শীত সন্ধ্যায় শহরে উষ্ণতা ছড়াচ্ছে নবীন প্রবীণের চিত্র প্রদর্শনী

দেবনীল সরকার, বহরমপুরঃ কোথাও আলতামিরা, আবার কোথাও অজন্তা ইলোরার গুহাচিত্র। হরিণ শিকারের প্রাচীন ছবি থেকে শুরু করে উঠে এসেছে প্রাচীন সময়ের উপাখ্যান। এসবই ফুটে উঠেছে খুদেদের রঙ তুলিতে।

পাবলো পিকাসো বলেছিলেন, “প্রত্যেক শিশুই আসলে একজন শিল্পী। আমরা তাঁর বেড়ে ওঠাকে কতটা প্রভাবিত করছি, সেটাই তাঁকে শিল্পের পথ দেখাবে।” এদিন গ্যালারীর প্রতিটি ছবিতে খুদে শিল্পীরা তাঁদের মনের কথা প্রকাশ করেছে। যা ভবিষ্যতে আরও ক্ষুরধার হবে মনে করছেন দর্শকরা। প্রদর্শনী দেখতে এসেছিলেন শহরের এক প্রবীণ। তিনি জানান, কত সহজ এই ছবি। শিল্পী তাঁর মনের ভাবকে যেভাবে এক্সপ্রেস করেছে সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

‘গুহাচিত্র’ শীর্ষক এই প্রদর্শনীতে খুদে চিত্র শিল্পীদের আঁকা ২৪ টি ছবি ফ্রেমবন্দি করে প্রদর্শিত হল বহরমপুর পৌর আর্ট গ্যালারীতে। বহরমপুরের চিত্রশিল্পী কৃষ্ণজিৎ সেনগুপ্ত ও তাঁর তিন শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে একমাস ধরে খুদে শিল্পীদের নিয়ে হয় কর্মশালা। সেখান থেকেই উঠে আসে ‘গুহাচিত্র’ নামের এই প্রদর্শনীর ভাবনা। গত শনিবার শুরু হয়ে সোমবার পর্যন্ত চলল এই প্রদর্শনী। শহরের বুকে খুদেদের শিল্প কর্ম নিয়ে এই প্রদর্শনী সারা ফেলেছে। প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেছেন আর এক চিত্রশিল্পী মিজানুর খান।

এর পাশাপাশি বহরমপুর রবীন্দ্রসদনের মুক্তাঙ্গনেও চলছে চিত্রশিল্পী কৃষ্ণজিৎের একক প্রদর্শনী। ‘হে আমার আগুন’ নামে এই প্রদর্শনীতে উঠে এসেছে দেশলাই-এর নিজস্ব আখ্যান। কোথাও একটা পুড়ে যাওয়া দেশলাই আঁকড়ে ধরেছে একটা খরচ না হওয়া দেশলাইকে, আবার বালিশের ওপরে বিশ্রামরত দেশলাই – এসবই উঠে এসেছে শিল্পীর ভাবনায়।

এখন বহরমপুর চিত্র প্রদর্শনীর সংখ্যা আগের থেকে বৃদ্ধি পাচ্ছে এই বিষয়ে শিল্পী কৃষ্ণজিৎ বললেন, আগের থেকে শহরে ছবি দেখানোর পরিসর বেড়েছে। উন্নত আর্ট গ্যালারী হয়েছে, তাই শহরের চিত্রশিল্পীরা এগিয়ে আসছেন। আমরা চাই এই সংখ্যাটা আরও বাড়ুক।