রেজিনগর থেকে কাশিমবাজার স্টেশন অধীর ঘুরলেন রেল কর্তাদের নিয়ে

নিজস্ব সংবাদদাতা, বেলডাঙাঃ বেলডাঙা স্টেশনে উড়ালপুলের দাবি দীর্ঘদিনের। সেই দাবি মেনেও নিয়েছিল রেল। অর্থ বরাদ্দও হয়েছিল। কিন্তু পাঁচরাহা রেলগেটের কাছে সেই উড়ালপুল আজও হয়নি। অভিযোগ, থমকে আছে জমি জটের কারণে। দুদিনের জেলা সফরে এসেছেন পাবলিক অ্যাকাউণ্টস কমিটির সদস্যরা। শুক্রবার পূর্ব রেলের শিয়ালদহ ডিভিসনের ডিআরএম দীপক নিগম, জেনারেল ম্যানেজার অমর প্রকাশ দ্বিবেদী সহ কমিটির উচ্চ পদস্থ আধিকারিকরা সরেজমিনে বেলডাঙার পরিস্থিতি দেখে এলেন। সঙ্গে ছিলেন প্রাক্তন রেলপ্রতিমন্ত্রী তথা পিএসি কমিটির চেয়ারম্যান অধীর রঞ্জন চৌধুরী। কেন্দ্র ও রাজ্যের আধিকারিকদের হাতের কাছে পেয়ে এদিন বেলডাঙা নাগরিক কল্যাণ সমিতির পক্ষ থেকে স্মারকলিপি দেওয়া হয়। সমিতির পক্ষ থেকে পাঁচরাহা রেলগেটের কাছে রেলওয়ে ওভার ব্রিজের দাবির পাশাপাশি বেলডাঙা স্টেশনকে অমৃত স্টেশন প্রকল্পের অন্তর্ভুক্তির দাবি তোলেন তাঁরা। নশিপুর রেলসেতু পুরোমাত্রায় চালু হয়ে গেলে মুর্শিদাবাদ জেলাবাসীর সঙ্গে দূরত্ব কমবে পাহাড়ে। একাধিক দূরপাল্লার এক্সপ্রেস ট্রেন ছুটবে শিয়ালদাহ শাখার এই লাইনে, সূত্রের দাবি সেই পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে পূর্ব রেলের পক্ষ থেকে। সেক্ষেত্রে বেলডাঙা স্টেশন যেন বঞ্চিত না হয় সেই দাবিও তোলেন নাগরিক সমিতির সদস্যরা। রেজিনগর স্টেশনেও গিয়েছিলেন পিএসি কমিটির সদস্যরা। সেখানেও স্টেশনের খামতি দেখেছেন, সমস্যা তুলে ধরেছেন সাধারণ মানুষ। সমাধানের জন্য রেল কর্তাদের অনুরোধ করেছেন বহরমপুরের সাংসদ। বেলডাঙা স্টেশন ছাড়িয়ে ভাবতাতেও দাঁড়িয়েছিল পিএসি কমিটির সদস্যদের বিশেষ ট্রেন। সেখানে পিএসি কমিটির সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেন ভাবতা এডুকেশনাল অ্যান্ড সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটির সদস্যরা। ভাবতা রেলস্টেশনকে এনএসজি-৬ থেকে পরবর্তী ধাপে উন্নিত করতে হবে বলে দাবি করেন তাঁরা। তাঁরা লিখিতভাবে পিএসির চেয়ারম্যানের কাছে ভাবতা রিজার্ভেসন টিকিট কাউন্টার ও ভাবতাকে এক্সপ্রেস ট্রেনের স্টপেজ করার দাবি করেছেন। তাছাড়া পানীয় জলের ব্যবস্থা, যাত্রী শেড সহ পাঁচ দফা দাবি করেছেন বলে জানান সংগঠনের সম্পাদক মহম্মদ আবু সৈয়দ। এরপর তাঁরা বহরমপুর হয়ে চলে যান কাশিমবাজারে। সেখানে অধীর বলেন,”বহরমপুর স্টেশনে আরও একটি ফুট ওভারব্রিজ তৈরি হবে। কাশিমবাজারেও তৈরি হবে ফুট ওভারব্রিজ, টিকিট কাউন্টার। বেলডাঙাতে যে ওভারব্রিজ দরকার সেটা রেলের কর্তারা বুঝেছেন। তবে রেল বুঝলেই তো হবে না। রাজ্যকে জমি ছাড়তে হবে। তবেই সমস্যার সমাধান হবে।” বছর দশেক আগে বেলডাঙা স্টেশনের উড়ালপুলের জন্য অর্থ বরাদ্দ করেছিলেন অধীর, এদিন পিঙ্ক বুকে খুলেও উপস্থিত কমিটির সদস্যদের দেখান তিনি।