সিবিআই তল্লাশি ঢাকতেই কি জাফিকুলের জমকালো জন্মদিন পালন?

বিদ্যুৎ মৈত্র, বহরমপুরঃদিন ছয়েক আগে সিবিআই আধিকারিকদের দাপাদাপিতে কেঁপে উঠেছিল ডোমকলের গোবিন্দপুর। সীমান্তের ওপারে রাজশাহীও টের পেয়েছিল এ দেশের দুঁদে গোয়েন্দাদের তীক্ষ্ণ দৃষ্টির। কিন্তু যাঁর বাড়িতে নিয়োগ দুর্নীতির তদন্ত করতে মাঠে নেমেছিল কেন্দ্রের পুলিশ, ডোমকলের সেই বিধায়ক জাফিকুল ইসলাম সেদিন বাড়িতেই ছিলেন না। সিবিআই র‍্যাডারে থাকলেও নিজেকে ধরাছোঁয়ার বাইরে রেখে “চোর-পুলিশ” খেলা করেছেন গোয়েন্দাদের সঙ্গে। টানা ১৩ ঘন্টা বিধায়কের বাড়ি, বিধায়ক প্রতিষ্ঠিত একাধিক কলেজ ঢুঁরেও “কোনও কেউটের খোঁজ পাননি, হেলে নিয়ে” ফিরে গিয়েছিলেন সিজিও কমপ্লেক্সে, দাবি রাজ্যের শাসকদলের জেলা নেতাদের। শিক্ষা ব‍্যবসায়ীর বাড়ি থেকে  উদ্ধার হয়েছে ২৮ লক্ষ টাকা, আর কিছু গহনা, দাবি করেছিলেন সিবিআই আধিকারিকরা।

গাঁয়ের ছেলেটাও জড়িয়ে গেল দুর্নীতিতে? সেদিন এই প্রশ্নে রাত কাটিয়েছিলেন ডোমকলবাসী।  কেউ কেউ কল্পনার উড়ানে সেদিন আশমান ফুঁড়ে চলে গিয়েছিলেন মহাকাশেও। সন্দেহ জমাট বেঁধেছিল জাফিকুল সেদিন বাড়ি না ফেরায়। জাফিকুলের দলের সহযোদ্ধারা বলছেন এম এল এ হস্টেলেই ছিলেন বিধায়ক। সিবিআই অবশ্য সেদিকটা ঝুঁকেও দেখেননি। কেন? তা নিয়েও জল্পনা থেমে থাকেনি‌।

বিধায়কের জন্মদিন উপলক্ষে আনা হয়েছিল বিশালায়তনের কেক।

তবে জাফিকুল ফিরেছেন নিজের বাড়িতে। শুধু ফিরেছেন না, সদর্পে খুলেছেন বাড়ির সদর দরজা। নিজের জন্মদিনকে হাতিয়ার করে জন সংযোগের পাশাপাশি এলাকাবাসীর চোখ যাচাই করেছেন। স্থানীয় জনসভায় উপস্থিত ছিলেন। পাল্টা নিজের দলের বিরোধী গোষ্ঠী ও অন‍্য বিরোধী দলকে আড়চোখে নিজের শক্তির পরিচয় দিয়েছেন স্বভাব সিদ্ধ ভঙ্গিতে। তবে এ বিষয়ে তিনি কিছু বলতে চাইছেন না বলেও জানিয়েছেন। কিন্তু বিরোধীরা কটাক্ষ করতে ছাড়ছেন না। মুর্শিদাবাদ জেলা কংগ্রেসের মুখপাত্র জয়ন্ত দাস বলেন, “ যেভাবে আতসবাজী পুড়িয়ে ডোমকলের জনকল্যাণ মাঠে নিজের জন্মদিন পালন করলেন ডোমকলের বিধায়ক তাতে মনে হচ্ছে অচিরেই তাঁকে সিবিআই বাজেয়াপ্ত করবে।” বিজেপির দক্ষিণ মুর্শিদাবাদ জেলার সভাপতি শাখারভ সরকার বলেন, “বিধায়ক তাঁর অনুগামীদের পরোক্ষে ঘুষ দিয়েছেন জন্মদিনে। যাতে সিবিআই ধরলে তাঁরা আন্দোলন করতে পারেন।” সিপিএমের জেলা সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “একবার কান কাটলে যায় গ্রামের বাইরে দিয়ে আর সাতবার কান কাটলে যায় গ্রামের মধ্যে দিয়ে, ডোমকলবাসী এটাই বলছে।”