এক্সট্রা পেঁয়াজে ‘নেহি মিলেগা’ ! পলসন্ডায় মুখ ভার তরকা রুটির ধাবায়

শুভরাজ সরকারঃ ০২ নভেম্বরঃ “ রুটি তরকা আর পেঁয়াজ লঙ্কা” , কম্বিনেশন যেন মানিকজোড় । রুটি তরকার জন্য নাম করেছে মুর্শিদাবাদের পলসন্ডা । দুরপাল্লার ট্রাক ড্রাইভার থেকে শখরের চারচাকার সওয়ারিদের উদরপুর্তির  ঠিকানা হয়ে উঠেছে ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কের উপরে পলসন্ডা। জাতীয় সড়কের দুই ধারে গড়ে উঠেছে একের পর এক ধাবা । ঘন্টায় ঘন্টায় অর্ডার হচ্ছে ‘রুটি তরকা’, ‘চিকেন কষা’ । কিন্তু তার সাথে পেঁয়াজ যে মাস্ট !  আর সেই পেঁয়াজের যোগান দিতে কালঘাম ছুটছে ধাবা মালিকদের।  বাজারে পেঁয়াজের দামে আগুন। খোলা বাজারে পেঁয়াজের দাম ঘোরাফেরা করছে ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি। এক মাস আগেও যেখানে ২৫ থেকে ৩০ টাকায় পেঁয়াজ পাওয়া গিয়েছে, সেখানে সেঞ্চুরি ছুঁইছুঁই দামে পেঁয়াজ কিনতে হাত পুড়ছে মধ্যবিত্তের। বিপাকে ধাবা, হোটেলের মালিকরাও।

পলসন্ডার  ধাবা মালিকরা জানান,  প্লেট পিছু আধখানা করে পেঁয়াজ দেওয়া যাচ্ছে। কিন্তু আর না। আগে যেখানে খাওয়ার মাঝেও পেঁয়াজ লঙ্কা লাগবে নাকি সেই খোঁজ নিতেন ওয়েটাররা। সেই বিনয় বন্ধ হয়েছে মূল্যবৃদ্ধির দাপটে। পলসন্ডা মোড়ের  সালুজা পাঞ্জাবি  ধাবার কর্ণধার যশবিন্দর সিংহ  বলেছেন, “ আমাদের সমস্যা হচ্ছেই। আগে দু’টো তিনটে পেঁয়াজ দিতাম। এখন একটাই পেঁয়াজ দিতে হচ্ছে। তবে কাস্টমাররাও বুঝছেন”।  তবে তাঁর দাবি, রান্নায় পেঁয়াজ দিতে কার্পণ্য করছেন না তিনি। এই ধাবায় কাঁচা খাওয়ার জন্য প্রতিদিন পেঁয়াজ কেনা হয় পঞ্চাশ কেজি। রান্নায় পেঁয়াজ লাগে প্রায় এক কুইন্টাল। তবে পেঁয়াজ কেনার পরিমাণ কমাতে হয়েছে। যশবিন্দর জানান, এদিনই পেঁয়াজ কিনেছেন ৭০ টাকা কেজি।

পলসণ্ডারই  অন্য এক ধাবার কর্মচারী প্রণব দাস জানান, ইচ্ছে মতো পেঁয়াজ না মেলায় গ্রাহকদের মুখভার তো হচ্ছেই। আমরাও বোঝানোর চেষ্টা করছি। বৃহস্পতিবার দুপুরে পলসন্ডায় খেতে দাঁড়িয়েছিলেন বিহারের বাসিন্দা, পেশায় ট্রাকচালক প্রকাশ সিং। তিনি জানান, কাল উত্তরদিনাজপুরে একটা হোটেলেও এক্সটা পেঁয়াজ চেয়ে পান নি। আজ পলসন্ডাতেও একই ছবি। “ইচ্ছেমতো কাঁচা পেঁয়াজ না পেলে কি রুটু তরকা জমে ?”, প্রশ্ন তরুণ ট্রাক চালকের। উত্তরপ্রদেশ থেকে আসা ট্রাক চালক বিনয় সিং জানান, “ পেঁয়াজের এতো দাম দেখে চাইতেও  সাহস হচ্ছে না। আবার খাওয়া সেরেও সন্তুষ্টি হচ্ছে না”। তবে পেঁয়াজের ব্যবসায়ীদের দাবি, সেঞ্চুতি ছুঁয়ে যেতে পারে পেঁয়াজের দাম। আশঙ্কার কথা শুনে ধাবা মালিকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ।