Adhir Chowdhury: এমপি ল্যাডের টাকা খরচ করতে পারি না ! অধীরের দাবিতে পাল্টা তৃণমূলের

Adhir Chowdhury লোকসভা ভোটের মুখে অধীর রঞ্জন  চৌধুরীর সাংসদ তহবিল খরচ নিয়ে শুরু হয়েছে তরজা । অধীরের অভিযোগ, শাসক দলের নির্দেশে এমপি ল্যাডের (MP LAD)  টাকা খরচে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছেন জেলা শাসক। তৃণমূলের অভিযোগ, অধীর চৌধুরী যে প্রকল্প দিয়েছেন তা বাস্তব সম্মত নয়। পরিবেশ বান্ধবও নয়। তাই মিলছে না অনুমোদন। শুরু হয়েছে  রাজনৈতিক তরজা।

শনিবার বহরমপুরের সাংসদ (Berhampore MP) , প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী ( Adhir Chowdhury)  দাবি করেছেন, তৃণমূলের নির্দেশে অসহযোগিতা করছে প্রশাসন। খরচ করতে পারছেন না এমপি ল্যাডের টাকা। অধীরের দাবি, সরকারি টাকা খরচের দেখভালের জন্য আছে দিশা কমিটি। তবে হয় নি সেই কমিটির সভাও।

অধীর বলেছেন,  “ আমি বছরের পর বছর সাংসদ তহবিলের টাকা খরচ করতে পারি না । শুনলে অবাক হবেন প্রত্যেকটা জেলায় সরকারি টাকা কীভাবে খরচ হয় কেন্দ্র অথবা রাজ্য সেটাকে দেখভাল করার জন্য দিশা কমিটি বলে একটা কমিটি আছে। আমি ১২ বছর ধরে সেই কমিটির চেয়ারম্যান, আজ পর্যন্ত কোন মিটিং ডাকা হয়নি তাঁর একটাই কারণ অধীর চৌধুরী চেয়ারম্যান”।

যদিও তৃণমূল পরিচালিত কান্দি পৌরসভার চেয়ারম্যান জয়দেব ঘটকের দাবি, সাংসদ তহবিলের টাকায় কাজ করেন নি সাংসদ।

বহরমপুরে পৌরসভার চেয়ারম্যান নাড়ুগোপাল মুখার্জিও (Narugopal Mukherjee)   ওড়াচ্ছেন অভিযোগ।অধীরের দাবি,   প্রকল্পে নানা ফন্দিফিকির করে তৃণমূলের নির্দেশে আমার উন্নয়নের কাজ আটকে দেওয়া হচ্ছে। পাল্ট  নাম কিনতে  অবাস্তব প্রকল্প তৈরি করছেন অধীর।

 

লোকসভা ভোটের আগে একাধিক জল প্রকল্প উদ্বোধন করতে দেখা গিয়েছে বহরমপুরের সাংসদকে।  তবে  অধীরের দাবি, আটকে দেওয়া হচ্ছে একাধিক  জল প্রকল্পের কাজ। খরচ করা যাচ্ছে না,  সাংসদ তহবিলের কোটিকোটি টাকা। এদিন অধীর চৌধুরী বলেছেন, “ এখানে আমার ৩০ থেকে ৩৫টি প্রকল্প , বেশিরভাগ জলের প্রকল্প, সেই জলের প্রকল্প গুলোকে বাহানা করে আটকে দেওয়া হচ্ছে।  আমার কয়েক কোটি টাকা আটকে রাখা হয়েছে। তৃণমূলের নেতৃত্বে এবং নির্দেশে এই কাজ টা করা হচ্ছে। আমার সাংসদ তহবিলের টাকা খরচ করতে দেওয়া হচ্ছে না” ।

অধীরের স্পষ্ট অভিযোগ মুর্শিদাবাদের জেলা শাসকের বিরুদ্ধে। অধীর এদিন বলেছেন, “ আমি সাংসদ তহবিলের টাকা খরচ করতে দ্রুত গতিতে চেষ্টা করছি আর এখানকার জেলা শাসক তৃণমূলের মদতে সেই গতিতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে” ।

যদিও পাল্টা অধীর চৌধুরীর বিরুদ্ধে সরকারি প্রকল্পে দুর্নীতির , অনিয়মের অভিযোগ এনেছেন বহরমপুর পৌরসভার চেয়ারম্যান নাড়ুগোপাল মুখার্জি। নাড়ুগোপাল মুখার্জি বলেছেন, “ বেআইনি ভাবে  জল তোলার প্রকল্প জমা দিয়েছেন অধীর । সাবমার্সবল বসিয়েছেন। যেটা গ্রিন ট্রাইবুনাল ২০০৫ অ্যাক্ট কে লঙ্ঘন করে”।

অধীর যে কাজে বাধা দেওয়ার কথা বলেছেন সেই কাজ নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ এনেছেন নাড়ুগোপাল। নাড়ুগোপাল মুখার্জি বলেছেন,  “ তিনি ( অধীর চৌধুরী )  ওখানে চুরি করার জন্য ৭০ শতাংশ কমিশন খেয়ে সোলার লাইট ও জলের জন্য  ৮-১০ কোটি টাকার বাজেট অনুমোদন করেছিলেন।  রাজ্য সরকার কেন, পৃথিবীর কোন ইঞ্জিনিয়ার এটার অনুমোদন দেবে না। তার এই ভোটের আগে টাকা চুরি করার পদ্ধতিতে সঠিক নিয়মেই বাধার সৃষ্টি হয়েছে”।

অধীরকে আক্রমণ নাড়ুগোপাল মুখার্জির দাবি,  জনগণের টাকার সঠিক ব্যবহারের স্বার্থে ওই প্রকল্প  রাজ্য সরকার, কেন্দ্র সরকার অনুমোদন করে নি।