কাদের হাত থাকবে পঞ্চায়েত ? ক্ষমতার দ্বন্দ্বেই ফাটল তৃণমূলে ?

নিজস্ব সংবাদদাতা, বহরমপুরঃ  পঞ্চায়েতে গোঁজ প্রার্থী এড়াতে মোক্ষম চাল দিয়েছিল তৃণমূল। মনোনয়নের শেষ দিনের আগেই আনা হয় পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি, জেলা পরিষদের দলের প্রার্থী তালিকা। তবেই সেই চালকে মাৎ দিলেন দলের নেতারাই। বৃহস্পতিবার ব্লকে ব্লকে মনোয়ন দিলেন তৃণমূলেরই  নির্দল প্রার্থীরা।  নির্দল প্রার্থী দাঁড় করিয়ে দলের প্রার্থীদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ লড়াইয়ের হুঁশিয়ারি দিলেন ভরতপুরের তৃনমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবির।

পঞ্চায়েতে তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা ঘোষোণা হতেই  বিস্ফোরক , ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবির, রেজিনগরের বিধায়ক রবিউল আলম চৌধুরী, নওদার বিধায়ক শাহিনা মমতাজ, জলঙ্গীর বিধায়ক আব্দুর রাজ্জাক। মুর্শিদাবাদের বেলডাঙ্গায় তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলন ডেকে কার্যল দলীয় নেতৃত্বকেই কাঠগড়ায় তুললেন চার বিধায়ক। পঞ্চায়েত ভোটে নির্দল প্রার্থী দাঁড় করানোর হুমকি। দলকে হুঁশিয়ারি চার বিধায়কের।

ভরতপুরের তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবিরের দাবি, ভরতপুরে বিধানসভা এলাকায় সব আসনেই নির্দল প্রার্থী দাঁড় করাবেন তিনি। হুমায়ুন কবির নাম করেই তোপ দেগেছেন কান্দির বিধায়ক, দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অপূর্ব সরকার, তৃণমূলের মুর্শিদাবাদ বহরমপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি শাওনি সিংহ রায়ের দিকে। হুমায়ুনের দাবি, ইচ্ছামতো প্রার্থী করছেন নেতারা।

আবার নিজের অনুগামীদের নিয়ে ভোট থেকে সরে দাঁড়াবেন বলে হুমকি দিয়েছেন রেজিনগরের বিধায়ক রবিউল আলম চৌধুরী। হুমায়ুনের পাশে বসেই রবিউল বলেন,   ”  তৃণমূলের লিস্টে যাদের নাম রয়েছে তাঁরা যদি ভোটে টিকিট পায় তাহলে আমি ভোট থেকে সরে দাঁড়াব । সবাই প্রার্থী তুলে নেব তাতে যদি ক্যান্ডিডেট কম হয় তাহলে তাই  হবে” ।

বিধায়কদের বিদ্রোহে কার্যত অস্বস্তিতে তৃণমূল কংগ্রেস। শাওনি সিংহ রায়ের দাবি,  বড় জেলা মুর্শিদাবাদ। সবাই চাইছে প্রার্থী হতে। ব্লক সভাপতি, বিধায়ক্ম, অঞ্চল সভাপতি সহমত হয়েই প্রার্থী ঘোষণা করার কথা ছিল। সেভাবি কাজ হয়েছে। সাংগঠনিক দক্ষতা দেখিয়েই বেশকিছু সিটে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ব্লক সভাপতিরা। শাওনির দাবি, মতবিরোধ হওয়ায় স্বাভাবিক তবে দুর্ভাগ্য এটাই যে বারবার বসেও সহমত হওয়া যায় নি। বিধায়কদের বিদ্রোহ , নির্দল প্রার্থী ঘোষণা নিয়ে শাওনির দাবি, দলের লিস্ট অনুসারে নমিনেশন হয়েছে। যাদের নাম এসেছে তাদের নামেই সিম্বল দেবে দল। তবে সবাই ঐক্যবদ্ধ ভাবেই থাকবেন বলে আশা শাওনির।  তবে কী হবে নির্দল প্রার্থীদের নিয়ে ? শাওনি সিংহ রায়ের দাবি, পৌরসভা নির্বাচনের সময়ের নির্দল প্রার্থীদের ফেরায় নি দল। মানা হবে সেই নিয়মই।

তবে জেলা সভাপতির বয়ানে ভরসা পাচ্ছেন না দলের কর্মীদের একাংশই। তৃণমূলের পুরোনো কর্মীদের আশঙ্কা, পঞ্চায়েত বেকায়দায় পড়তে পারে দল। লাভের গুড় খেতে পারে বিরোধীরা। রাজনৈতিক মহলের খবর, পঞ্চায়েতের দখল থাকবে কার হাতে ? সেই নিয়েই আসল দ্বন্দ্ব তৃণমূলে। সেই দ্বন্দ্বই উঠে আসছে দুই পক্ষের ফাটল। তবে রাজনীতির হাওয়া কোন দিকে বইবে  ? সেই দিকেই নজর জেলার রাজনৈতিক মহলে।