সালারে বোমাবাজি। “ধানি পটকা”,বললেন হুমায়ুন। গোষ্ঠীকোন্দলের অভিযোগ

রবীন্দ্রনাথ কৈবর্ত্ত, কান্দিঃ  তৃণমূলের গোষ্ঠীকোন্দলে ফের  উত্তপ্ত মুর্শিদাবাদের  সালার। সোমবার বিকেলে সালার থানার খারেরা গ্রামে চলে বোমাবাজি। ধোঁয়ায় ঢাকে এলাকা। বোমাবাজি চলে সন্ধে পর্যন্ত।  তৃণমূল কংগ্রেস  সূত্রে খবর, ভরতপুরের তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবির অনুগামীদের সঙ্গে ব্লক তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমানের অনুগামীদের বিবাদ দীর্ঘদিনের। সেই বিবাদের জেরেই দুই নেতার অনুগামীদের মধ্যে সোমবার শুরু হয় বচসা । সেই বচসা থেকেই প্রথমে হাতাহাতি তারপরে বোমাবাজির ঘটনা ঘটে। বোমাবাজিতে আতঙ্ক ছড়ায় গ্রামে। সোমবার  বোমাবাজি হয় ব্লক তৃণমূল কিষাণ খেতমজুর ইউনিয়নের সভাপতি জুল হাসানের বাড়ির সামনে। বাড়িতে ছোঁড়া হয় ইট। জুল হাসানের স্ত্রী নুরজাহান খাতুন ভরতপুর দুই পঞ্চায়েত সমিতির বিদ্যুৎ কর্মাধ্যক্ষ । দুজনেরই অভিযোগ, দলেরই সালু গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান মোস্তাক আলির বিরুদ্ধে।  যদিও গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান প্রধান মোস্তাক আলির দাবি, তিনি এই ঘটনার সাথে যুক্ত নন। এলাকার উন্নয়ন নিয়েই ভাবেন তিনি।

ভরতপুর ২  ব্লক তৃণমূল কিষাণ খেতমজুর সভাপতি  জুল হাসানের দাবি, ” কংগ্রেস সিপিএমের নেতৃত্বে বোমাবজি হয়েছে। গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ওদের মদত দিচ্ছে। ভোটের আগে এলাকায় ক্ষমতা দেখা চাইছেন প্রধান। তাই দুষ্কৃতীদের দিয়ে ভয় দেখানোর চেষ্টা হচ্ছে”। একই দাবি ভরতপুর দুই পঞ্চায়েত সমিতির বিদ্যুৎ কর্মাধ্যক্ষ নুরজাহান খাতুনও। তৃণমূল ব্লক সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমানের ঘনিষ্ট বলেই পরিচিত সালু গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান। যদিও ব্লক তৃণমূল সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমানের   দাবি, গ্রাম্য বিবাদের জেরেই এই ঘটনা। তবে বোমাবাজির কথা স্বীকার করে নিয়েছেন তিনিও।

বিধায়ক হুমায়ুন কবির যদিও স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে উড়িয়ে দিয়েছেন বোমাবাজির প্রসঙ্গ। তবে দলে দ্বন্দ্বের কথা মেনে নিয়েছেন বিধায়ক । বিধায়ক হুমায়ন কবিরের কথায়, “বোমাবাজি হয়েছে বলে আমার কাছে খবর নেই। পটকা ফুটেছে । কেউ  ধানি পটকা ফুটিয়েছে “। বিধায়কের দাবি, ধানিপটকা ফাটিয়ে কেউ কাউকে চমকানোর চেষ্টা করেছে।  তবে দলে দ্বন্দ্ব মেনেও নিয়েছেন বিধায়ক। তিনি বলেন, ” ভাইয়ে ভাইয়েও ঝগড়া হয়। প্রধান ও কর্মাধ্যক্ষের মধ্যে যদি ছোটখাটো ঝগড়া থাকে তাহলে আমি ( হুমায়ুন কবির), মোস্তাফিজুর রহমান আর আনির একসাথে দাঁড়িয়ে কাজ করলে  কেউ ধারেকাছে আসবে না”।   বোমাবাজির ঘটনায় আনির সেখ, রিটন সেখ ও মিঠুন সেখকে  গ্রেফতার করেছে সালার  থানার পুলিশ।   আনির সেখকে জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।  মিঠুন সেখ ও  রিটন সেখের তিন দিনের জেলা হেফাজতের নির্দেশ দেয় আদালত।বোমাবাজির ঘটনায় তৃণমূলের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে বিরোধীরাও। শাখারভ সরকারের কটাক্ষ,  পঞ্চায়েতের আগে বোমাবাজির নেট প্র্যাকটিস শুরু করেছে তৃণমূল। তার অংশ হিসেবে তৃণমূলের গোষ্ঠীকোন্দলে সেই বোমা কাজে লাগছে। কংগ্রেস মুখপাত্র জয়ন্ত দাসের টিপ্পনী, পঞ্চায়েতের  আগে করে খাওয়ার সুযোগ কেউ হাতছাড়া করতে চাইছে না। তাই তৃণমূল নিজেদের মধ্যে মারপিট করছে।