নতুন দল গড়ার হুমকি হুমায়ুনের। শুধু মুর্শিদাবাদ নয়, ঘুরবেন পাহাড় থেকে সাগর

মধ্যবঙ্গ ওয়েব ডেস্কঃ  আর দল বদল নয়। এবার তৃণমূল বহিষ্কার করলে সরাসরি নতুন দল গড়ার হুমকি দিলেন ভরতপুরের তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক হুমায়ুন কবির। শনিবার বিধায়ক হুমায়ুন কবির পেয়েছেন তৃণমূলের শো কজের চিঠি। পঞ্চায়েতে বিদ্রোহ কেন ? জানতে চেয়েছে দল। ৩১ জুলাই কলকাতায় গিয়ে সুব্রত বক্সির সাথে দেখা করে নিজের  উত্তর জানাবেন হুমায়িন। তবে পোড় খাওয়া হুমায়ুনের আশঙ্কা,  শাস্তির মুখে পড়তে হবে তাকে। আশঙ্কা থেকেই  শনিবার বহরমপুরে হুমায়ুন কবির সরাসরি বলেছেন, “তৃণমূল কংগ্রেস আমাকে তৃণমূল থেকে বের করে দেয় বা বহিষ্কার করে তাহলে আমি পরিষ্কার কোন দলে মেকি দলে যাবো না, অধীর চৌধুরীর মতো দলে যাবো না, বামপন্থার নীতি আমি পছন্দ করি না, বিজেপিতেও আমি যাবো না” । তবে কী করবেন ? সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে হুমায়ুন নিজেই বলেছেন, ” মুর্শিদাবাদে ২৬ টা ব্লকেই ২২টা বিধানসভাতেই হুমায়ুন কবিরকে ভোট দেওয়ার জন্য ৩০% ভোটার আছে, আমি আগামী দিনে তাঁদের সম্মান জানাবো”।

এরপরেই একধাপ এগিয়ে তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবির জানান, ” আমাকে যদি এখন বের করে দেয়, আমি রেস্ট নেবো , ঘর গোছাবো, তারপর আমি কোচবিহার  থেকে কাকদ্বীপ পর্যন্ত ঘরোয়া মিটিং মিছিল করে বেড়াবো,  তারপর ২০২৪ লোকসভা ভোটের পর দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনে যাবো , প্রতীক চয়েস করবো তারপর লড়াইয়ে নামবো”।  অর্থাৎ সরাসরি নতুন দল গড়ে রাজ্যের রাজনীতিতে নামতে চলেছেন ভরপুরের তৃণমূল বিধায়ক। যদিও বিধায়কের বিদ্রোহ নিয়ে মন্তব্য করতে চান নি তৃণমূলের বহরমপুর মুর্শিদাবাদ সাংগঠনিক জেলার সভাপতি শাওনি সিংহ রায়। তিনি বলেছেন, ” দল শো কজ করেছে। দলের  নেতারা দেখছেন”।

বহিষ্কার, দল বদল অবশ্য নতুন নয় হুমায়ুন কবিরের কাছে। মুর্শিদাবাদ জেলার রাজনীতিতে দীর্ঘদিন অধীর চৌধুরীর ঘনিষ্ট অনুগামী বলেই পরিচিত ছিলেন হুমায়ুন কবির। ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের টিকিটে রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে জয়ী হুমায়ন। কিন্তু বছর ঘোরার সঙ্গে সঙ্গে অধীরের সঙ্গে মনোমালিন্যের জেরে ছাড়েন দল। যোগ দিয়েছিলেন তৃণমূলে। তৃণমূলে যোগ দিয়ে মন্ত্রিত্ব পেতেও দেরি হয়নি তাঁর। তৎকালীন তৃণমূলের হেভিওয়েট নেতা শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বিবাদের জেরে ২০১৫ সালে তৃণমূল থেকে বহিষ্কার করা হয় তাঁকে। ২০১৬ সালে নির্দল প্রার্থী হয়ে টেবিল চিহ্নে রেজিনগর কেন্দ্রে প্রার্থী হয়ে নামমাত্র ভোটে কংগ্রেস প্রার্থীর কাছে হারে হুমায়ুন। সে বছরই সেপ্টেম্বরে তাঁর পুরনো রাজনৈতিক ‘গুরু’ অধীর চৌধুরীর প্রস্তাবে ফের কংগ্রেসে প্রত্যাবর্তন। আবার ২০১৮ সালে কৈলাস বিজয়বর্গীয় হাত ধরে বিজেপিতে যোগ দেন। পরে ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে মুর্শিদাবাদ কেন্দ্রে বিজেপি-র প্রার্থীও হন। কিন্তু পরের বছর, এনআরসি নিয়ে আন্দোলনের জেরে বিজেপি-র সঙ্গে মত পার্থক্যের শুরু এবং বিজেপি ত্যাগ হুমায়ুনের। ২০২০ সালের আবার যোগ তৃণমূলে। তারপর ২১ এর বিধানসভা নির্বাচনে জিতে ভরতপুরের এম.এল.এ হন হুমায়ুন কবির। কিন্তু ২০২৩ এর পঞ্চায়েত নির্বাচন ঘিরে দলের সাথে বিবাদ চরমে উঠেছে হুমায়ুনের। জেলার আরও তিন বিধায়ককে সাথে নিয়ে জেলা সভাপতি, চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন হুমায়ুন। কিন্তু কার্যত রণে ভঙ্গ দিয়েছে বাকি তিন বিধায়ক। বিদ্রোহের এই স্তরে হুমায়ুন এখন একাই। আগামী দিনে কী করেন হুমায়ুন, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল ।