খড়গ্রামে ফের ভোট উৎসবে বলি ১ । এক ভোটে ৩ প্রাণহানি

মধ্যবঙ্গ নিউজ ডেস্কঃ  সেই খড়গ্রাম। এক ব্লকেই ভোট উৎসবের বলি ৩ প্রাণ। নির্বাচনের মনোনয়নের প্রথম দিন যে খড়গ্রামে রতনপুর নলদ্বীপ গ্রামে প্রাণ গিয়েছিল কংগ্রেস কর্মী ফুলচাঁদ শেখ , তৃণমূলের বিরুদ্ধে উঠেছিল অভিযোগ ।
যে খড়গ্রাম থেকে ভোটের দিন সকালে এসেছিল হত্যার খবর। ভোটের ভোরে জমি থেকে উদ্ধার হয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী সাবিরুদ্দিন শেখের দেহ। অভিযোগ উঠেছিল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে। আগের খুনের পালটা হিসেবেই নাকি ওই খুন। এবার সেই খড়গ্রামেই রুহিগ্রামে প্রাণহানী পঞ্চায়েতে প্রধান নির্বাচনের দিনেও। এবার তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর কোন্দলে প্রাণ গেল যুবকের। খড়গ্রাম ব্লকের সাদল গ্রাম পঞ্চায়েতে প্রধান নির্বাচনের বিজয় মিছিল থেকে ফিরছিলেন তৃণমূল কর্মীরা। সেই সময় চায়ের দোকানে বসে থাকা তৃণমূলেরই কর্মী হুমায়ুন কবির খামারুকে কুপিয়ে খুন। এই পঞ্চায়েতে কংগ্রেসের হয়ে জিতেছিলেন হুমায়উন কবিরের মা সানুয়ারা খামারু। ৬ আগস্ট তৃণমূলে যোগ দেন তিনি। তৃণমূলের দিকেই অভিযোগ করছে পরিবার।

হত্যার পিছনে উঠে এসেছে সেই গ্রাম দখলের রাজনীতি। এদিন সাদল গ্রাম পঞ্চায়েতে প্রধান নির্বাচিত হন তৃণমূলেরই রাজবানু খাতুন । তৃণমূল সূত্রের খবর, প্রধান নির্বাচন ঘিরে তৃণমূলের দুই পক্ষের মধ্যে হয় ভোটাভুটি। প্রধান নির্বাচনের জিতে হামলা হয় পরাজিত পক্ষের উপর । দলকেই নিশানা করেছেন তৃণমূলের জয়ী পঞ্চায়েত সমতি প্রার্থী মঞ্জু আখতার বিবিও।
বিজয় মিছিল থেকে ফেরার পথেই খুন। মেনে নিয়েছেন তৃণমূলের জঙ্গিপুর সাংগঠনিক জেলার চেয়ারম্যান, নবগ্রামের বিধায়ক কানাই মণ্ডল। কানাই মণ্ডল বলেন, বিজয় মিছিল থেকে ফেরার পথে কারো প্রতিহিংসা থেকে এই খুন হয়েছে। তৃণমূল এই ঘটনার নিন্দা করছে। এই ঘটনা বেদনাদায়ক। কানাই মণ্ডল বলেন, দলের লোক অপরাধ করলেও সেই অপরাধের ক্ষমা নেই। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবে পুলিশ।
এদিন সকাল থেকেই থমথমে গ্রাম। মোতায়েন রয়েছে পুলিশ। পুলিশের বিরুদ্ধে বিক্ষোভও দেখান গ্রামের মানুষ। তবে প্রশ্ন উঠছে, কেন এত প্রানহানি  ? কেন এত রক্ত ঝড়ছে তৃণমূলস্তরে গণতন্ত্রের সব থেকে বড় উৎসবে ?