দিদির সভায় আসতেই পারলেন না বহু তৃণমূল কর্মী, মাঝপথেই শুনলেন সভা শেষ

নিজস্ব সংবাদদাতা, বহরমপুরঃ মুখ্যমন্ত্রীর সভার সময় নিয়ে মঙ্গলবার রাত থেকেই বিভ্রান্তি ছড়িয়েছিল। ওইদিনই শোনা গিয়েছিল বহরমপুরে মুখ্যমন্ত্রীর স্টেডিয়ামের সময় ঘন্টা দুয়েক এগিয়ে আসছে। প্রাথমিকভাবে ঠিক ছিল বুধবার বিকেল চারটের সময় মুখ্যমন্ত্রী সরকারি পরিষেবা প্রদান অনুষ্ঠান করবেন। কিন্তু মঙ্গলবার রাতের পর বুধবার সকালে ফের খবর আসে সভার সময় আরও এগিয়ে হয়ে যায় দুপুর একটা। এর ফলে কি প্রশাসনের স্তরে কি দলীয় স্তরে অগোছালো হয়ে যায় পুরো প্রস্তুতি।

এমনিতে মুর্শিদাবাদের উত্তরাংশ থেকে বহরমপুর পৌঁছতে অনেক সময় লাগে। সকাল দশটায় বেরলে বহরমপুরে জমতে জমতে কমপক্ষে ঘন্টা তিনেক সময় লাগবে ফরাক্কা থেকে। সেই হিসেবে ওইদিকের নেতারা কর্মী সমর্থকদের একটা সময় বেঁধে দিয়েছিলেন। সেই সময়ে বলা হয়েছিল বাস, ট্রেকর, ছোট গাড়ি। কিন্তু মঙ্গলবার রাত থেকে হিসেবটা বদলে যায়। হাঁকডাক করে বেলা একটার আগে সভায় পৌঁছতে হলে যে প্রস্তুতি দরকার ছিল তা কেউ নিতে পারলেন কেউ পারলেন না।

মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠক শুরু হল যখন তখন অবশ্য দু’টো পেরিয়ে গিয়েছে। ট্রেনে করে অনেকেই এলেন। কিন্তু তার সংখ্যা কম। বাসে করে যাঁরা আসবেন ভেবেছিলেন ত তাদের কেউ পৌছলেন সময়। কেউ এলেন মুখ্যমন্ত্রীর সভা শুরুর সময়ে। কেউ এলেন সভা শেষে। খড়গ্রাম, ফরক্কা, জঙ্গিপুর, সুতি, শমসেরগঞ্জের বহু মানুষ বহরমপুরে ঢোকার মুখে শুনলেন সভা শেষ। বাসে আসতে আসতে মুখ্যমন্ত্রীর ফেসবুক পেজের লাইভ অনুষ্ঠান দেখতে সহ যাত্রীদের জানিয়ে দিলেন দিদি কোথায় কত টাকার শিলান্যাস করেছেন কোথায় কোন প্রকল্পের উদ্বোধন করেছেন। 

খড়গ্রাম থেকে সজল মন্ডল যখন বহরমপুর স্টেডিয়ামের রাস্তা ধরেছেন তখন মঞ্চে সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে সভা শেষ করছেন মুখ্যমন্ত্রী। তার পিছনে দলীয় পতাকা হাতে তৃণমূলের লম্বা মিছিল। মুখোমুখি হতেই বললেন, “জলে গেল নেতার টাকা।” আবার ভরতপুর থেকে নীল সাদা বেলুন, ঘাসফুল আঁকা পতাকা নিয়ে বহরমপুর কলেজ পেরোচ্ছেন আনুমানিক শো তিনেক মানুষ, পুলিশ তখন ব্যস্ত মুখ্যমন্ত্রীর পদযাত্রার প্রস্তুতি নিতে।

মুখ্যমন্ত্রীর সভার শেষে স্টেডিয়াম পৌঁছলেন তৃণমূল কর্মীরা। নিজস্ব চিত্র

অথচ জেলার কোনও প্রান্তে চলাচলের জন্য আজ বুধবার বাস পাননি সাধারণ মানুষ। জেলা প্রশাসন ও সরকারি দল মিলিয়ে প্রায় সাড়ে পাঁচশো থেকে ছ’শো বাস ভাড়া নিয়েছে বলে জানান বাস মালিক সংগঠনের সম্পাদক তপন অধিকারী। সরকারি ভাবে নির্বাচন উপলক্ষে যে ভাড়া পেয়ে থাকেন সেই টাকাতেই বাস ভাড়া পেয়েছে প্রশাসন। সেটা প্রায় বাইশশো থেকে আড়াই হাজারের কাছাকাছি। আর দলের নেতারা বাস ভাড়া করেছেন প্রায় হাজার পাঁচ ছয় টাকার বিনিময়ে। ভাড়ার দরে পিছিয়ে ছিল না ছোট গাড়িও।

সব দেখে শুনে বহরমপুর সংশোধনাগারের কাছে রাখা রঘুনাথগঞ্জ থেকে আসা জনা আটেকের একটি দল আক্ষেপ করে বললেন, “রাস্তাতেই কেটে গেল।দিদির সভা আর শোনা হল না।”