NSD-র পাঠানো নাটক মঞ্চস্থ করা নিয়ে দোলাচলে বহরমপুরের নাট্যসংস্থাগুলি

বসুধৈব কুটুম্বকম, বিকশিত ভারত ও পঞ্চপ্রাণ। এই তিন বিষয় থেকে বেছে নিয়ে একটি স্বল্প দৈর্ঘের নাটক করে পাঠাতে হবে।

নিজস্ব সংবাদদাতা, বহরমপুরঃ বিষয় নির্দিষ্ট করে নাটক তৈরির ফরমান জারি করেছে কেন্দ্র। কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে সেই নির্দেশ এসেছে ন্যশনাল স্কুল অব ড্রামা বা NSD-র পক্ষ থেকে। রাজ্যের যে সমস্ত নাট্য দল কেন্দ্র সরকারের গ্রান্ট পায় তাদেরকে সেই চিঠি NSD-র পক্ষ থেকে পাঠানো হয়েছে। তাদের মধ্যে বহরমপুরের বেশ কিছু নাট্য দলও আছে। তাদের মধ্যে অনেকের সরকারি গ্রান্ট পাওয়া বন্ধও হয়ে গিয়েছে। এদিকে NSD-র নির্দেশ নিয়ে ইতিমধ্যেই সরব হয়েছেন রাজ্যের মন্ত্রী তথা নাট্য ব্যক্তিত্ব ব্রাত্য বসু। তাঁর অভিযোগ, “কেন্দ্র সরকার ভোটের আগে এই ধরনের নির্দেশ পাঠিয়ে প্রধানমন্ত্রীর গুণগান প্রচার করতে বাধ্য করছে নাট্য দলগুলিকে। যারা ওই নির্দেশ মানবে না তাদের গ্রান্ট বন্ধ করে দেওয়া হবে।”

তবে বহরমপুরের নাট্য সংস্থা যারা কেন্দ্র সরকারের ওই গ্রান্ট পায় তারা অবশ্য রাজ্যের মন্ত্রীর ওই কথা সম্পূর্ণ মানছেন না। তাদের বক্তব্য নির্দেশে তিনটি বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। বসুধৈব কুটুম্বকম, বিকশিত ভারত ও পঞ্চপ্রাণ। এই তিন বিষয় থেকে বেছে নিয়ে একটি স্বল্প দৈর্ঘের নাটক করে পাঠাতে হবে। জেলার অন্যতম নাট্য ব্যক্তিত্ব যাদের রাজ্য জুড়ে পরিচিতি রয়েছে সেই প্রদীপ ভট্টাচার্য ও সন্দীপ ভট্টাচার্য দুই ভাই-ই তা স্পষ্ট করেছেন।

প্রদীপ বলেন, ” এমন কোনও লিখিত নির্দেশ আসে নি। আর কেন্দ্র তা লিখিতভাবে পাঠাতেও পারে না। এটা হাওয়ায় ভাসিয়ে দেওয়া হচ্ছে।” সন্দীপও বলেন, ” এইরকম কোনও কথা চিঠিতে উল্লেখ নেই। আমরা রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নই। তাই বিষয়টিকে নাটক ব্যতিত অন্যকোনওভাবেই দেখছি না।” তবে কেন্দ্রের পাঠানো নির্দেশ মেনে হুবহু নাটকটি না করলেও ওই ভাবের যে একটি নাটক নির্দেশের প্রেক্ষিতে করবেন তা অবশ্য স্পষ্ট জানিয়েছেন “রঙ্গাশ্রম”-এর কর্ণধার সন্দীপ। রেপার্টারি থিয়েটারের কর্ণধার প্রদীপ অবশ্য বলেন, “আমি এখনও কোনও সিদ্ধান্ত নিই নি। যদি নাটক করিও তবে তা RSS-এর বিরুদ্ধেই করব আর তা সবাইকে জানিয়েই করব।”

গত দু’বছর ধরে কেন্দ্র সরকারের গ্রান্ট পায় না ঋত্বিক নাট্য সংস্থা। ওই সংস্থার পরিচালক বিপ্লব দে বলেন, “আমরা ওই নাটক করব কি করব না তা সিদ্ধান্ত নিই নি। তবে যা পাঠানো হয়েছে তা যে বিতর্কমুলক এমন কিছু নজরে পড়ে নি।”