অবশেষে যানজটমুক্ত বহরমপুর শহরের প্রবেশ পথ

ঋত্বিক দেবনাথ, বহরমপুরঃ কোথাও থেমে রয়েছে অ্যাম্বুলেন্স, কোথাও দাঁড়িয়ে  রোগীর পরিবার। কখনও দেখা যাচ্ছে একটু বৃষ্টি হলেই থেমে যাচ্ছে শহরের বুকে এক হাঁটু জল।  কোথাও নিত্যযাত্রীরা দাঁড়িয়ে  থাকছে শেষ না হওয়া যানজটের মুখে। বহরমপুর শহরের বিভিন্ন  রাস্তায় বারবার উঠে আসছে এই ছবি।  কিন্তু প্রশ্ন একটাই জেলার সদর শহরের এমন অবস্থা কীভাবে ? কেন এত ভোগান্তির মধ্যে দিয়ে যেতে হচ্ছে নিত্যযাত্রীদের?

কিছুদিন আগেই মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজে আসা রোগীর আত্মীয়  মমতাজ বিবি বলেন , “ নসিপুর থেকে রোগীকে নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সে করে আসছিলাম মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজে। কিন্তু রাত ৮টার সময় হাসপাতালের মুখে এত যানজট ছিল যে গাড়ির সাইরেন বাজানো সত্ত্বেও যানজট কাটছিল না। এবং রোগীর অবস্থা এমনই ছিল যে যদি আর কিছুক্ষণ  দেড়ি হত তাহলে হয়ত হিতে বিপরীত হতে পারতো”।

এমনই যানজটের কারণে নাজেহাল হওয়ার কথা হরদম শোনা যেতে থাকে শহর বহরমপুরে। কিন্তু প্রশ্ন কেন?  উত্তরের খোঁজ করতে হলে শুরু করতে হবে শুরু থেকেই ।  জেলার মধ্যে একমাত্র শহর যেখানে চোখের নিমিষে পাওয়া যায় সমস্ত সুবিধে ।  এখানে রয়েছে মেডিক্যাল কলেজ থেকে বড় বড় নার্সিংহোম । উত্তরবঙ্গ এবং দক্ষিনবঙ্গের অন্যতম কানেক্টার এই শহর ।

প্রতিদিন হাজারো মানুষের চাপ পড়ছে এই শহরে । সামনেই আসছে পুজো তার কারণেও ক্রমশ  বেড়ে চলেছে মানুষের যাওয়াআসা । এত মানুষের আনাগোনা এবং তাদের ক্রমশ্য বেড়ে চলা চাহিদা। সেই চাহিদার সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে শহরের ব্যবসাও। শুধু দোকান নয়, বেড়েছে হকারদের সংখ্যাও। দোকান উঠে এসেছে রাস্তাতেও।  কখনও ফুটপাত ঘিরে তো কখনও ড্রেনের ওপর স্ল্যাব  বসিয়ে চলেছিল  ব্যবসা।

অবশেষে মঙ্গলবার সকাল থেকেই ফুটপাত দখলমুক্ত করার কাজ শুরু করে প্রশাসন। বেশ কিছু রাস্তাতেই ব্যবসায়ীরা নিজেরাই সরিয়ে নেয় দোকান। অবশেষে  যানজটমুক্ত বহরমপুরের শহরের প্রবেশপথ।  বহরমপুর শহরের বাসস্ট্যান্ড থেকে সমবায়িকা মোড়ের রাস্তা ধরেই শহরে আসেন বাসস্ট্যান্ডে নামা মানুষ। সেই রাস্তাতেই ট্রাফিক জ্যামে নাজেহাল হতে হচ্ছিল পথচারী থেকে গাড়ি চালকদের। অবশেষে  জবরদখল মুক্ত হল ফুটপাত। চলার রাস্তা ফেরত পেয়ে শান্তির নিঃশ্বাস ফেললো শহরবাসী।

৩০ আগস্টের ছবি – প্রাঙ্গন মার্কেটের সামনে

পথচলতি এক নিত্যযাত্রী  শিবাজী সরকার বলেন , “ বেআইনিভাবে ড্রেনের ওপর স্ল্যাব  বসিয়ে বা রাস্তার ধারে দোকানের মতন করে অনেকেই আজ ব্যবসা করছেন। কিন্তু এটাতো উচিত না একদমই। যার ফলে ড্রেনগুলি পরিষ্কার  করা যাচ্ছে না এবং তার ফলেই  একটু বৃষ্টিতেই  জল জমে যাচ্ছে শহরে” । উচ্ছেদের জেরে কিছুটা হলেও কমেছে যানজট । বলছেন পথচারীরাই।  যদিও প্রশ্ন উঠছে ফুটপাতের ব্যবসায়ীদের রুজি নিয়ে। ফুটপাতের দোকান থেকেই চলছিল সংসার।

এমনই এক  ব্যবসায়ী সন্তু দে জানান, “ সমস্ত ব্যবসাদারদের ওপর হয়ত পেটে আজ লাথি  পড়েছে, কিন্তু কী হবে তাতে। এখনও কোথাও বাজে ভাবে টোটোওয়ালা দাড়িয়ে রয়েছে। আমাদের একটা নিয়ম করে দিত যে দিনের নির্দিষ্ট একটা   সময় করে দেয় তাহলে সুবিধা হয়”। ব্যবসায়ীরা জানান, পুজোর আগে   উচ্ছেদে ব্যবসায়ীদের সব থেকে বেশি সমস্যা হচ্ছে।  পুজোর আগে অনেক ভাবনা ছিল ব্যবসা বাড়ানো নিয়ে। এখন  উঠছে  পুনর্বাসনের দাবি।