ডোমকলে টান টান ১২ ঘন্টা, সিবিআই র‍্যাডারে জাফিকুলও!

বিদ্যুৎ মৈত্র, বহরমপুরঃমুর্শিদাবাদের সীমান্ত মহকুমা ডোমকলকে ‘বোমকল’ হিসেবে দেগে দিয়েছেন নিন্দুকেরা। হালে বদনাম ঘুচিয়ে ফেলার চেষ্টাতেও কসুর করেননি এলাকাবাসী। প্রাণহানি ছাড়াই উতরেছে পঞ্চায়েত নির্বাচন।  কিন্তু সব চেষ্টায় জল ঢেলে দিল বৃহস্পতিবারের সকাল। ওই দিন সকালে ডোমকলের বিধায়ক জাফিকুল ইসলামের বাড়িতে নিয়োগ দুর্নীতি কান্ডের তদন্ত করতে আসেন সিবিআই আধিকারিকরা। যা নিয়ে সকাল থেকে সীমান্তবর্তী গ্রামের শুরু হয়েছে জল্পনা। তবে কি এবার জাফিকুলও!

রাজনীতির কুরুক্ষেত্র হলেও ১৯৬৭ সাল থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও জনপ্রতিনিধির বাড়িতে কেন্দ্র কেনো রাজ্য পুলিশও তদন্তে আসেনি দুর্নীতির অভিযোগে। ‘যা লজ্জার’ বলছেন রাজ্যের শাসক বিরোধী সব রাজনৈতিক দলই।

১৯৬৭ সালে নির্বাচনে জিতে ডোমকল বিধানসভায় প্রথমবার বিধায়ক হয়েছিলেন সিপিএমের আব্দুল বারি। বছর দুয়েক পরে ১৯৬৯ সালে ওই কেন্দ্রেই বিধায়ক হন কংগ্রেসের এক্রামুল হক বিশ্বাস। ১৯৭১ সালে ফের ডোমকলের বিধায়ক হন আব্দুল বারি। সেই উত্তাল একাত্তরেও দুর্নীতিতে নাম ওঠেনি এই এলাকার কোনও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের। পাঁচ বছর অন্তর পশ্চিমবঙ্গেই বিধানসভা নির্বাচন শুরু হয় ১৯৭২ সাল থেকে। সেবার ওই আসন কংগ্রেসের দখলে থাকলেও ১৯৭৭ সাল থেকে টানা কাঁটাতার ঘেরা এই বিধানসভায় শাসন চালিয়েছে সিপিএম। রাজ্যের পালাবদলের কালেও এই আসন ছিল বামেদের দখলে। ১৯৯১ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত এই কেন্দ্রে বিধায়ক ছিলেন আনিসুর রহমান। তিনি রাজ্য মন্ত্রী সভারও গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন। ২০২১ সালে শারিরীক অসুস্থতার কারণে তিনি আর নির্বাচনে লড়াই করতে চাননি। সিপিএম ওই আসনে তাঁর ‘ভাবশিষ্য’ মোস্তাফিজুর রহমানকে দাঁড় করায়। তারই বিপক্ষে তৃণমূলের প্রতীকে দাঁড়িয়েছিলেন ডোমকলের পুরপ্রধান জাফিকুল। প্রথমবার বিধায়ক হয়ে দুর্নীতি কান্ডে তাঁর নাম জড়ানোয় তাজ্জব ডোমকলবাসীও।

প্রাক্তন কংগ্রেস বিধায়ক এক্রামুল হক বিশ্বাসের ভাইপো রবিউল ইসলাম , মুর্শিদাবাদ জেলা কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক। এদিন তিনি বলেন, “ একজন জনপ্রতিনিধির বাড়িতে তদন্ত করতে কেন আসবে কেন্দ্রীয় এজেন্সি? কৈ এতগুলো বছরে তো এমন কান্ড ঘটেনি। আমাদের মাথা হেঁট হয়ে যাচ্ছে।” তবে তিনি বলেন, “যেদিন শুনেছিলাম বিধায়ক নিজের  ব্যক্তিগত অর্থে জন সাধারণের জন্য সেতু তৈরি করবেন বলে ঘোষণা করেছেন সেদিনই সন্দেহ দানা বেঁধেছিল।” সিপিএম জেলা সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “দুর্নীতিগ্রস্থদের নিয়ে তৃণমূল দল তৈরি হয়েছে। তারাই যে আজ জনপ্রতিনিধি হয়েছে, বিধায়কের বাড়িতে সিবিআই তল্লাশিই তার প্রমাণ। ডোমকলবাসী স্বপ্নেও যা ভাবতে পারেন না।” প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী বলছেন “এদের অতীত দেখলে বুঝতে পারবেন রকেট গতিতে অর্থ রোজগারের রহস্যটা কোথায়। সারা রাজ্যে তৃণমূলের নেতা হোক মন্ত্রী, জেলা পরিষদ, মিউনিসিপ্যালিটি, গ্রাম পঞ্চায়েতে সর্বত্র তাঁরা কিছু করুক আর না করুক লুঠ পরিকল্পিতভাবে করেছে।” তৃণমূলের বহরমপুর-মুর্শিদাবাদ সাংগঠনিক জেলার সভাপতি অপূর্ব সরকার বলেন, “জিপ কেলেঙ্কারি থেকে এখন পর্যন্ত কোন রাজনৈতিক দলের কোন নেতা জেলে গিয়েছেন দুর্নীতির দায়ে তা আর নতুন করে বলে লাভ কী? অমিত শাহের সুপার ফ্লপ সভা থেকে দৃষ্টি ঘোরাতে বিজেপি সিবিআইকে কাজে লাগাল।” রাজনীতির কারবারিরা যে যাই বলুক, বৃহস্পতিবার প্রায় বারো ঘন্টা ধরে খবরের শিরোনামে ছিল জুগিন্দার গোবিন্দপুর। যখন আঁধার নেমেছে গ্রামে সেই সময় প্রায় বিনা বাক্যেই ডোমকল ছেড়ে যান কেন্দ্রের দুঁদে গোয়েন্দারা। ফেরেন নি জাফিকুলও। তবে কি তাঁকে নোটিশ পাঠানো হবে? প্রশ্নটা ঘুরছে সীমান্তে।