তিনদিনের নিম্নচাপে ফুলকপিতে ‘ধ্বসা’ ! মাথায় হাত চাষিদের

রামচন্দ্র বিশ্বাস, বেলডাঙাঃ শীতকালের অন্যতম জনপ্রিয় সবজি হল ফুলকপি। শীতের মরশুমে বাঙালির পাতে প্রায় রোজই এই ফুলকপির তরকারি দেখা যায়। এই সময়ে বাজারে খুব সস্তায় পাওয়া যায় ফুলকপি। কিন্তু গত তিনদিন ধরে জেলায় অকাল বর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ফুলকপি চাষ।

নিম্নচাপের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত মুর্শিদাবাদের বেলডাঙার পুলিন্দা এলাকার কপি চাষিরা। বৃষ্টির জেরে ধ্বসা লাগতে শুরু করেছে কপির জমিতে। ‘ধ্বসা’ এক রকমের রোগ। যার ফলে পচে যায় গাছের কান্ড থেকে গোড়া। নষ্ট হয় সবজি। বেলডাঙার কপি চাষি অসীম মণ্ডল জানান, “পনেরো হাজার টাকা খরচ করে দু’বিঘা জমিতে কপি চাষ করেছি। তার মধ্যে ধ্বসাতে অনেক কপি নষ্ট হল। ২০ টাকা প্রতি পিস দরে বিক্রি না করলে সেই টাকা ঘরে উঠবে না।” পুলিন্দা এলাকায় চাষিরা মূলত সবজি চাষের উপরেই নির্ভরশীল। মাঠে বিভিন্ন ফসলের সাথে ফুল কপি ও বাঁধা কপি চাষ করেন তাঁরা। এবারও চাষ করেছিলেন বিঘার পর বিঘা জমিতে। তবে অকাল বর্ষনে সেসব মাঠে মারা যেতে বসেছে ফুল কপি।

কপি চাষি গণেশ মণ্ডল জানান, “বিঘাতে ফুলকপি চাষ হয় চার হাজার পিস। অন্যদিকে বাঁধা কপি চাষ হয় প্রায় ছয়হাজার পিস। দ্রব্যমূল বৃদ্ধির বাজারে সার থেকে বিষের দাম বেড়েছে অনেকটাই। তবে সেই কপির দাম কোথায়? পাইকারি বাজারে দাম মিলছে পাঁচ থেকে সাত টাকা পিস। একদিকে যেমন দাম নেই অন্যদিকে দু’দিনের বৃষ্টিতে পচন ধরতে শুরু করেছে কপিতে।” তিনদিনের নিম্নচাপের পরে রোদ উঠতেই কপির পাতা ঝড়তে শুরু করেছে। কপির পাতা হলুদ হয়ে যাচ্ছে। কপিতেই পচন ধরায় আদেও সেই কপি বাজারে বিক্রি হবে কিনা তা নিয়েও দ্বিধায় রয়েছেন চাষিরা। হাজার হাজার টাকা খরচ করেও লাভের মুখ তো দূরের কথা। খরচ উঠতে কিনা তা নিয়ে কপালে চিন্তার ভাঁজ বেলডাঙার কপি চাষিদের।