বাল্যবিবাহে বিপদ, লেখাপড়াই হাতিয়ার! অনুপ্রেরণা শর্মিলা।

মধ্যবঙ্গ নিউজ ডেস্কঃ রাজ্য হোক বা দেশ, কেন্দ্র সরকার হোক বা রাজ্য সরকার, বাল্য বিবাহ (Child marriage in West Bengal) রুখতে সব স্তরেই চলছে প্রচার। মেয়েদের পড়াশোনায় বেশি করে জোর দিতে চালু হয়েছে একাধিক সরকারি প্রকল্প। তারপরেও কমেনি উদ্বেগ। কখনও আর্থিক অভাব, কখনও প্রেম, আবার কখনও পারিবারিক নানা কারণে প্রায়শই বিয়ে হয়ে যাচ্ছে বহু নাবালিকার। অল্প বয়সে বিয়ে করে ফেলছে নাবালকেরাও।

গ্রামীণ এলাকাতে এই বিয়ের প্রবণতা সবথেকে বেশি। ফলে বিয়ের মরশুমে চাইল্ড লাইন ও প্রশাসনকে বাল্যবিবাহ রুখতে সদা সতর্ক থাকতে হয়। চলে প্রচার। এর মাঝেও গোপনে নাবালিকাদের বিয়ে দিয়ে দেওয়া হয়। যা নিয়ে উদ্বিগ্ন জেলা প্রশাসন। এবার জেলাজুড়ে বেড়ে চলা বাল্যবিবাহ রুখতে একটি হেল্পলাইন নাম্বার (নম্বর- ১০৯৮) চালু করল মুর্শিদাবাদ জেলা। এমনটাই জানানলেন মুর্শিদাবাদ জেলার চাইল্ড হেল্পলাইনের প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটার দেবিকা ঘোষাল।

কিছুকিছু মানুষ হার মানতে শেখেনি। তেমনই একজন মুর্শিদাবাদের শর্মিলা। তখন বয়স মাত্র ১৫ বছর। কিছু বুঝে ওঠার আগেই বহরমপুরের হাতিনগরের গ্রাম পঞ্চায়েতর বাসিন্দা শর্মিলা খাতুনের বিয়ে দিয়ে দেওয়া হয় নিজের থেকে বয়সের বড় এক পাত্রের সাথে। এমন পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাওয়ার পর শর্মিলা আজ সম্পূর্ণভাবে পরিস্থিতির সাথে লরতে শিখেছেন। এখন ওনার মুখ থেকে উঠে আসে কীভাবে পড়াশোনাকে হাতিয়ার করে আটকানো যেতে পারে ছোট ছোট মেয়েদের জীবন। আটকানো যাবে প্রচুর সংখ্যক বাল্যবিবাহের।

১৯৭৪ সালে ডাঃ সমির চৌধুরী হাত ধরে প্রতিষ্ঠিত হওয়া একটি এনজিও সিনি (CINI), তার পথ চলা শুরু করেছিল। এই এনজিও -এর একমাত্র উদেশ্য পিছিয়ে পরা গ্রামগঞ্জের মেয়ে এবং বাচ্চাদের শিক্ষার মধ্যদিয়ে, নানান কাজ শিখিয়ে তাদের বড় করা। এবং এই সমস্ত লক্ষ্যকে সামনে রেখেই আজ ৪৯ বছর সম্পূর্ণ করল সিনি। এবং সেই উপলক্ষ্যে বৃহস্পতিবার মুর্শিদাবাদ জেলায় বহরমপুরে আয়োজিত করা হল জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা অভিভাবক ও বাচ্চাদের নিয়ে কর্মশালা। এবং সেই খানেই এসেছিলেন শর্মিলা খাতুন।