Loksabha Election : পরিবেশ কি এবার বহরমপুর লোকসভা ভোটের ইস্যু হতে চলেছে ?

Loksabha Election  পরিবেশ কি এবার বহরমপুর লোকসভা ভোটের ইস্যু হতে চলেছে ? দিন কয়েকের রাজনৈতিক তরজায় শাসকদলের নেতা থেকে আমজনতার সামনে উঠে আসছে এমনই প্রশ্ন। সাবমার্সিবল পাম্পের (submersible pump)   মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ জল তুলে পানীয় জলের প্রকল্প থেকে জলাভূমি রক্ষার আন্দোলন সেটাই যেন নতুন জল্পনা উস্কে দিচ্ছে ।

সপ্তাহভর বহরমপুরের সাংসদ অধীর চৌধুরী ( Adhir Ranjan Chowdhury)  সংবাদ মাধ্যমের সামনে দাবি করছেন তাঁর তহবিলের টাকা আটকে দিচ্ছে। বহরমপুর পৌরসভার চেয়ারম্যান নাড়ুগোপাল মুখার্জির দাবি, পরিবেশ আইনের কারণেই অনুমতি দেয় নি প্রশাসন।
প্রশাসন পরিবেশের দোহাই দিয়ে, আর তাই নিয়ে আন্দোলন শুরু করেছেন কংগ্রেস কর্মীরা।

বুধবার সকালে বহরমপুরের খাগড়ার মোল্লাগেড় এলাকা পরিদর্শনে যান সাংসদ। সেখানে গিয়ে তৃণমূল কর্মীদের বিক্ষোভের মুখে পড়েন অধীর। দেওয়া হয় গো ব্যাক স্লোগানও। তারপরেই সাংসদ তহবিলের টাকা খরচ করতে পারছেন না বলে অভিযোগ তোলেন অধীর।
এদিন অধীর চৌধুরী দাবি করেছেন, জেলা শাসক চেয়েছিলেন সুইমিং পুলের জন্য সাংসদ তহবিল থেকে টাকা বরাদ্দ হোক। অধীর রাজি হন নি। অধীরের আরও দাবি, খাগড়ার মোল্লাগেড় এলাকায় পানীয় জলের ব্যবস্থা করছেন তিনি। কিন্তু অনুমতি দিচ্ছে না প্রশাসন।
পালটা বহরমপুর পৌরসভার চেয়ারম্যান নাড়ু গোপাল মুখার্জী এদিন বলেছেন, ” সোলার লাইট ও জলের কাজে বড় দুর্নীতি লুকিয়ে রয়েছে। এই কাজ থেকে এনজিও’র মাধ্যমে ব্যবসা করা হচ্ছে। নিয়ম আছে সাবমার্সাবল পাম্প বসানো যায় না। একজন আইন সভার সদস্য হয়ে আইন ভাঙছেন তিনি”।
বিজ্ঞানমঞ্চ থেকে জলাভূমি রক্ষা কমিটি শাসকদলের পক্ষ থেকে পরিবেশহানী করে পানীয় জলের টিউবওয়েল বসানোর প্রশ্নে কার্যত সহমত হয়েছেন। বিজ্ঞান মঞ্চের তপন সামন্ত বলেন, মাটির নীচের জন পানীয় জল হিসেবে ব্যবহার করার থেকে ভূপৃষ্ঠস্থ জল ব্যবহার করাই ভালো। সাবমার্সিবল পাম্প বসা মানে ভূগর্ভস্থ জল তো কমেই যায়।

দিন দুয়েক ধরে জলাভূমি রক্ষা কমিটির আন্দোলনকে কটাক্ষ করছেন বহরমপুর পুরসভার চেয়ারম্যান নাড়ুগোপাল মুখার্জি । তাঁর অভিযোগ লোকসভা ভোটের আগে অধীর চৌধুরীর এই পরিবেশ বিরোধী কার্যকলাপে কেন উদাসীন জলাভূমি রক্ষা কমিটি ?

জলাভূমি রক্ষা কমিটি গোটা বিষয়টিতে চরম অস্বস্তিতে। পাল্টা চাইছেন লোকসভা নির্বাচন হোক পরিবেশ ইস্যুকে সামনে রেখেই। যদিও তারা কোনও ভাবেই রাজনৈতিক তরজায় থাকতে নারাজ।
জলাভূমি রক্ষা কমিটির সম্পাদিকা শিল্পী সেন বলেছেন, ” এটা দুই রাজনৈতিক দলের মধ্যে কথাবার্তা , আমরা দলীয় রাজনীতির সাথে সংশ্রব রাখতে চাই না। তাই এই বিষয়ে আমাদের কোন বক্তব্য নেই। আমরা লোকসভা নির্বাচনের আগে চাই, পরিবেশ রাজনীতিবিদদের কাছে গুরুত্ব পাক”।