বেলডাঙার শতাব্দী প্রাচীন কার্ত্তিক লড়াই দেখতে মানুষের ঢল

মধ্যবঙ্গ নিউজ ডেস্কঃ শনিবার বেলডাঙাতে কার্ত্তিক লড়াইয়ে জনসমুদ্র। বিরাট বিরাট মূর্তি। ঢুলু ঢুলু চোখে ভক্তদের কাঁধে চেপে শহরের অলিগলি দিয়ে এগিয়ে আসছেন ভৈরব। ধুনোর গন্ধে মম করছে সমস্ত রাস্তা। কোথাও বা মা কালী বা কার্ত্তিক ঠাকুর আবার লক্ষ্মী। রাস্তার পাশে, বাড়ির ছাদে জনসমুদ্র। উচ্ছ্বাসে মেতেছে বেলডাঙাবাসী। নামেই বেলডাঙার কার্ত্তিক লড়াই। আদতে লড়াই না এ যেন এক মিলন ক্ষেত্র। কার্ত্তিক সংক্রান্তির দিন বেলডাঙার বিভিন্ন জায়গায় হয় কার্তিক পুজো আবার কোথাও ভৈরব পুজো। তার পর দিন অর্থাৎ শনিবার দিন প্রায় শতাধিক মূর্তির নিরঞ্জনকে ঘিরে যাবতীয় উন্মাদনা। মূর্তিগুলির গড় উচ্চতা ১২ থেকে ১৪ ফুট। সেগুলিকে কাঠামো-সহ বাঁশের মাচায় চাপিয়ে শহরের রাস্তা দিয়ে বাদ্যযন্ত্র-সহ শোভাযাত্রার দৃশ্য, যা দেখার মতো। আগে, জমিদার আমলে এই শোভাযাত্রাতে লাঠিয়ালরা অংশগ্রহণ করতেন লাঠিখেলা দেখাতেন। কোন বাড়ির লাঠি খেলা কত ভালো হত তা নিয়েই হত লড়াই।

তবে , কালের নিয়মে লোপ পেয়েছে লাঠি খেলা। এখন তাই কোন কমিটি কত ভাল শোভাযাত্রা করল, কে কত আধুনিক বাজনা বা আলো নিয়ে শোভাযাত্রা করল তা নিয়েই হয় বেলডাঙার শতাব্দী প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী কার্ত্তিক লড়াই। যা দেখতে মানুষের বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস। সুদূর ইসলামপুর থেকে এসেছেন দীপক চক্রবর্তী। তিনি জানান, আজ প্রায় ৩০ বছর ধরে তিনি আসছেন কার্ত্তিক লড়াই দেখতে। আগের থেকে অনেক পালটেছে যাত্রা, তবে প্রতিবারের আনন্দ যেন আলাদা। সারা বছরের রসদ পান এই শোভাযাত্রা থেকে।

বিরাট বিরাট মূর্তি নিয়ে হয় এই শোভাযাত্রা। বেলডাঙা নেতাজি মোড় হয়ে ছাপাখানা মোড় পর্যন্ত এই শোভাযাত্রায় ১৫০-এরও বেশি পুজো কমিটি তাঁদের ঠাকুর নিয়ে অংশগ্রহণ করেন। প্রশাসনের পক্ষেও নেওয়া হয় ব্যবস্থা। যাতে সুস্থভাবে এই শোভাযাত্রা হয় তার জন্য এইদিন এলাকায় মোতায়েন ছিল বিরাট পুলিশবাহিনী। এদিনের কার্ত্তিক লড়াই দেখতে সামিল হন বেলডাঙার বিধায়ক হাসানুজ্জামান সেখ। তিনি জানান প্রায় দুই লক্ষাধিক লোকের সমাবেশ হয় এই কার্ত্তিক লড়াইয়ের শোভাযাত্রায়। শোভাযাত্রা যাতে নির্বিঘ্ন হয় তার জন্য ব্যবস্থা নিয়েছে বেলডাঙা পুরসভাও। রাস্তাগুলিতে পর্যাপ্ত আলো থেকে শুরু করে জেনারেটরের ব্যবস্থা করা হয়েছে জানানো হয় পুরসভার পক্ষে। এদিন পুরপ্রধান অনুরাধা হাজরা ব্যানার্জীও উপস্থিত ছিলেন কার্ত্তিক লড়াইয়ের অনুষ্ঠানে।

শতাব্দী প্রাচীন এই কার্ত্তিক লড়াইয়ের শোভাযাত্রা দেখতে উপস্থিত ছিলেন বেলডাঙা ১ এর বিডিও। তিনি জানান এই শোভাযাত্রা সুস্থভাবে পরিচালনা করা প্রশাসনের কাছে চ্যালেঞ্জ যা তাঁরা প্রতিবারের মতো এবারেও করতে পারবেন বলেই আশাবাদী। বেলডাঙার এই কার্ত্তিক লড়াই দেখতে জেলা ও জেলার বাইরে থেকেও মানুষের ঢল নামে। শারদ উৎসবকে ঘিরে মানুষের উচ্ছ্বাস ও উন্মাদনাও তৈরি হয়, তারই প্রতিফলন দেখা যায় বেলডাঙার এই কার্ত্তিক লড়াইয়ে।