দিদির ডাকে কালীঘাটে মুর্শিদাবাদের নেতারা যাবেন ১৯শে

বিদ্যুৎ মৈত্র, বহরমপুরঃ লোকসভা নির্বাচনের আগে প্রতিটি জেলার দলীয় নেতাদের নিয়ে বৈঠক ডাকছেন মুখুমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।  চলতি মাসের ১৯ তারিখে মুর্শিদাবাদ জেলার নেতাদের ডাক পড়েছে কালীঘাটে। সেখানে অন্য জেলার নেতাদের মতো লোকসভায় জেলা স্তরে দলীয় প্রচারের দিক নির্দেশই এই বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য। সেই বৈঠকে কারা উপস্থিত থাকবেন তা নিয়ে এখনও স্পষ্ট কোনও নির্দেশ আসে নি বলেই এদিন দাবি করেন বহরমপুর-মুর্শিদাবাদ সংগঠনের জেলা সভাপতি অপূর্ব সরকার। তবে মুর্শিদাবাদের দুই সাংগঠনিক জেলার বিধায়ক, সাংসদ সহ জেলা পরিষদের সদস্যদেরও ওই বৈঠকে থাকার কথা, দাবি সূত্রের।

একুশের ভোট পার করে পঞ্চায়েত হয়ে জেলা পরিষদের ক্ষমতা পেয়েছে তৃণমূল। সেখানে বিরোধীদের নামমাত্র উপস্থিতি। তবুও পঞ্চায়েতে পঞ্চায়েত অব্যহত এলাকা দখল নিয়ে নেতাদের কোন্দল। হাজার ধমক চমক দিয়েও সমাজমাধ্যম থেকে সংবাদমাধ্যমে প্রতিদ্বন্দ্বী নেতারা একে অপরের  বিরুদ্ধে কাদা ছেটাতে সময় নেন না বলে দলেরই একাংশের অভিযোগ। এক বর্ষীয়ান নেতার কথায়, “ ডানপন্থী নেতাদের মধ্যে সব সময়ই ক্ষমতার বাগাড়ম্বর থাকে। সবাই চায় এলাকার দখল নিজের হাতে রাখতে। স্বাভাবিকভাবেই নবীন চায় প্রবীণে হাত থেকে ক্ষমতা ছিনিয়ে নিতে আর প্রবীণ নাছোড় তার ক্ষমতার ধরে রাখতে। এই দ্বন্দের নিরসন কোথায় কেউ জানে না।”

মাস তিনেক আগে বহরমপুর সাংগঠনিক জেলায় তৃণমূলের সভাপতি বদল হয়েছে। তবুও ভরতপুরের বিধায়ক ও ব্লক সভাপতির দ্বন্দে রাশ টানতে পারেনি দল। তেমনি ঘোচেনি নওদাতে বিধায়ক ও ব্লক সভাপতির দ্বন্দও। একইভাবে জেলার উত্তরে প্রকাশ্যে এসেছে দলের চেয়ারম্যান জাকির হোসেন ও ইমানি বিশ্বাসের লড়াই। লোকসভায় ভোট কুড়োতে যা বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে দলেরই একাংশের অনুমান।

স্বাভাবিকভাবেই সবাইকে একজোট করতে বুধবার পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলা নেতাদের মতোই দলের বর্ধিত ওই বৈঠকে দলনেত্রীর তোপের মুখে পড়বার আশঙ্কা করছেন মুর্শিদাবাদের নেতারা। বিতর্কিত জেলা নেতাদের সতর্ক করতে পারেন বলেই মত তৃণমূলের একাংশের।  যদিও বহরমপুরে বৃহস্পতিবার অধীর চৌধুরী এই প্রসঙ্গে তৃণমূলকে কটাক্ষ করে বলেন, “ ভোট আসলে মুখ্যমন্ত্রী নেতাদের শুদ্ধিকরণের কথা বলেন। যখনই শুনবেন দিদি সততার বাণী দিচ্ছেন তখনই জানবেন ভোট আসছে।“