প্রাক্তন সত্যেনকে শেষ শ্রদ্ধা জানালেন অধীর

নিজস্ব সংবাদদাতা, বহরমপুরঃ মৃত তৃণমূল নেতার মরদেহ ময়নাতদন্ত করে সন্ধ্যা  নাগাদ শেষ বারের জন্য তাঁর  চালতিয়ার বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। সেখানেই তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে আসেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি বহরমপুরের সাংসদ অধীর চৌধুরী। কান্দিতে  তাঁর একটি জনসভা শেষে অধীর এদিন বলেন, “একসময় কংগ্রেস করত সত্যেন। সেই সময় ঘনিষ্ঠও ছিল। যদিও বিশ বছর আগে আমার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যায়। এই ঘটনা আমার কাছে বেদনার।  আমি প্রশাসনকে নিরপেক্ষ তদন্ত করে দুষ্কৃতিদের খুঁজে বার করুন।বহরমপুর শহরে বহুদিন পরে খুন খারাপি মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। এই ঘটনা কেন ঘটল তা সকলের জানা জরুরি।”  দুষ্কৃতিদের ছোড়া গুলির আঘাতে রবিবার দুপুরে মৃত্যু হয় তৃণমূল কর্মী সত্যেন চৌধুরীর। বহরমপুর পুরসভার চালতিয়া এলাকায় নিজ বাসভবনের অদূরে নির্মীয়মান একটি বহুতলে জনা কয়েক অনুগামীদের সঙ্গে বসেছিলেন প্রয়াত নেতা। সেখানেই দুপুর দুটো নাগাদ গুলিবিদ্ধ হন। পরে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয় সেখানেই চিকিৎসা চলাকালীন তাঁর মৃত্যু হয়। বহরমপুর ব্লক কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি সত্যেন ১৯৯৮ সালে প্রথম পঞ্চায়েত নির্বাচনে জিতে সংসদীয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন।

পাঁচ বছর পর ২০০৩ সালের পঞ্চায়েত ভোটে কংগ্রসের প্রতীকে জিতে বহরমপুর পঞ্চায়েত সমিতির বিরোধী দলনেতা হন। তারপরেই ঘটে ছন্দপতন। তাঁর বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ ওঠে। সাত বছর এলাকা ছাড়া ছিলেন সত্যেন। ২০০৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময় তিনি এলাকাতেই ছিলেন না তিনি। পরে বহরমপুরে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনে মুক্ত হন। সেই মামলার এখনও ফয়সালা হয়নি। খুনের দায়ে এলাকা ছাড়া হওয়ায় কংগ্রেস সাংসদ অধীর চৌধুরীর সঙ্গে তার সেই মনোমালিন্যের শুরু। জামিন পাওয়ার পর তিনি তৃণমূলে নাম লেখান প্রাক্তন সহকর্মী সুব্রত সাহার হাত ধরে।