ভোট কুড়োতে ব্যস্ত অধীর, জন্মদিন পালনে ব্যস্ত তৃণমূল নেতারা

বিদ্যুৎ মৈত্র, বহরমপুরঃ লোকসভা নির্বাচনের ঢাকে এখনও কাঠি পরে নি। কিন্তু আবহাওয়ায় ভোটের আমেজ। রাজনৈতিক দলগুলো সেই আমেজে মরিয়া জনসংযোগে। সেখানে কেউ সতর্ক, কেউ আত্মবিশ্বাসী। তবে ছোট হোক আর বড় যে কোনও নির্বাচনেই বাকি বিশ্বের যেন নজর থাকে মুর্শিদাবাদেই, এমনটাই মনে করেন রাজনীতির কারবারিরা।
ভোট মানচিত্রে সেই মুর্শিদাবাদ এখন ঘাসফুলের। একুশের বিধানসভা নির্বাচনে শূন্য হাতে ফিরলেও সাগরদিঘি উপনির্বাচনে জিতে রাজ্যে প্রাসঙ্গিক হয়েছিল কংগ্রেস। যদিও তা ছিল ক্ষণিকের। পঞ্চায়েত নির্বাচনের পর কোথাও এককভাবে, কোথাও সিপিএমের সঙ্গে জোট করে একাধিক গ্রাম পঞ্চায়েত দখল করেছে কংগ্রেস। কিন্তু জেলার আনাচে কানাচে ক্ষমতায় থাকা সেই সব পঞ্চায়েতের প্রধান উপপ্রধানরা “ মানুষের কাজ করার জন্য” হামেশাই জোড়া ফুলের শিবিরে নাম লেখাচ্ছেন। সেখানেও প্রভাব কমছে কংগ্রেসের।

এই অবস্থায় যত লোকসভা নির্বাচন এগিয়ে আসছে ততই চাপ বাড়ছে কংগ্রেসের। আরও স্পষ্টভাবে বললে, অধীর চৌধুরীর উপর। পাঁচবারের সাংসদ পোড় খাওয়া অধীর বিলক্ষণ জানেন, লড়াই এবার কঠিন।
উল্টো দিকে আত্মবিশ্বাসে ভরপুর তৃণমূল। নিন্দুকেরা বলেন, “তৃণমূলের এক নেতার প্রতিপক্ষ অন্য নেতা। আর তাতেই টান পরে ভোট বাক্সে। পরে তা ম্যানেজ করে দলে টানেন নেতারা।”

দুই মূল প্রতিদ্বন্দ্বীর অবস্থান যখন এইরকম, তখন লোকসভা নির্বাচনে জনমত পক্ষে টানতে কংগ্রেসের হয়ে লড়াই করছেন ‘একলা জগাই’ অধীর। আজ এই মুহূর্তে বহরমপুরে তো পরক্ষণেই সুজাপুরে জনসভা করছেন বহরমপুরের সাংসদ। এখনই সালারে তো পরক্ষণেই মণীন্দ্রনগর পঞ্চায়েতে দাঁড়িয়ে লোকসভার বিরোধী দলনেতা। তাঁর হাতিয়ার বলতে দুটি। তিনি পিএসি কমিটির চেয়ারম্যান। লোকসভায় বিরোধী দলনেতা হওয়ার সুবাদে যখন তখন কেন্দ্রের মন্ত্রীদের কাছ থেকে জবাব চাওয়া তাঁর দ্বিতীয় ক্ষমতা। দীর্ঘদিন কংগ্রেস কেন্দ্রে ক্ষমতা থাকায় বিভিন্ন দপ্তর সম্পর্কে তাঁর অভিজ্ঞতা তাঁর উপরি পাওনা। তাই চেনা জমিতে এবার ফল ধরে রাখতে সেই হাতিয়ারেই ভরসা খুঁজেছেন প্রাক্তন রেলপ্রতিমন্ত্রী। জেলার তিনটি আসনের মধ্যে জঙ্গিপুর বা মুর্শিদাবাদ না হলেও বহরমপুর আসন ধরে রাখা তাঁর কাছে কার্যত চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অন্যদিকে তৃণমূলের নেতারা ধরেই নিয়েছেন, তাঁদের জয় একপ্রকার সময়ের অপেক্ষা। দলেরই একাংশের উচ্ছাসিত দাবি, দাদা অভিষেকের জন্মদিন পালন হয়েছে, দিদির জন্মদিন পালন হবে সেই ফাঁকে আমাদের নেতারা নিজেদের অনুগামীদের নিয়ে জন্মদিন সেরে রাখছেন।” তৃণমূলের আর এক অংশের দাবি, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখে ভোট দেন মানুষ। তাই আমাদের নেতাদের চাপ কম। তাদের তাই অধীরের মতো দৈনিক জনসংযোগের প্রয়োজন নেই। তাই নেতারা নিজেদের জন্মদিনে মেতেছেন।” সূত্রের খবর, নবীন প্রবীণের কোন্দলে এখন তৃণমূল ভবনে পা রাখাই দায়। তারমধ্যেই ফাঁক বুঝে নিজেকে দলের কাছে লোকসভা নির্বাচনের মুখ করতে বড়, মেজ, সেজ নেতাদের কাছে নিজেকে প্রোমোট করতে পিছপা হচ্ছেন জেলার বিধায়ক থেকে চেয়ারম্যানদের একাংশ।

যা দেখে রাজনৈতিক বিশ্নেষকরা বলছেন মানুষের মত পদ্ম পাতায় জলের মতো, অবস্থান বদলাতে সময় নেয় না।