লোকসভা ভোটের আগে বিড়ি শ্রমিকদের নিয়ে ময়দানে সিপিএম , কংগ্রেস

মাসুদ আলি, সামসেরগঞ্জঃ দু’বছর বাড়েনি মজুরি। এবার জঙ্গিপুর মহকুমার বিড়ি শ্রমিকদের নিয়ে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিল সিপিএম , কংগ্রেস। দুই দলের শ্রমিক সংগঠন কোমড় বেঁধে নামতে চলেছে বিড়ি শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে।  সরকার ঘোষিত মজুর কার্যকর করার দাবিতে বুধবার ধূলিয়ানে কনভেনশনের ডাক দিয়েছে বিড়ি শিল্পে যুক্ত সংগ্রাম কমিটি। কনভেনশন নিয়ে মঙ্গলবার সামসেরগঞ্জে সাংবাদিক বৈঠক করেন যুক্ত সংগ্রাম কমিটির নেতারা। সেখানে সিআইটিইউ নেতা মহম্মদ আজাদ দাবী করেছেন, বিড়ি শ্রমিকদের মজুরি নিয়ে সহানুভুতিশীল নয় রাজ্য সরকার। মজুরি বাড়াতে উদ্যোগী নয় শাসক দলও। একই সুর শোনা গিয়েছে কংগ্রেসের শ্রমিক সংগঠনের নেতা শামসুল আলমের গলাতেও।
বিড়ি শিল্পে যুক্ত সংগ্রাম কমিটিতে  রয়েছে সিপিএমের শ্রমিক সংগঠন সিআইটিইউ, কংগ্রেসের শ্রমিক সংগঠন আইএনটিইউসি। কমিটির রাশ মূলত তাদেরই হাতে। এছাড়াও কমিটিতে রয়েছে আরএসপি’র শ্রমিক সংগঠন ইউটিইউসি, সিপিআই’এর সংগঠন এআইটিইউসি, ওয়েলফেয়ার পার্টির সংগঠন এফআইটিইউ, এসইউসিআই’এর সংগঠন এআইইউটিইউসি, সিপিআই(এম-এল) লিবারেশনের সংগঠন এআইসিসিটিইউ। তবে সব সংগঠন থাকলেও এই তালিকায় নেই তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠন আইএনটিটিইউসি ও বিজেপির শ্রমিক সংগঠন বিএমএস।  তৃণমূল কংগ্রেস নেতারা যদিও সিপিএম, কংগ্রেসের আন্দোলনকে পাত্তা দিতে নারাজ। তৃণমূলের দাবী, মমতা বন্দোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরেই সম্মানজনক মজুরি হয়েছে বিড়ি শ্রমিকদের।
২০২১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে শেষ হয় শ্রমিক সংগঠন ও মালিক সংগঠনগুলির মধ্যে চুক্তি। ২৮ সেপ্টেম্বর দবিপাক্ষিক চুক্তি থেকে সিদ্ধান হয়, হাজার বিড়ি পিছু ১৭৮ টাকা পাবেন বিড়ি শ্রমিকরা। যদিও বিড়ি শ্রমিকদের অভিযোগ, ১৭৮ টাকা মজুরি দিতে চাইছেন না বিড়ি মালিকরা। একই অভিযোগ এনেছে সিআইটিইউও।

তৃণমূলের দাবি, বাম আমলেও বিড়ি শ্রমিকদের মজুরি ছিল অত্যন্ত কম। ২০১১ সালে ২৯ সেপ্টেম্বর বিড়ি শ্রমিকদের মজুরি ৫৫ টাকা থেকে বেড়ে ৭৫ টাকা হয়। ২০১৩ সালে সেই মজুরি আরও ২৫ টাকা বেড়ে হয় ১০০ টাকা। ২০১৫ সালে ফের হয় মজুরি চুক্তি সেবার ২৬ টাকা মজুরি বাড়ে। ২০১৫ সালে মজুরি হয় ১২৬ টাকা। তৃণমূলের দাবি, তৃণমূলের আমলে ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে বিড়ি শ্রমিকদের মজুরি। জঙ্গিপুর ও দক্ষিণ মালদা এই দুই আসনে বিড়ি শ্রমিকদের ভোট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুর মহকুমায় বিড়ি শ্রমিকের সংখ্যা প্রায় ৯  লক্ষ। বিড়ি শিল্পের উপর নির্ভরশীল জঙ্গিপুরের প্রায় ৩৬ লক্ষ মানুষ। লোকসভা নির্বাচনের আগে এই ভোটকে হেলাফেলা করতে নারাজ বাম, কংগ্রেস। তাই জোট বেঁধেই ময়দানে নেমেছে দুই দল।