লোকসভা নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে স্থানীয় ব‍্যক্তিই চাইছেন জেলা বিজেপির কার্যকর্তারা

নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুরঃ সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ২০২৪ এর গোড়ায় হবে দেশের ১৮ তম লোকসভা নির্বাচন। সেই নির্বাচন হবে মূলত দুটি জোটের মধ‍্যে। বিজেপি পরিচালিত এনডিএ জোটের বিরুদ্ধে ‘ইন্ডিয়া’ জোট। শেষদিন পর্যন্ত যদি ‘ইন্ডিয়া’ জোট টিকে যায় তাহলে দেশের আর পাঁচটা লোকসভা আসনের মতো বহরমপুরেও নির্বাচন হবে জোটের শর্ত মেনে। সেক্ষেত্রে এখন ও পর্যন্ত যা খবর তাতে বহরমপুর আসন থেকে বর্তমান সাংসদ অধীর চৌধুরীই লড়বেন। জোটের শর্তে তাঁকেই সমর্থন করার কথা “ইন্ডিয়া’ জোটের বাকি দলগুলির। আর এইরকম রণক্ষেত্রে দাঁড়িয়ে জেলায় বিজেপি নেতাদের এখন থেকেই মাথা ব‍্যাথা শুরু হয়েছে দলীয় প্রার্থী নিয়ে।

২০১৯ সালে বহরমপুর লোকসভা কেন্দ্রে বিজেপির প্রার্থী হয়েছিলেন কৃষ্ণ জোয়ারদার আর্য। কিন্তু তাঁকে তিন নম্বরে ঠেলে দিয়ে নিজের জেতা আসন ধরে রেখেছিলেন অধীর। সেবার ভোট পড়েছিল ৭৯.৪১ শতাংশ। তারমধ্যে অধীর পেয়েছিলেন ৪৫.৪৭ শতাংশ। আর বিজেপি প্রার্থী পেয়েছিলেন ১১ শতাংশ ভোট। ৩৯.২৬ শতাংশ ভোট পেলেও অধীরকে লড়াইয়ে ফেলে টেনেছিলেন তৃণমূলের অপূর্ব সরকার। বহিরাগত প্রার্থী দাঁড় করিয়ে দলের মুখ পোড়ার কারণে তখন থেকেই বিজেপির জেলা নেতাদের ক্ষোভ দলের কেন্দ্র নেতাদের প্রতি। ‘ঘরের ছেলে’কে দাঁড় করিয়ে ২০২১ সালে বহরমপুর বিধানসভা আসন জেতে বিজেপি। লোকসভাতেও কী সেই সমীকরণ মেনে চলবে দল? বিজেপি জেলা নেতাদের একাংশের দাবি, ‘জেলা সংগঠন নিয়ে দলের নেতারা বিভক্ত। প্রার্থী নিয়ে ভাবার সময় কই ?’ দলের প্রাক্তন জেলা সভাপতি গৌরী শঙ্কর ঘোষও পরোক্ষে গৃহ বিবাদের কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, ” দলীয় সিদ্ধান্ত নিয়ে আমাদের মধ‍্যে বিতর্ক থাকলেও নীতি নিয়ে আমাদের কোনও দ্বন্দ্ব নেই।’ তিনি আরও বলেন, “লোকসভা আসনে কে প্রার্থী হবে তা ঠিক করবে কেন্দ্র কমিটি। সেক্ষেত্রে দল যাঁকে প্রার্থী করবে তার হয়েই প্রচারে নামবে জেলা বিজেপি।” সেক্ষেত্রে দল যদি ফের বহিরাগত কাউকে প্রার্থী করে?

স্পষ্ট ভাষায় বিধায়ক গৌরী বলেন, ” আমরা চাইব পরিচিত মুখকে প্রার্থী করা হোক। যাকে মানুষজন পছন্দ করেন। এমন তিনজন প্রার্থীকেই জেলার তিনটি লোকসভা আসনে প্রার্থী করুক দল।” তবে সেই তালিকায় তিনি নিজেকে দেখতে চান না বলেও দাবি করেন। তিনি বলেন, “আমি এখনও লোকসভা ভোটে লড়ার মতো যোগ্য নই। যোগ্য যেদিন হব সেদিন দাঁড়াব।” ২০১৯ সালে বহরমপুরের লোকসভা আসনে দাঁড়াতে চেয়ে দলের কাছে আবেদন করেছিলেন তৎকালীন জেলা সহ সভাপতি শাখারভ সরকার। এখন তিনি মুর্শিদাবাদ দক্ষিণ সাংগঠনিক জেলার সভাপতি। এবার অবশ্য তিনি প্রার্থী হতে চেয়ে আবেদন করবেন না বলেই জানান। একইসঙ্গে বিধায়কের হয়েও তিনি দলের কাছে প্রার্থী করা নিয়ে দরবার করবেন না বলেও জানান শাখারভ। তিনি বলেন, ” দল যাকে প্রার্থী করবে তার হয়েই প্রচার করব আমরা। ব‍্যক্তির আগে দলীয় প্রতীক। তবে আমাদের মতামত চাইলে স্থানীয় ব‍্যক্তিকে প্রার্থী করার জন‍্য বলতে পারি বড়জোড়।”