শিক্ষা ব্যবসায়ী বিধায়ক জাফিকুল বাড়িতে নেই, তাঁর ডিএলএড কলেজে সিবিআই আধিকারিকরা

নিজস্ব সংবাদদাতা, বহরমপুরঃ বিধায়ক জাফিকুলের জন্য অপেক্ষা করে না থেকে তাঁর ডিএলএড কলেজ পরিদরর্শনে গেলেন সিবিআই আধিকারিকরা।হেমন্তের সকালে বিধায়কের বাড়িতে সিবিআই হানা নিয়ে ফের  সংবাদ শিরোনামে ডোমকল।

এপ্রিল থেকে নভেম্বর। সাত মাস পর ফের মুর্শিদাবাদ জেলায় হানা দিয়েছে সিবিআই। আজ বাদ কাল শুরু ডিসেম্বর পথ চলা। এই সময় সিবিআই আধিকারিকদের পদ চারণায় বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ডোমকলে উধাও শীতের আমেজ।

সবে আড়ামোড়া ভেঙে জাগছে ডোমকলের গোবিন্দপুর। সেই সময়ই ধুলো উড়িয়ে গাঁয়ে ঢুকল পর পর কয়েকটি চার চাকা। এগিয়ে গেল এলাকার বিধায়ক জাফিকুল ইসলামের বাড়ির দিকে। তার বাড়ি থেকে কিলোমটার খানেক আগে এক চায়ের দোকানদার বললেন, “বাড়ি বলবেন না, বলুন বিধায়কের প্রাসাদ দেখতে যাব।”  তার কথামত এগিয়ে গেলে বাড়ি খুঁজতে বেগ পেতে হল না। কেমোফ্লাজ পোশাক পরা কেন্দ্রীয় জওয়ানই চিনিয়ে দিল সেই পেল্লাই বাড়ি। যদিও তা নির্মীয়মাণ। নিচেই আছে বিধায়কের কার্যালয়। তা ঘিরে রেখেছেন বিধায়ক অনুগামীরা।

সিবিআই সূত্রে জানা যায়, মুর্শিদাবাদ জেলার এই শিক্ষা ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে নিয়োগ দুর্নীতি কান্ডে জড়িয়ে থাকার অভিযোগ রয়েছে। সেই অভিযোগ সরেজমিনে দেখতে ঘন্টা চারেক আগে জুগিন্দার এই গ্রামে আসে গোয়েন্দারা। যদিও তিনি সেই সময় বাড়িতে ছিলেন না। তাঁকে তলব করেছেন কেন্দ্রের এই পুলিশ আধিকারিকরা।

ডোমকল পুরসভা ঘোষণা পর প্রথমবার নির্বাচন হয় ২০১৭ সালে।  ওই নির্বাচনে ১৪ নম্বর ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর পদে নির্বাচিত হন একসময় ‘সৌমিক হোসেন ঘনিষ্ঠ’ জাফিকুল। তার আগে এলাকায় তিনি পরিচিত ছিলেন শিক্ষা ব্যবসায়ী হিসেবে। এরপর ২০১৯ সালে লোকসভা নির্বাচনের পর শিবির বদলিয়ে ডোমকল পুরসভার চেয়ারম্যান থেকে সৌমিককে সরিয়ে ওই পদে বসেন জাফিকুল। আর পিছনে তাকাতে হয়নি তাঁকে। ২০২১ সালে তৃণমূলের টিকিটে বিধায়ক হিসেবে লড়াই করে নির্বাচনে জিতে আসেন একসময়ের বাম ঘাঁটি ডোমকল থেকে। ২০২২ সালে ডোমকল পুরসভার মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গেলেও সেখানে পুরপ্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পান তৃণমূলের মুর্শিদাবাদ জেলার প্রাক্তন পর্যবেক্ষক  ‘শুভেন্দু অধিকারী শিবিরের’ এই নেতা। জাফিকুলের বিএড, ডিএড মিলিয়ে পাঁচটি কলেজ আছে ডোমকলেই। সম্প্রতি ২৫৩টি কলেজের অনুমোদন দেয়নি বাবাসাহেব আম্বেদকর শিক্ষা বিশ্ববিদ্যালয়। সেই তালিকায় নাম আছে জাফিকুলের সব কটি কলেজের, সূত্রের দাবি। তাছাড়াও ডোমকলে রয়েছে ফার্মাসী কলেজ, আছে পলিটেকনিক কলেজও।  বিধানসভায় রাজ্যের বিধায়কদের বাধ্যতামুলক উপস্থিতির নির্দেশ দিয়েছেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সূত্রের খবর, বুধবার বিধানসভাতেও অনুপস্থিত ছিলেন জাফিকুল।

সিবিআই আধিকারিকদের একটি দল তাঁর বাড়ির ভিতরে ঢুকেছেন। সেখানে তার স্ত্রী ও বাড়ির অন্যদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছেন তাঁরা। বাইরে কড়া পাহারায় আছেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। তারমধ্যেই সিদ্ধান্ত বদলিয়ে জাফিকুলের ডিএলএড কলেজে তল্লাশিতে যান দুঁদে গোয়েন্দারা।  চলতি বছর এপ্রিলে বড়ঞার বিধায়ক জীবন কৃষ্ণ সাহাকে মেরাথন জিজ্ঞাসাবাদের পর জেলার প্রথম কোনও রাজনৈতিক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে সিবিআই। বর্তমানে তিনি জেলবন্দি। ফের জেলার আর এক বিধায়কের বাড়িতে সিবিআই হানা দেওয়ায় উৎকন্ঠায় জেলা তৃণমূলও।