এক লক্ষ টাকা দামের পঞ্জিকা ! বইমেলার নজর কাড়ছে আজাদের দুষ্প্রাপ্য বই

দেবনীল সরকার, বহরমপুরঃ বইয়ের স্টলে পুরনো বইয়ের গন্ধ, আর সেই স্টলেই জমছে ভিড়। শুরু হয়েছে ৪৩ তম মুর্শিদাবাদ জেলা বইমেলা। সেই বইমেলাতে প্রতিবারের মতো এবারেও এসেছে দুস্প্রাপ্য ও পুরনো বইয়ের সম্ভার। কলেজস্ট্রিট থেকে বইয়ের পসরা নিয়ে এসেছেন খড়দার আজাদ মন্ডল। বাবার সাথে কাজে হাত লাগাচ্ছেন ছেলে জয় মন্ডল।

এই স্টলে ঢুকলে মনে হবে কোনও প্রাচীন সংগ্রহশালায় এসেছেন। শতাব্দি প্রাচীন রামায়ণ, মহাভারতের সংস্করণ থেকে শুরু করে ব্যাকরণ বই। পুরনো লিটল ম্যাগাজিনের পাশাপাশি রয়েছে পঞ্জিকা। রয়েছে বিভিন্ন ক্লাসের বই, ডাক্তারি ও ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বইও। আর সেই স্টলে ভিড় করেছেন বইপ্রেমীরা। পুরনো বইয়ের নেশায় আজও হন্যে হন কিছু পাঠক। তাই বইমেলাতে নতুন বইয়ের পাশাপাশি জমেছে আজাদের দুষ্প্রাপ্য বইয়ের দোকানে।

গত ১২ বছর ধরে এই মুর্শিদাবাদ জেলা বইমেলায় স্টল দিচ্ছেন বই বিক্রেতা আজাদ মন্ডল। তবে এত পেশা থাকতে বই বিক্রিই কেন? তাও আবার পুরনো বই? পুরনো বই সংগ্রহের পিছনে গল্পও বললেন বইবিক্রেতা আজাদ। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে বইয়ের অভাবে মাধ্যমিক পরিক্ষা দিতে পারেননি। তখনই জোগাড় করতে শুরু করেন পুরনো বই। আজ কলেজস্ট্রিটে যাঁরা পুরনো বইয়ের কারবার করেন, আজাদ তাঁদের মধ্যে সব থেকে প্রবীণ। আজাদ আর তাঁর ছেলে জয় দু’জনেই শীতের মরসুমে জেলায় জেলায় বইমেলায় যান। এবারের বইমেলায় আজাদের স্টলে রয়েছে এক লক্ষ টাকা দামের পুরনো পঞ্জিকা, যা ১৩১২ বঙ্গাব্দের। এই শতাব্দী প্রাচীন পঞ্জিকাই এবার তাঁর স্টলের বিশেষ আকর্ষণ। আগের বছরেও মুর্শিদাবাদ বইমেলায় ভালো ব্যবসা হয়েছিল, এবারেও ভালো বিক্রি হবে আশাবাদী বই বিক্রতা আজাদ মন্ডল।