মানুষের সেবায় নিয়োজিত পূর্ব বর্ধমানের স্বামী দেবানন্দ মিশন

মধ্যবঙ্গ ওয়েব ডেস্কঃ  “মানুষ বড় কাঁদছে, তুমি মানুষ হয়ে পাশে দাঁড়াও”, লিখে গিয়েছেন কবি। তবে নেহাত কথার কথা নয়। মানুষের সাথে এসে মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছে পূর্ব বর্ধমানের স্বামী দেবানন্দ আশ্রম ।

দীর্ঘদিন যাবত নানা জনকল্যাণ মূলক কাজে নিয়োজত আছে পূর্ব বর্ধমানের স্বামী দেবানন্দ আশ্রম । এই আশ্রমের প্রাণপুরুষ স্বামী দেবানন্দ মহারাজ। এলাকার মানুষের মঙ্গলার্থে সবসময় পাশে থাকে এই আশ্রম । এই আশ্রমের অন্যতম উল্লেখযোগ্য কাজগুলোর নামও বেশ। এখানে প্রকল্পের নামঃ ‘সাথে আছি’ , ‘পাশে আছি’।

‘সাথে আছি’ ভরসা জোগায় সহায় সম্বলহীন প্রবীণ, প্রবীণাদের। দরিদ্র, সহায় সম্বলহীন মানুষের কাছে প্রতিদিন পৌঁছে দেয় রান্না করা খাবার। এদের অনেকের দেখভাল করার কেউ নেই। থাকলেও দুবেলা দুমঠো অন্নসংস্থানের নেই কোন ব্যবস্থা। তাই সাথে এসে দাঁড়িয়েছে স্বামী দেবানন্দ আশ্রম ।
এই আশ্রমেই আছে সুন্দর একটি বৃদ্ধাশ্রম । এখানে রয়েছে বাবা ও মায়েদের জন্য পৃথক থাকার ব্যবস্থা। প্রবীণ, প্রবীণাদের আগলে রাখে এই আশ্রম। এটা যেন তাদের প্রাণের ঠিকানা। শুধু থাকা, খাওয়ার সুবিধা নয়, সাথে রয়েছে চিকিৎসা সংক্রান্ত সুযোগ সুবিধাও। বার্ধক্যকালে পিতা মাতাদের সাথে থাকতেই আশ্রমের এই উদ্যোগ।
এছাড়াও দুঃস্থ মানুষের সেবায় এই আশ্রম থেকেই বিনামূল্যে চক্ষু পরীক্ষা, লেন্স প্রতিস্থাপন ইত্যাদি সুবিধা প্রদান করা হয়ে থাকে।

পূর্ব বর্ধমান নিবেদিতাপল্লীর এই আশ্রমের আর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হল ‘পাশে আছি ‘। এই প্রকল্পের মাধ্যমেও আর্থিকভাবে পিছিয়ে পরা মানুষের পাশে থাকে আশ্রম। শিক্ষা ক্ষেত্রে যাতে আর্থিক ভাবে দুর্বল শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে না পরে তার খেয়াল রাখে আশ্রম।

উল্লেখ্য, বর্ধমানের সদরঘাটের কাছে চাষীমানা বনপুর গ্রামের শিক্ষার্থী প্রিয়াঙ্কা আদক, যে এই বছর উচ্চমাধ্যমিকে অষ্টম স্থান অধিকার করেছেন । আর্থিকভাবে পিছিয়ে পরা এই মেধাবী শিক্ষার্থীকে উচ্চশিক্ষার্থে প্রতি মাসে স্কলারশিপ দেয় এই প্রতিষ্ঠান । আরো বহু অভাবী মেধাবী ছাত্রছাত্রী আশ্রম থেকে প্রতিমাসে স্কলারশিপ পাচ্ছে। এভাবেই এলাকা তথা জেলার মানুষের পাশে আছে পূর্ব বর্ধমানের নিবেদিতাপল্লীর স্বামী দেবানন্দ আশ্রম। লক্ষ্য একটাই, মানব সেবায় নিয়োজিত থাকা।
মিশন চায়, সহমর্মিতার বার্তা ছড়িয়ে পড়ুক সমাজে। সেবায় এগিয়ে আসুন সব মানুষ। ছড়িয়ে দিতে চায়, মানবসেবার বার্তা।
আমাদের সমাজের চারপাশে অনেকেরই আর্থিক ক্ষমতা রয়েছে , আশ্রম চাই তারা সকলে এগিয়ে আসুন। খোঁজ রাখুন আশে পাশের মানুষের। সকলের তরে সকলে আমরা প্রত্যেকে আমরা পরের তরে: এই বোধ মানুষের মধ্যে জাগিয়ে তোলার কাজে ব্রতী পূর্ব বর্ধমানের স্বামী দেবানন্দ আশ্রম ।