শুরু হল টেট -এর ফর্মফিলাম, ভিড় জমেছে সাইবার ক্যাফেতে

দেবনীল সরকার :  ১৪ ই অক্টোবর শুরু হয়েছে রাজ্যজুড়ে টেট পরীক্ষার ফর্ম ফিলাপ। গত ৬ মাসেরও বেশি সময় ধরে টেট ও এস.এস.সি পরীক্ষায় দুর্নীতি নিয়ে উত্তাল রাজ্যের রাজনৈতিক মহল। একের পর এক প্রকাশ্যে এসেছে পরীক্ষা ক্ষেত্রে দুর্নীতির খবর। তদন্ত চালিয়ে চলেছে কেন্দ্রীয় সংস্থা। তবে এরই মাঝে আবার শুরু হয়েছে টেট পরীক্ষার ফর্ম ফিলাপ। তা নিয়ে আশাবাদী পরীক্ষার্থীরা ভিড় জমিয়েছেন শহরের সাইবার ক্যাফে ও বইএর দোকানগুলিতে। জোর কদমে শুরু হয়েছে পরীক্ষার প্রস্তুতি।

টেট বা টিচার এলিজিবিলিটি টেস্ট, এই পরীক্ষার মাধ্যমে প্রাথমিক ও উচ্চ প্রাথমিক স্তরে শিক্ষক নিয়োগ করা হয়। পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ এই পরীক্ষা আয়োজন করে থাকে। ৫ টি বিষয়ে সর্বমোট ১৫০ নম্বরের এই পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে রাজ্যের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলিতে শিক্ষক নিয়োগ করা হয়।

টেট পরীক্ষার জন্য ডি.এল.এড বা বি.এড যেকোনো একটি কোর্সে অন্তর্ভুক্ত হতে হয়। আসন্ন টেট পরীক্ষার আগে বহরমপুরের ইউনিয়ান খ্রিশ্চিয়ান টিচার ট্রেনিং কলেজের প্রিন্সিপাল ডঃ সসীম কবিরাজ ঠাকুর এই প্রসঙ্গে বলেন, “বি.এড ও ডি.এল.এড পাশ করা ছাত্রছাত্রীরা তো বটেই। যারা উক্ত কোর্স গুলির ফাইনাল সেমেস্টারের পরীক্ষার্থী, তাঁরা শেষ সেমেস্টারের রেজাল্ট দেখিয়ে এবং যারা এই বছরই কোর্সে ভর্তি হয়েছে তাঁরাও ভর্তির রসিদ দিয়ে এই বছরের টেট পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করতে পারবে। টেট পাশ করলে, শিক্ষকতা পদের জন্য দরখাস্ত করতে গেলে প্রার্থীকে বি.এড বা ডি.এল.এড (যেকোনও একটি কোর্স) পাশের সার্টিফিকেট থাকতেই হবে।”

সসীমবাবু পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “ ৫টা বিষয়ের ওপর পরীক্ষা হয়। সেই পরীক্ষায় পাশ করার পর দেওয়া হয় লাইফ সার্টিফিকেট। যখনই শিক্ষকতা পদের জন্য বিজ্ঞাপণ বেরবে, তখন এই সার্টিফিকেট গ্রাহ্য করা হবে। বাংলা, ইংরাজি, অঙ্ক, সোশ্যাল সাইন্স, চাইল্ড ডেভলপমেন্ট ও পেডাগগি এই ৫ টি বিষয়ের ৩০ নম্বর করে সর্বমোট ১৫০ নম্বরের পরীক্ষা দিতে হবে।”

বি.এড বা ডি.এল.এড কোর্সে যারা নতুন ভর্তি হয়েছেন তাঁদের উদ্দেশ্যে প্রিন্সিপাল বলেন, “ সুপ্রিম কোর্টের রায় অনুযায়ী, যারা এই বছর কোর্সে দাখিল হয়েছেন তারাও এই পরীক্ষার জন্য যোগ্য। পরীক্ষার ফর্ম ফিলাপের সময় তাঁদের ইনস্টিটিউশনে ভর্তির রসিদ, রেজিস্ট্রেশন সাবমিট করে তাঁরাও আসন্ন টেট পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে। এই নিয়ে পরীক্ষার্থীদের কোন সমস্যা হবে না। তবে সিলেবাস অনুযায়ী পড়াশোনা করে নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দেওয়া প্রার্থীর নিজস্ব ব্যাপার। পরীক্ষার জন্য প্রত্যেককেই যথাযথ প্রস্তুতি নিতে হবে, পড়াশোনা না করলে এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া যাবে না।”

বি.এড কলেজের ছাত্র সুকান্ত মণ্ডল বলেন, “ শুনে ভাল লাগছে, আবার টেট হচ্ছে। বিশেষ করে আমরা যারা এবার ভর্তি হয়েছি তাঁদের কথা মাথায় রেখেছে পর্ষদ। বেকার থেকে চাকরি করব আশা নিয়ে ফর্ম ফিলাপ করেছি। এবার দেখা যাক কী হয়!” কোর্স কমপ্লিট না করেও ভর্তির রসিদ নিয়ে যে পরীক্ষার ফর্ম ফিলাপ করতে পারছেন, এই সুযোগ দেবার জন্য সরকারকে ধন্যবাদ জানান এই ছাত্র।

প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ তরফে জানানো হয়েছে প্রায় ১১০০০ শূন্য পদে শিক্ষক নিয়োগ করা হবে। আসন্ন ডিসেম্বরের ১১ তারিখ টেট পরীক্ষার সম্ভাব্য দিন ঘোষণা করা হয়েছে। এই বছরের টেট নিয়ে আশাবাদী জেলার পরীক্ষার্থীরা। বই-এর দোকানে টেট-এর প্রস্তুতির বই কিনতে এসেছেন সঞ্চিতা মিত্র। তিনি বলেন, “ প্রস্তুতি নিচ্ছে সবাই নিজের মতো করে, আশা করি পড়াশোনার জোড়ে চাকরি পাব, টাকা দিতে হবে না”। আরও একজন পরীক্ষার্থী বুল্টি পাল বলেন, “ চাইব পরীক্ষা ও নিয়োগ প্রক্রিয়া ফেয়ার ভাবে হোক। টাকার অভাবে কেউ চাকরি পাচ্ছে না এমন যেন না হয়। মেধা যেন পশ্চিমবাংলায় গড়াগড়ি না খায়, মেধা যেন ঠিক জায়গায় স্থান পায়।