‘শসা’ বদলে দিতে পারে আপনার লাইফস্টাইল ! পরখ করে দেখুনইনা

              ইমাজিন লাইফস্টাইল বুরো প্রতিবেদন :  বছর ধরে পাওয়া যায় এবং সাথে হাজারো গুনে ভরা তরতাজা  শসা।  শসা সব ঋতুতে সব এলাকায় সহজে পাওয়া যায়। সারাবছরই বাজারে শসার দেখা মেলে।খাবারের সাথে অনুষঙ্গ হিসেবে শসার কদর বেশি হলেও পুষ্টিগুণের দিক দিয়ে শসা অনেকটাই এগিয়ে । শসার রয়েছে অনেক গুণ। রূপচর্চা ও মেদ নিয়ন্ত্রণ সবেতেই উল্লেখ্য ভুমিকা শসার। শসাতে জল আছে শতকরা ৯৫ ভাগ। ফলে এটি শরীরের আর্দ্রতা ধরে রাখতে পারে এবং  ভেতরের তাপমাত্রা কে নিয়ন্ত্রণ করে দেহ শীতল রাখতে সহায়তা করে। শসায় থাকা উপাদান শরীরকে যেমন নানা রোগ থেকে সামলে রাখে তেমনি রোগের প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করে। আসুন জেনে নেয়া যাক চিরচেনা শসার অসাধারণ পুষ্টিগুণ সম্পর্কে।

 ১)শসাতে রয়েছে কার্বোহাইড্রেট, উদ্ভিজ্জ প্রোটিনভিটামিন এ, সি, , কে, সোডিয়াম, পটাসিয়াম, ক্যালসিয়াম, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, জিংক সহ অনেক পুষ্টি উপাদান। এসব উপাদান শরীরকে নানা রোগ থেকে দূরে রাখে। ২) শসায় উচ্চমাত্রায় জল ও নিম্নমাত্রার ক্যালরি রয়েছে। ফলে যাঁরা দেহের ওজন কমাতে চান, তাঁদের জন্য শসা আদর্শ টনিক হিসেবে কাজ করে। ৩)এ ছাড়া কাঁচা শসা চিবিয়ে খেলে তা হজমে ভূমিকা রাখে। নিয়মিত শসা খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়।.৪)একটি শসা প্রায় ৯০ শতাংশ জল ধারণ করায় খুব দ্রুত আপনাকে সতেজ করে তুলতে পারে। দেহের দুর্বলতা কাটিয়ে তুলতে পারে  অনায়াসে।৫) প্রতিদিন আমাদের শরীরে যেসব ভিটামিনের প্রয়োজন, তার বেশির ভাগই শসার মধ্যে বিদ্যমান। ভিটামিন এ, বি ও সি আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও শক্তি বাড়ায়। সবুজ শাক ও গাজরের সঙ্গে শসা পিষে রস করে খেলে এই তিন ধরনের ভিটামিনের ঘাটতি পূরণ করা সম্ভাব।৬) শসা উচ্চ রক্তচাপ এবং নিন্ম রক্তচাপ দুটোকেই নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। এমনকি শসার পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতেও অনেক সাহায্য করে।৭) সৌন্দর্য চর্চার অংশ হিসেবে অনেকে শসা গোল করে কেটে চোখের পাতায় বসিয়ে রাখেন। এতে চোখের পাতায় জমে থাকা ময়লা যেমন অপসারিত হয়, তেমনি চোখের জ্যোতি বাড়াতেও কাজ করে।৮)রোদ্রে পোড়া দূর করতে বাইরে থেকে এসে প্রতিদিন শসার রস মুখ ধোয়ার পর লাগাতে পারেন।৯) সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর অনেকের মাথাব্যথা করার অভ্যাস আছে। শরীর অবসাদ ভাব আসে। শসায় প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি ও সুগার আছে। তাই ঘুমাতে যাওয়ার আগে কয়েক স্লাইস শসা খেয়ে নিলে সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর এ সমস্যা থাকে না ১০) শসায় প্রচুর পরিমাণে সিলিকা আছে। গাজরের রসের সঙ্গে শসার রস মিশিয়ে খেলে দেহের ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা কমে যায়। এতে গেঁটেবাতের ব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়া যায় ১১)ত্বকের স্বাস্থ্যের জন্যও শসা খুব ভলো কাজ করে। শসায় উচ্চমাত্রায় পটাশিয়াম ম্যাগনেশিয়াম ও সিলিকন আছে যা ত্বকের পরিচর্যায় বিশেষ ভূমিকা রাখে। ত্বক পরিস্কার রাখতে শসার স্লাইস, জুস ভীষণই ঊপকাড়ী১২)ডার্ক সার্কেল  কমাতে শসা বেশ কার্যকর। শসাতে থাকা এন্টি-অক্সিডেন্ট এবং সিলিকা চোখের কালশিটে কমিয়ে চোখের চারপাশের স্কিন ভালো রাখে। শসা স্লাইস করে কেটে অথবা তুলোর মধ্যে শসার স্লাইসটি লগিয়ে সেই তুলো কিংবা শসার স্লাইসটি চোখের উপর ২০ মিনিট রাখুন। এভাবে নিয়মিত ব্যবহার করতে থাকুন। নিয়মিত ব্যবহারে চোখের নীচের কালশিট কমবে। সুলভ ও সহজলভ্য এই সবজিটির ব্যবহার শুধু খাবার টেবিলে স্যালাডের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। স্বাস্থ্য রক্ষার পাশাপাশি শসা আমাদের ত্বক এবং চুলের জন্যও সমানভাবে উপকারী।  ডায়েট চার্টে শসা প্রধানতম উপাদান। এ ছাড়া বিশ্বব্যাপী  শসা অন্যতম প্রধান উপাদান হিসাবে বিবেচিত।