অধীর সেলিম তরজার নেপথ্যে কি লোকসভা ভোটে মুর্শিদাবাদের আসন বন্টন?

বিদ্যুৎ মৈত্র , বহরমপুরঃ যুবদের ইনসাফ যাত্রায় পা মিলিয়ে রানিনগরে কংগ্রেসকে খোঁচা দিয়েছিলেন সিপিএমের রাজ‍্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। বলেছিলেন, “আমরা যখন চোর ধরো জেল ভরোর কথা বলছি তখন চোর কংগ্রেসের পা ধরে বলছে দাদা আমাদের বাঁচাও।” শনিবার পাল্টা তোপ দেগেছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী।  তিনি বলেন, “স্পষ্ট করে শুনে রাখুন রাজ‍্যে তৃণমূল বিজেপির বিরুদ্ধে কংগ্রেস একাই নির্বাচনে লড়তে পারে।” নিভু নিভু উৎসবের আলোয় হঠাৎ দুই প্রবীণ নেতার বাকযুদ্ধ কী নয়া বাঁক বাম-কংগ্রেস জোটে? প্রশ্ন ওয়াকিবহাল মহলের।

নতুন বছরেই দেশের ১৮ তম  লোকসভা নির্বাচন। সে দিকে তাকিয়ে ইতিমধ্যে নিজেদের ঘর গোছাতে লেগেছে সব রাজনৈতিক দল। এনডিএ- বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোট নিয়ে ইতিমধ্যেই সরগরম দিল্লি থেকে দমদম। এখনও আসন বন্টন চুড়ান্ত হয়নি ‘ইন্ডিয়া’র । তবে বাংলায় তৃণমূলের বিরোধী হিসেবে কিছুদিন আগেও বাম কংগ্রেস নেতারা জোটের পক্ষেই সওয়াল করেছিলেন। মুর্শিদাবাদের নেতারাও চাইছিলেন জোট বেঁধেই ভোটে নামুক বাম-কংগ্রেস। হঠাৎ কী এমন হল যে তাল কাটল জোটে? লোকসভা নির্বাচনে আসন বন্টন নিয়ে দুই দলের দর কষাকষিই নেপথ্যের কারণ হিসেবে উঠে আসছে। মুর্শিদাবাদ জেলায় তিনটি লোকসভা আসন‌। বহ‍রমপুর, মুর্শিদাবাদ ও জঙ্গিপুর। অধীর বহরমপুরের সাংসদ। জোটের শর্তে কোন আসন কে কাকে ছাড়বে এই নিয়ে ইতিমধ্যে দুই দলের অন্দরে শুরু হয়েছে স্নায়ুর লড়াই।

পাঁচ বছর আগের নির্বাচনে একাই লড়েছিল দুই দল। সেবার মুর্শিদাবাদের তিন আসনেই কংগ্রেসের বিরুদ্ধে প্রার্থী দিয়েছিল বামফ্রন্ট। যা অধীর সেনার চোখে ছিল “ভোট কাটার ষড়যন্ত্র”। বহরমপুরে আর এসপি প্রার্থী ইদ  মহম্মদ ১৩ হাজার ৩৬২টি ভোট পেয়েছিলেন। শতাংশের হিসেবে ১.০৪ শতাংশ। সবচেয়ে বেশি ১২.৫৭ শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন মুর্শিদাবাদের বামফ্রন্ট প্রার্থী বদরুদ্দোজা খান। সিপিএমের সমর্থন নিয়েও  মাত্র ৮০ হাজার ৬৯৬ ভোটে তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী তৃণমূলের অপূর্ব সরকারকে পরাজিত করেছিলেন অধীর। তৃণমূলের বহরমপুর মুর্শিদাবাদ সাংগঠনিক জেলার সভাপতি অপূর্ব এদিন বলেন, “বহরমপুরে বামেদের ভোট আছে কংগ্রেসের থেকে বেশি। সেই ভোটেই জেতে অধীর”।

২০২১ এ মুর্শিদাবাদ জেলার ২২ টি বিধানসভা আসনের মধ‍্যে ২০টি দখল করেছিল তৃণমূল। বাকি দুটি পেয়েছিল বিজেপি‌ বাম ও কংগ্রেস উভয়েই মেরুকরণের ভোট হয়েছে বলে দাবি করেছিল। পুরসভাও হাতছাড়া হয়েছে তাদের। পরে সাগরদিঘির উপ-নির্বাচনে বামেদের সমর্থনে কংগ্রেস প্রার্থী দিয়েছিল। সেবার জয় ও পেয়েছিল কংগ্রেস। কিন্তু জয়ী বিধায়ক বাইরন বিশ্বাসকে ধরে রাখতে পারেনি কংগ্রেস। পঞ্চায়েত নির্বাচনে মুর্শিদাবাদে এককভাবে চারটি পঞ্চায়েত পেয়েছে বামেরা। কংগ্রেস পেয়েছে ১০টি। কংগ্রেসের সমর্থনে জেলায় ১২টি পঞ্চায়েতের ক্ষমতা পেয়েছে বামেরা। তেমনি বামেদের সমর্থনে জেলার ৩১টি পঞ্চায়েত পরিচালনার ভার পেয়েছে কংগ্রেসও। এই সমীকরণ লোকসভা নির্বাচনেও কি বহাল থাকবে? নির্বাচনের মাস কয়েক আগে পরিস্থিতি এমন জায়গায় গিয়েছে ২০১৯ এর মতো ২০২৪এও জোট ছাড়াই পথে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুযুধান দুই শিবির বাম ও কংগ্রস বলছেন রাজনীতির কারবারিরা।