ধুঁকছে মুর্শিদাবাদ জেলার সমবায় সমিতি, বাঁচাতে নির্বাচন জরুরি বলছেন শাসক, বিরোধী উভয়েই

বিদ্যুৎ মৈত্র, বহরমপুরঃ মুর্শিদাবাদ জেলার সমবায় সমিতিগুলির বেহাল দশা। অধিকাংশ সমিতি হয় বন্ধ না হয় কায়ক্লেশে দিন কাটাচ্ছে। রাজ‍্যে পালা বদলের পর সমিতির কোথাও কোনও নির্বাচন হয়নি। যে সমিতিগুলি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল নির্বাচন চেয়ে, তাদের কেও কেও সে সুযোগ পেয়েছেন। বাকিগুলোর কাজকর্ম চলছে স্পেশাল অফিসার বসিয়ে। সমবায় সপ্তাহেই উঠল সমিতিগুলির নির্বাচনের দাবি।

সোমবারেই শেষ হয়েছে চলতি বছরের সমবায় সপ্তাহ। ৭০তম নিখিল ভারত সমবায় সপ্তাহের প্রথমদিন সমবায় সমুহের সাম্প্রতিক উন্নয়ন বিষয়ে আলোচনা হয়। সমবায় সপ্তাহের দ্বিতীয় দিনেই উঠে এসেছিল ধুঁকতে থাকা সমিতিগুলিকে জীবন দানের কথা। পাশাপাশি তাদেরকে অন্য কোনও সমিতির সঙ্গে জুড়ে দেওয়া যায় কি না তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে ওইদিন।

সমবায় সপ্তাহ উপলক্ষে আয়োজিত সভা। ছবি সংগৃহিত

জেলায় সব মিলিয়ে প্রায় বারোশো সমবায় সমিতি রয়েছে। অন্য সমিতিগুলির মধ্যে খাতায় কলমে জেলায় প্রাথমিক কৃষি সমবায় সমিতি আছে ৪৩৬টি। তারমধ্যে সক্রিয় আছে মাত্র ২৯১টি। তবে এদের মধ্যে ২১০টি সমিতি তার সদস্যদের কাছ থেকে টাকা জমা নেওয়ার পাশাপাশি ঋণ দেওয়ার অনুমতি পেয়েছে। মুর্শিদাবাদ জেলার একমাত্র সমবায় ব্যাঙ্কের ১৯টি শাখা রয়েছে। সমিতিগুলি ‘মিনি ব্যাঙ্ক’এর ভূমিকা পালন করায় ব্যাঙ্কের কাজকর্ম পরিচালনায় সুবিধা হয় বলে জানান ব্যাঙ্কের আধিকারিকরা।

বছর তিনেক আগে এই নভেম্বরেই তালা ঝুলিয়ে চম্পট দিয়েছিলেন আয়েশবাগ সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমিতির সদস‍্যরা। ব‍্যঙ্ক সূত্রে জানা যায়, ছোট ছোট সমিতির নামে ঋণ মঞ্জুর করে ওই সমিতিকে প্রায় ২৭কোটি টাকা ঋণ দিয়েছিল জেলা সমবায় ব‍্যঙ্ক। কিন্তু ব‍্যাঙ্কের অনুমতি ছাড়াই সমিতি আয়েশবাগ এলাকার ব‍্যবসায়ী অসীম ভট্টকে নিয়ম বহির্ভুতভাবে ঋণ দেয়। কিন্তু ঋণ পরিশোধ না হওয়ায় ব‍্যাঙ্কের দেনা বাড়তে থাকে। ওই ব‍্যঙ্কেই জমা ছিল প্রায় পাঁচ হাজার গরীব মানুষের রক্ত জল করা উপার্জনের সামান‍্য সঞ্চয়টুকু। ব‍্যঙ্ক সূত্রে জানা যায়, গ্রাহকদের ১০কোটি টাকা আর ব‍্যাঙ্কের ৩০ কোটি মিলিয়ে প্রায় ৪০ কোটি টাকা এখনও বকয়া ওই সমিতির। ব‍্যঙ্কের উচ্চ পদস্থ আধিকারিক শ্রীমন্ত ভদ্র বলেন, “ওই সমিতির সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার কাজ শুরু হয়েছে। তার থেকেই গ্রাহকের পাওনা মিটিয়ে দেওয়া হবে।”

তবে শুধু আয়েশবাগ নয় এই ধরনের ঋণ খেলাপি সমিতির সংখ‍্যা আরও আছে বলে জানান সমবায় বাঁচাও মঞ্চের মুর্শিদাবাদ জেলা কমিটির সম্পাদক সমর ভট্টাচার্য্য। এরজন্য দীর্ঘদিন যাবৎ সমিতির নির্বাচন না হওয়াকেই দায়ী করছেন তিনি। বলেন, “গণতান্ত্রিক পথে না হেঁটে আমলাতান্ত্রিক পথ বেছে নিয়েছে বর্তমান সরকার। একজন আধিকারিক নামকে ওয়াস্তে সমতি দেখভাল করেন। এরফলে একদিকে যেমন সমিতিগুলির উন্নতি হচ্ছে না তেমনি ঋণখেলাপি সমবায়ের সংখ্যা ও বাড়ছে।” সমবায় সমিতির নির্বাচন চাইছেন নওদার বিধায়ক তথা মুর্শিদাবাদ জেলা সমবায় ব‍্যাঙ্কের চেয়ারম্যান সাহিনা মমতাজ খান। তিনি বলেন, “সমিতিগুলিতে নির্বাচিত প্রতিনিধি থাকলে কাজকর্মের সুবিধা হবে। আমরাও চাইছি নির্বাচন হোক। এরজন্য উপযুক্ত জায়গায় আলোচনা ও করব।” মুর্শিদাবাদ জেলা সমবায় ব‍্যাঙ্কের প্রাক্তন চেয়ারম্যান তথা তৃণমূলের বহরমপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি অপূর্ব সরকার বলেন, “ কান্দির নতুনগ্রাম সমবায় সমিতি, অমিত্ব সমবায় সমিতিতে মাস চারেক আগে নির্বাচন হয়েছে। সেখানে তৃণমূল জিতেছে। সময়ে বাকিগুলোতেও হবে। নির্বাচন দরকার অবশ্যই।”