মুখ্যমন্ত্রীর জেলা সফরের সমালোচনা বিজেপি, সিপিএমের, উল্টো সুর কংগ্রেসের

বিদ্যুৎ মৈত্র, বহরমপুরঃ লোকসভা ভোটের মুখে জেলায় জেলায় মুখ্যমন্ত্রীর সফরকে লোকসভা ভোটের ‘প্রচার সভা’ বলে কটাক্ষ করছেন তৃণমূল বিরোধীরা। তাঁদের দাবি, সাধারণ মানুষের করের টাকায় নিজের দলের প্রচার করছেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে কংগ্রেস অবশ্য সমালোচনার রাস্তায় হাঁটছে না।

প্রশাসনিক সভা করতে কাল বুধবার মুর্শিদাবাদ জেলায় আসছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ইতিমধ্যে মঞ্চ নির্মাণের কাজও শেষের দিকে। জেলায় কমবেশি ২৫০টি প্রকল্পের শিলান্যাস ও উদ্বোধন করবেন তিনি। এছাড়াও ভাঙন দুর্গত মানু্ষজনের হাতে জমির পাট্টা, আবাসের যোজনায় বরাদ্দ ঘরের চাবি, এমনকি একশো দিনের কাজের টাকা বিভিন্ন ব্লকের বাসিন্দাদের হাতে তুলে দেবেন মুখ্যমন্ত্রী।

অথচ সেখানে বিজেপির দুই বিধায়কই ডাক পান নি। না মুর্শিদাবাদের বিধায়ক গৌরিশঙ্কর ঘোষ না বহরমপুরের বিধায়ক সুব্রত মৈত্র কাউকেই আমন্ত্রণ জানানো হয়নি বলে দাবি করেন বিজেপির বহরমপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি শাখারভ সরকার। তিনি বলেন, “তৃণমূল কংগ্রেসের সুপ্রিমো ও মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ার যে আলাদা সেটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানেন না। উনি সরকারি সভাকে রাজনৈতিক সভায় রূপান্তরিত করেন। যা মানুষ ভালভাবে নেয় না। সরকারি কর্মসূচি হলে আমার দলের দুই বিধায়কও ডাক পেতেন। তাঁরা ডাক পান নি। এই সভাকে ধিক্কার জানাই।” একইসঙ্গে তিনি তাঁর দলের দুই বিধায়ককে না ডাকার কারণ কী তাও প্রশাসনের কাছে জানতে চাইবেন বলে দাবি করেছেন।

একই দাবি করেছে সিপিএমও। সরকারি মঞ্চ ব্যবহার করে দলের প্রচার করা মুখ্যমন্ত্রীর পুরনো অভ্যেস। সে কথা জানিয়ে সিপিএমের জেলা সম্পাদক জামির মোল্লা বলেন, “সরকারে আসার পর থেকেই উনি সরকারি টাকা নয়ছয় করে মচ্ছপ করে রাজনৈতিক কার্যকলাপ করেন। সেখান থেকে আজও পরিবর্তন আনতে পারেন নি।” তবে কংগ্রেস অবশ্য সিপিএম বা বিজেপির পথে হাঁটে নি। জেলা কংগ্রেস মুখপাত্র জয়ন্ত দাস বলেন, “তিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। জেলা সফরে তাঁর নির্দিষ্ট কিছু কর্মসূচি নিয়েই আসছেন। এখনও তাঁর সভা হলোই না। তার আগে রাজ্যের দায়িত্বশীল বিরোধী দল হিসেবে এমন কথা অন্তত আমাদের উচিত হবে না।” তবে তৃণমূলের বহরমপুর-মুর্শিদাবাদ সংগঠনের সভাপতি অপূর্ব সরকার বলেন, “বিরোধীদের চোখে ঠুলি তাই উন্নয়ন দেখতে পান না। তাই উল্টোপাল্টা বলেন। আমাদের চোখের আলো প্রকল্পে ওদের নাম লেখাতে বলুন। ”