালোচনা করেছিলেন সংগঠনের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত এই চেয়ারম্যান। একশো আশি ডিগ্রি ঘুরে এদিন পুলিসের প্রশংসা করেন তিনি। বলেন, ” উনি তো (অধীর চৌধুরী) বরাবরই পুলিশকে কটাক্ষ করেন। মানুষকে বিভ্রান্ত করেন। এই পুলিশ করোনার সময় যখন রক্ত দিয়েছে, তখন এই অধীর বাবু দিল্লিতে বসে বিরিয়ানি খাচ্ছিলেন। পুলিশ সম্পর্কে হয়ত ওঁর ধারণা আছে। আর যদি না থাকে তাহলে এইসব বলে উনি মানুষের কাছে সিমপ্যাথি আদায় করছেন। এই পুলিশ প্রায় ২২ হাজার বোতলের বেশি রক্ত করোনার সময় জোগার করেছে। অধীর বাবুই বলুন কিংবা তাঁদের কংগ্রেস, এদের কিন্তু কাওকেই আমরা সে সময় খুঁজে পাইনি।’ পুলিশের সহায়তায় রাজ্য তথা জেলায় পাচার চক্র চলছে বলেও এদিন অধীর দাবি করেন। সেই অভিযোগও মানতে চাননি ডেভিড।